advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ব্যর্থতায় জাতিসংঘ মহাসচিবের পদত্যাগ দাবি

আমাদের সময় ডেস্ক
২০ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২০ জুন ২০১৯ ০৯:২২
advertisement

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ব্যর্থতার দায় নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও মিয়ানমারে সংস্থাটির সাবেক আবাসিক সমন্বয়ক রেনেটা লক দেসালিনকে পদত্যাগের আহ্বান জানানো হয়েছে। গত মঙ্গলবার রোহিঙ্গাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশন (এফআরসি) এই আহ্বান জানিয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে তুরস্কভিত্তিক গণমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি।

এর আগে গত সোমবার এক অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রাখাইনে রোহিঙ্গা হত্যাযজ্ঞ ও বিতাড়ন ঠেকাতে জাতিসংঘ নিজেদের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে নেয়, যা বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন করে তুমুল আলোড়ন তৈরি করেছে। এফআরসির বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত মিয়ানমারে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ছিলেন দেসালিন। সে সময় রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটছিল তার বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়া জাতিসংঘের এক অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন গোপন করেছিলেন তিনি।

অথচ জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার নীতি-নৈতিকতার মারাত্মক লঙ্ঘনের পরও দেসালিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো মহাসচিব গুতেরেসের যথাযথ ভূমিকার অভাবে দোসালিনকে ভারতে জাতিসংঘের প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করে পুরস্কৃত করা হয়। এ বিষয়ে মিয়ানমারের নির্বাসিত মানবাধিকার কর্মী মং জার্নি বলেন, জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন প্রকাশের পর নৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক বা আইনগতভাবে জাতিসংঘের কোনো পদে আন্তোনিও গুতেরেস ও দেসালিনের থাকার অধিকার নেই। ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তাচৌকিতে হামলার পর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে রোহিঙ্গা গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনের মেতে ওঠে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

প্রাণ বাঁচাতে সাত লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। রাষ্ট্রহীন এই জনগোষ্ঠীর বিরাট অংশ এতে উদ্বাস্তু শরণার্থীতে পরিণত হলেও জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী রাখাইনে এখনো চার লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা রয়ে গেছে। তবে তারা এখনো সেখানে নানা ধরনের নিপীড়নের শিকার।

এদিকে আসিয়ানের পার্লামেন্টারিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস (এপিএইচআর), এশিয়া ফোরাম ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ফোরাম-এশিয়া) এবং প্রগ্রেসিভ ভয়েস গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছে, মিয়ানমার সরকারকে অবশ্যই রোহিঙ্গাদের মানবাধিকারের সুরক্ষা ও সম্মান নিশ্চিত করতে হবে।

ইউএনবির খবরে বলা হয়, সংস্থাগুলো জানিয়েছে কোনো রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ থেকে প্রত্যাবাসনের আগে রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হবে। আজ বৃহস্পতিবার থেকে আগামী ২৩ জুন পর্যন্ত থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ৩৪তম আসিয়ান সম্মেলনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর নেতাদের বৈঠকের প্রাক্কালে সংস্থাগুলো এ মত প্রকাশ করেছে।

এর আগে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে রাখাইন রাজ্যে প্রাথমিকভাবে কী প্রয়োজন তা নিয়ে আসিয়ানের এক কমিটির মূল্যায়ন প্রতিবেদন চলতি মাসের শুরুর দিকে ফাঁস হয়। এতে দেখা যায়, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংসতা এবং চলমান মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো তুলে ধরতে ব্যর্থ হয় প্রতিবেদনটি।

এ বিষয়ে ইন্দোনেশিয়ার এমপি ও এপিএইচআরের বোর্ড সদস্য ইভা সুন্দারি বলেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের নৃশংসতা নিয়ে আসিয়ানের চোখ বন্ধ করে থাকা উচিত নয়। তারা সবাই জানে যে, রাখাইনে মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ ও অন্যান্য জায়গায় থাকা রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরবে না।

প্রগ্রেসিভ ভয়েসের উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি কিন ওহমার বলেন, গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক জবাবদিহি নিশ্চিতে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এ চলমান দায়মুক্তি মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে আরও এ ধরনের নৃশংসতা চালাতে উৎসাহিত করবে। ফোরাম এশিয়ার নির্বাহী পরিচালক জন স্যামুয়েল বলেন, আসিয়ান এখন পর্যন্ত তাদের এক সদস্য রাষ্ট্রে (মিয়ানমার) হওয়া গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামনে লজ্জাজনকভাবে নীরব রয়েছে।

advertisement