advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

তামাক সেবনে বছরে মৃত্যু দেড় লাখের বেশি মানুষের

নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২০ জুন ২০১৯ ০৯:২৩
advertisement

বাংলাদেশে প্রতিবছর তামাক সেবনের কারণে ১২ লাখ মানুষ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হন। এর মধ্যে ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষ তামাকজনিত রোগে মারা যান। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলন এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পক্ষে এতে লিখিত বিবৃতি পাঠ করেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব (তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল) মো. খায়রুল আলম শেখ।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত সচিব বাবলু কুমার সাহা উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

খায়রুল আলম শেখ জানান, প্রতিবছর ৩১ মে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালন করা হয়। অনিবার্য কারণে এবার বৃহস্পতিবার (২০ জুন) দিবসটি পালন করা হবে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য-তামাকে হয় ফুসফুস ক্ষয়; সুস্বাস্থ্য কাম্য, তামাক নয়। দিনটি উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারিভাবে র‌্যালি, আলোচনাসভা, সেমিনারসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, তামাকের কারণে প্রতিবছর বিশ্বে ৭০ লাখ মানুষ অকালে মারা যান। এর মধ্যে পরোক্ষ তামাক ব্যবহারের কারণে মারা যান ৯ লাখ মানুষ। বিশেষ করে ধূমপান ও ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবন দুটোই প্রাণঘাতী নেশা। বিড়ি-সিগারেটের ধোঁয়ায় ৭ হাজার বেশি ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে; যার মধ্যে ৭০টি ক্যানসার সৃষ্টির জন্য দায়ী। বিড়ি-সিগারেটের ধোঁয়া, নারী-শিশুসহ অধূমপায়ীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। পরোক্ষ ধূমপানও অধূমপায়ীদর জন্য ক্ষতিকর। এ ধোঁয়া তিলে তিলে মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। তামাক সেবনের কারণে ক্যানসার, স্ট্রোক, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও ফুসফুসের বিভিন্ন রোগ হয়।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে তামাকের ভয়াবহতা ব্যাপক। দেশে তামাক ব্যবহার ও ধূমপানের কারণে প্রতিবছর ১২ লাখ মানুষ ৮টি অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষ তামাকজনিত রোগে মারা যায়। প্রতিবছর ৩ লাখ ৮২ হাজার মানুষ অকাল পঙ্গুত্ব বরণ করে। বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটির গবেষণা অনুযায়ী, তামাক থেকে সরকার যে পরিমাণ রাজস্ব পায়, তার থেকে অনেক বেশি অর্থ তামাকজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যয় হয়।

সরকার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তামাক নিয়ন্ত্রণকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে জানিয়ে বলা হয়, ২০১৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান স্পিকার সামিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করতে যাচ্ছে।