advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কেউ চাইলেও উচ্ছেদ করতে পারবে না আওয়ামী লীগকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৫ জুন ২০১৯ ০৯:০৯
advertisement

আওয়ামী লীগের শিকড় এমনভাবে প্রোথিত যে কেউ চাইলেও উচ্ছেদ করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগকে হীরার সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, হীরা যত কাটা হয়, তত বেশি উজ্জ্বল হয়। একইভাবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আওয়ামী লীগের ওপর অনেক আঘাত এসেছে। যত বেশি আঘাত এসেছে, আওয়ামী লীগ তত বেশি শক্তিশালী হয়েছে।

গতকাল সোমবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনাসভায় সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিমসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, উপমহাদেশের প্রাচীন দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অন্যতম। অনেক বাধার মধ্যেও দলটি উজ্জ্বলতর অবস্থানে আছে। দলের নেতারা প্রমাণ করেছে, কোনো বাধাই এই দলটিকে কিছু করতে পারবে না। শুধু পাকিস্তান আমলে নয়, স্বাধীন বাংলাদেশেও এই দলের নেতাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। অনেক নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। তবু এই দল শেষ হয়ে যায়নি। শেখ হাসিনা বলেন, ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন বাংলা স্বাধীনতা হারিয়েছিল। নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত হয়েছিলেন মীরজাফরের ষড়যন্ত্রে। এই মীরজাফর তো গালিতেই পরিণত হয়েছে। এর পর দুইশ বছর ব্রিটিশ বেনিয়ারা শাসন করেছে এই ভূখণ্ড । দুইশ বছর পর ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগ। সেই দুইশ বছর আগে হারিয়ে ফেলা সেই স্বাধীনতাকে আওয়ামী লীগই আবার ফিরিয়ে এনেছে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আওয়ামী লীগের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালানো হয়েছে-উল্লেখ করে দলীয় সভাপতি বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পাকিস্তানিরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়লে জানা যায়, আমাদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক। তিনি অত্যাচার-নির্যাতনে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় কোথায় কোথায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঘরবাড়ি আছে, তা খুঁজে খুঁজে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। স্বাধীনতার পরও অত্যাচার-নির্যাতন থেমে থাকেনি। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পর আবার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন নেমে আসে। তবে শত অত্যাচার-নির্যাতনেও আওয়ামী লীগ কখনো ভেঙে পড়েনি। বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, অহমিকা করব না; মাটির সঙ্গে, মানুষের সঙ্গে চলব। এ দেশের মানুষ বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে যেন চলতে পারে আমরা সে ব্যবস্থা করব। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে। জিডিপি বৃদ্ধি পেয়েছে, মাথাপিছু আয় বেড়েছে। মানুষের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়েছে।

দেশে একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না-এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমার দেশের মানুষ যেন অন্ন পায়, বস্ত্র পায়।’ সে লক্ষ্যে তার প্রতিটি পদক্ষেপেই ছিল মানব মুক্তির জন্য। নিজের সুখ শান্তি বিসর্জন দিয়ে বাংলার মানুষের জন্য কাজ করেছেন। এ কাজটি করতে গিয়ে বারবার বাধা এসেছে। সেই বাধা অতিক্রম করে তিনি এগিয়ে যান এবং স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠা ও স্বাধীন দেশের জন্য যা যা লাগে তা তিনি প্রতিষ্ঠা করেন।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, মহৎ অর্জনের জন্য মহান ত্যাগের প্রয়োজন। সে লক্ষ্য নিয়ে চলছি বলেই আজ আমরা উন্নয়নশীল দেশে বাস করছি। আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, যখন কোনো অর্জন হয় আমার মনে হয় আমার বাবা তা দেখতে পান। প্রত্যেকটা মানুষ ঘর পাবে, যার জমি আছে ঘর নাই তাদেরও ঘর করে দিচ্ছি। একটি মানুষও যদি কষ্ট পায়, তা হলে আমার বাবার আত্মা কষ্ট পাবে। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী থেকে শুরু করে প্রয়াত সব আওয়ামী লীগ নেতাকে তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

ভাসানী সম্পর্কে তিনি বলেন, এক পর্যায়ের মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী আওয়ামী লীগ ছেড়ে চলে যান সত্য, তবু তিনি কোনো কিছুর প্রয়োজন হলে আমার বাবার কাছে চিঠি লিখতেন এবং বাবা তা পাঠাতেন। কারণ বাবা মনে করতেন, তিনি যে দলেই যান না কেন তিনি তো ইতিহাসের অংশ।

advertisement