advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

৩ জনের ফাঁসির আদেশ ২৫ জনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা,কিশোরগঞ্জ,নাটোর ও ফরিদপুর প্রতিনিধি
২০ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২০ জুন ২০১৯ ০৯:৩৮
advertisement

ঢাকা, কিশোরগঞ্জ, নাটোর ও ফরিদপুরে গতকাল পৃথক তিনটি হত্যা মামলার রায়ে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড ও ২৫ জনের যাবজ্জীন কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের এরশাদুল ইসলাম ওরফে চয়ন হত্যা মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিন নারীসহ সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, একই সঙ্গে সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে ৫ লাখ করে টাকা জরিমানা করেন কিশোরগঞ্জের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবদুর রহিম।

এ ছাড়া মামলা চলাকালে এক আসামির মৃত্যু হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়। মাদারীপুরের সরকারি নাজিম উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র অহিদুজ্জামান (২৮) হত্যা মামলায় চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ৩-এর বিচারক মনির কামাল।

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় দুই ব্যক্তিকে হত্যার দায়ে ১৩ জনকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার করে টাকা জরিমানার রায় দেন ফরিদপুরের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মতিয়ার রহমান। নাটোরেরর বাগাতিপাড়ায় স্ত্রী হত্যার মামলায় স্বামী মারুফ হাসানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মকবুল আহসান এই রায়।

কিশোরগঞ্জে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন-আবদুল আউয়াল, আল আমিন ও সুফল মিয়া। তাদের মধ্যে আল আমিন ছাড়া বাকিরা পলাতক আছেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন-আবদুল করিম, সাফিয়া খাতুন, আবদুল কাদির, সোহেল মিয়া, রিপা আক্তার, জহুরা খাতুন ও আব্দুর রউফ ফকির। ২০০৫ সালের ২ ডিসেম্বর পারিবারিক বিরোধে এরশাদুলকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন আসামিরা। তিনি হোসেনপুর উপজেলার টানসিদলা গ্রামের জহিরুল ইসলামের একমাত্র ছেলে।

মাদারীপুরের সরকারি নাজিম উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র অহিদুজ্জামান (২৮) হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন-লেনিন ব্যাপারী, শাহাবুদ্দিন দর্জি, ফয়সাল আহমেদ ও রেজাউল ব্যাপারী। তাদের মধ্যে রেজাউল পলাতক। ২০১৩ সালের ৮ মার্চ মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার কাশিমপুর চরদিঘলিয়ার শাহপাড়া এলাকার ভুট্টাক্ষেতে অহিদুজ্জামানের লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় সিঙ্গাইর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুস সালাম বাদী হয়ে সিঙ্গাইর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ২২ নভেম্বর পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। অহিদুজ্জামান ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে সরকারি নাজিম উদ্দিন কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগ প্যানেল থেকে কমনরুম সেক্রেটারি পদে বিজয়ী হন। তিনি ঘনিষ্ঠ বন্ধু মহিউদ্দিন, লেলিন, শাহাবুদ্দিন, ফয়সালের সঙ্গে চলাফেরা করতেন। লেলিনের চাচা রেজাউল অহিদুজ্জামানের বন্ধু মহিউদ্দিনকে ইতালি নিয়ে চাকরি দেন। পরে অহিদুজ্জামান নিজে ইতালি যাওয়ার জন্য মহিউদ্দিন ও রেজাউলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। মহিউদ্দিনের কথামতো রেজাউলকে ১০ লাখ টাকা দেন অহিদুজ্জামান।

কিন্তু অহিদুজ্জামানকে ইতালি নিতে না পারায় রেজাউল তাকে টাকা ফেরত দেবেন বলে জানান। এ সময় অহিদুজ্জামানের পরিবার এলাকার একটি মেয়ের সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক করে। ওই মেয়েকে ভালোবাসতেন রেজাউল। প্রেমিকাকে না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে রেজাউল বিদেশে বসে অহিদুজ্জামানকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী অহিদুজ্জামানকে মহিউদ্দিন নিয়ে যান সিঙ্গাইরের কাশিমপুর এলাকার শাহ ব্যাপারী নামে এক লোকের ভুট্টাক্ষেতে। সেখানে লেলিন, শাহাবুদ্দিনসহ অন্যরা শ্বাসরোধে অহিদুজ্জামানকে হত্যা করেন।

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় নটখোলা গ্রামের গঞ্জর খাঁ ও মুশা মোল্লাকে ২০০৩ সালে হত্যা করা হয়। ওই মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন উপজেলার নটখোলা গ্রামের মান্নান খাঁ, সুরমান খাঁ, মাজেদ খাঁ, ওয়াজেদ খাঁ, রাশেদ খাঁ, সিদ্দিক ফকির, সোহরব ফকির, আফসার ফকির, ফজলু ফকির, রহমান খাঁ, রেজাউল খাঁ, জিকির খাঁ ও ওসমান ফকির।

এদিকে পারিবারিক কলহের জের ধরে ২০১৬ সালের ৮ জুন নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার রামাগাড়ি এলাকার ইমাদুল হকের মেয়ে ইসমতআরা ইমাকে তার স্বামী বাগাতিপাড়া উপজেলার চন্দ্রখৈইর এলাকার বজলুর রহমানের ছেলের মারুফ হাসান শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এ ঘটনায় নিহতের পিতা ইমাদুল হক বাগাতিপাড়া থানায় মামলা করেন।

advertisement