advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সংসদে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যবীমা চালুর পরিকল্পনা আছে

২০ জুন ২০১৯ ০০:৩২
আপডেট: ২০ জুন ২০১৯ ০৮:৫৬
advertisement

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের স্বাস্থ্যবীমা চালু করার পরিকল্পনা আছে। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আমরা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য টাঙ্গাইল জেলায় মধুপুর, ঘাটাইল ও কালিহাতী উপজেলায় ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে স্বাস্থ্যবীমা কার্যক্রম চালু করেছি। জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নে গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর-পর্ব টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য সরকার হেলথ কেয়ার ফাইন্যান্সিং স্ট্র্যাটেজি ২০১২-২০১৩ প্রণয়ন করেছে। প্রণীত স্ট্র্যাটেজির অধীনে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে প্রাথমিকভাবে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি (এসএসকে) শীর্ষক পাইলট কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। এটি একটি পাইলট প্রকল্প। এসএসকে কর্মসূচির আওতায় টাঙ্গাইল জেলার ৩টি উপজেলা অর্থাৎ কালিহাতী, ঘাটাইল ও মধুপুর উপজেলায় দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী পরিবারের সদস্যদের ৭৮টি ভর্তিযোগ্য রোগের বিনামূল্যে আন্তঃরোগী সেবা দেওয়া হচ্ছে। ওই জেলার অবশিষ্ট ৯টি উপজেলায় পাইলটিং সম্প্রসারণ করার কার্যক্রম সম্প্রসারণ শুরু করা হয়। এসএসকে পাইলটিং সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসএসকের অধীনে ওই এলাকার দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী পরিবারের সদস্যদের বিনামূল্যে আন্তঃবিভাগে ভর্তিকৃত রোগী সেবা কার্যক্রম চলমান। অচিরেই সীমিত সংখ্যায় রোগীদের বহিঃবিভাগীয় সেবা দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পাইলট প্রকল্পের ধারাবাহিকতায় ‘হেলথ ইকোনমিকস’ ইউনিটের আওতায় পরিচালিত পরীক্ষামূলক স্বাস্থ্যবীমা কার্যক্রমের সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে সমগ্র দেশে স্বাস্থ্যবীমা চালু করার মাধ্যমে ওষুধ ও চিকিৎসা দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিলের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধকালীন বধ্যভূমি ও গণকবর চিহ্নিতকরণের লক্ষ্যে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থল সংরক্ষণ ও উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও পরবর্তী সময়ে পরলোকগত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ২০ হাজার সমাধিস্থল সংরক্ষণ করা হবে। ১৯৭১ সালে ৯ মাসব্যাপী স্বাধীনতাযুদ্ধে সারাদেশে ৩০ লাখ গণশহীদকে চিহ্নিত করা এখনো সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে এ লক্ষ্যে কার্যক্রম গ্রহণ করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

গণফোরামের মোকাব্বির খানের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী জানান, এখন (এপ্রিল ২০১৯) দেশে মোবাইল গ্রাহক ১৬ কোটি ৫ লাখ। ২০০৮ সালে ছিল সাড়ে ৪ কোটি। বর্তমানে ইন্টারনেট গ্রাহক ৬০ লাখ থেকে বেড়ে হয়েছে ৯ কোটি ৩৭ লাখ। বর্তমানে টেলিডেনসিটি ৯৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ ও ইন্টারনেট ডেনসিটি ৫৭ শতাংশ। ২০০৮ সালের ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ চার্জ প্রতি এমপিপিএস ২৭ হাজার থেকে কমে ২৮৫ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গত বছরের ১২ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১-এর নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরিত হয়েছে এবং গত ১৯ মে থেকে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতিসংঘের ই-গভর্নমেন্ট সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশ বিশ্বের অনেক দেশকে পেছনে ফেলে ২০১৮ সালে ১১৫তম অবস্থানে পৌঁছেছে।