advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন
বিক্ষোভের পঞ্চম দিনেও সাড়া নেই প্রশাসনের

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
২০ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২০ জুন ২০১৯ ০৯:৩৯
advertisement

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পঞ্চম দিনেও প্রশাসনের সাড়া মেলেনি। গতকাল বুধবারও শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে প্রশাসনিক ভবনে তালা ও রাস্তা অবরোধ করে ১৬ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

ক্যাম্পাসে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে নিজের কার্যালয়ে যাননি উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম।

বিভিন্ন অনুষদের ডিনরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও সংকটের সমাধান দিতে পারেননি। গতকাল বেলা ১১টার দিকে বুয়েটের শহীদ মিনারের পাদদেশে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা পলাশী-বকশীবাজার রাস্তা অবরোধ করেন এবং প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে দেন। আজ বৃহস্পতিবার ফের বিক্ষোভ করার ঘোষণা দেন তারা।

আন্দোলনের মুখপাত্র যন্ত্রকৌশল বিভাগের ১৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী হাসান সরোয়ার সৈকত বলেন, আমরা পাঁচদিন ধরে আন্দোলন চালালেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া দেওয়া হয়নি। এ কারণে আমরা বাধ্য হয়েই প্রশাসন ভবনে তালা লাগিয়ে দিয়েছি। বিভিন্ন সময়েও আমরা এসব দাবিতে আন্দোলন করেছি, আমাদের শুধু আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এবার বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের ১৬ দফা দাবি হলো বুয়েট গেটের জন্য সিভিল-আর্কিটেকচার ডিপার্টমেন্টের বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের নিয়ে কমিটি গঠন ও ডিজাইনের জন্য ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আয়োজন করার অফিসিয়াল নোটিশ প্রদান; বিতর্কিত নতুন ডিএসডাব্লিউ (ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক) অপসারণ করে ছাত্রবান্ধব ডিএসডাব্লিউ নিয়োগ; ছাত্রী হলের নাম ‘সাবেকুন নাহার সনি হল’ রাখা; শিক্ষার্থীদের ১০৮ ক্রেডিট অর্জনের পর ডাবল সাপ্লিমেন্ট পুনর্বহাল; বিভিন্ন আবাসিক হলের অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন; ‘সিয়াম-সাইফ’ নামে সুইমিংপুল কমপ্লেক্স স্থাপনে ভিসির স্বাক্ষরসহ নোটিশ; নির্মাণাধীন টিএসসি ভবন ও ন্যাম ভবনের কাজ শুরু করা; নিয়মিত শিক্ষক মূল্যায়ন প্রোগ্রাম চালু; বুয়েটের যাবতীয় লেনদেনে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু; নির্বিচারে ক্যাম্পাসের গাছ কাটা বন্ধ ও যত গাছ কাটা হয়েছে তার দ্বিগুণ গাছ উপাচার্যের উপস্থিতিতে লাগানো; গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি; প্রাতিষ্ঠানিক মেইল আইডি প্রদান; ওয়াইফাই আধুনিকায়ন; ব্যায়ামাগার আধুনিকায়ন; বুয়েট মাঠের উন্নয়ন ও পরীক্ষার খাতায় রোলের পরিবর্তে কোড সিস্টেম চালু।

দ্রুত পদক্ষেপের দাবি শিক্ষক সমিতির শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ কর্মসূচির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা বিরাজ করছে উল্লেখ করে ক্যাম্পাসে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

গতকাল সমিতির সভাপতি অধ্যাপক একেএম মাসুদ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. মোস্তফা আলী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হওয়ায় শিক্ষক সমিতি গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

advertisement