advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ভাঙন রোধের স্থায়ী ব্যবস্থা চায় কুড়িগ্রামের মানুষ

মোল্লা হারুন উর রশীদ,কুড়িগ্রাম
২৪ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ জুন ২০১৯ ০৯:১৫
advertisement

আষাঢ়ের শুরুতেই তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের ভয়াবহ ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কুড়িগ্রামের সহস্রাধিক পরিবার। গত এক সপ্তাহে রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে চতুরা, রামহরি ও মন্দির মৌজায় শতাধিক পরিবার ভাঙনের শিকার হয়েছে। এসব পরিবার এখনো সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো সহায়তা পায়নি। তিস্তার ভাঙনের মুখে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাট-বাজারসহ অসংখ্য কাঁচাপাকা স্থাপনা।

ভাঙনের শিকার মানুষের অভিযোগ, প্রতিবছরই ভাঙন রোধে কিছু কাজ হয়। কিন্তু তা তাদের কোনো উপকারে আসে না। তারা ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা চান। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, রাজারহাটে উপজেলার বিদ্যানন্দ, উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ও বজরা, রৌমারী উপজেলার বন্দরের ইউনিয়নের বলদমারা ও বাগুয়া, নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা, সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়ন ও ছিনাই ইউনিয়নের কালুয়ার চর এলাকায় নদীভাঙনের ভয়াবহতা বেশি। রাজারহাটের বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চতুরা এলাকায় নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতিদিনিই বিলীন হচ্ছে বাড়িঘর ও ফসলি জমি।

স্থানীয় বাসিন্দা আমেনা, জলিল মিয়া, ইদ্রিস আলী ও মিলনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ৩০ বছর থেকে তাদের ইউনিয়নের বিভিন্ন মৌজায় তিস্তা নদীর ভাঙন চলছে। নদীভাঙনে তাদের অনেকেই এখন নিঃস্ব। বিদ্যানন্দ ইউপি চেয়ারম্যান তাইজুল ইসলাম জানান, ৩০ বছরে শত শত একর আবাদি জমি, বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা বিলীন হলেও দেখার কেউ নেই।

রৌমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল্লাহ জানান, ব্রহ্মপুত্রের ক্রমাগত ভাঙনে তার উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের বলদমারা গ্রামটি বিলীন হয়ে যায়। ব্রহ্মপুত্র এখন এগিয়ে আসছে বাগুয়ারচর গ্রামের দিকে। ইতোমধ্যে ভেঙে গেছে পাকা রাস্তা। ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি এ জনপ্রতিনিধির।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, বৃষ্টিপাতের কারণে নদ-নদীগুলোতে পানি বাড়তে থাকায় কিছু এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এ ভাঙন রোধে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে খুব শিগগির কিছু কাজ করা যাবে।