advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৫ জুন ২০১৯ ০৯:১১
advertisement

ব্যবসাবাণিজ্যের পরিবেশ তৈরি হওয়ায় দেশে দিন দিন বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে। বিদায়ী ২০১৮ সালে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বেড়েছে ১৪৬ কোটি ১৮ লাখ ডলার বা ১২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা-শতকরা হিসাবে যা প্রায় ৬৮ শতাংশ। এই সময়ে দেশে এফডিআই এসেছে ৩৬১ কোটি ৩৩ লাখ ডলার। আগের বছর ছিল ২১৫ কোটি ১৫ লাখ ডলার। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনসিটিএডি) প্রকাশিত বিশ্ববিনিয়োগ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল হোটেল সোনারগাঁওয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের অনুষ্ঠান আয়োজন করে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সার্বিকভাবে বিশ্বে এফডিআই কমলেও বাংলাদেশে বেড়েছে। বিনিয়োগ বেড়েছে দক্ষিণ এশিয়ায়ও। মোট বিনিয়োগকে তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে নতুন বিনিয়োগ, কোম্পানির আয় পুনরায় বিনিয়োগ এবং কোম্পানিগুলোর মধ্যে নিজস্ব ঋণ। প্রতিবেদন অনুসারে, আগের বছরের ২১৫ কোটি ১৫ লাখ ডলারের বিপরীতে ২০১৮ সালে মোট এফডিআই এসেছে ৩৬১ কোটি ৩৩ লাখ ডলার।

এর মধ্যে নতুন বিনিয়োগ হয়েছে ১১২ কোটি ৪১ লাখ ডলার, পুনরায় বিনিয়োগ ১৩০ কোটি ৯১ লাখ ডলার এবং কোম্পানির অভ্যান্তরীণ ঋণ ১১৮ কোটি ডলার। খাতভিত্তিক বিবেচনায় বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ হয়েছে ১০১ কোটি ২০ লাখ ডলার, খাদ্য খাতে ৭২ কোটি ৯৬ লাখ ডলার, বস্ত্র খাতে ৪০ কোটি ৮০ লাখ ডলার, ব্যাংকিং ২৮ কোটি ২৫ লাখ ডলার, টেলিকম খাতে ২১ কোটি ৯৮ লাখ, বাণিজ্য খাতে ১০ কোটি ১৯ লাখ এবং অন্যান্য খাতে ৭৪ কোটি ৮৬ লাখ ডলার বিনিয়োগ এসেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৩ সালে দেশে এফডিআইর পরিমাণ ছিল ১৫৯ কোটি ৯১ লাখ ডলার। ২০১৪ সালে তা কিছুটা কমে ১৫৫ কোটি ১২ ডলারে নেমে আসে। ২০১৫ সালে আবার ৪৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ২২৩ কোটি ৫৩ লাখ ডলারে উন্নীত হয়। ২০১৬ সালে ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়ে ২৩৩ দশমিক ২৭ লাখ ডলার হয়। আর ২০১৭ সালে ৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ কমে ২১৫ কোটি ১৫ লাখ ডলারে নেমে আসে।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ এফডিআই বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে পুনর্বিনিয়োগ। অর্থাৎ আগের বছরে যেসব কোম্পানি বিনিয়োগ করেছে, ওই কোম্পানি মুনাফার অর্থ পুনর্বিনিয়োগ করে। যতটুকু নতুন বিনিয়োগ এসেছে, তার মধ্যে বেশি অবদান রেখেছে দুটি প্রকল্প। এর মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ার কিনে নিয়েছে চীনের শেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ। এ প্রকল্পে চীনের ১১ কোটি ৩০ লাখ ডলার বিনিয়োগ দেখানো হয়েছে। এ ছাড়াও জাপান টোব্যাকো বিনিয়োগ করেছে কোম্পানি আকিজ গ্রুপে।

প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে বেশি বিনিয়োগ করেছে চীন। এ সময় দেশটির মোট বিনিয়োগ ১০৩ কোটি ডলার। এর পরই রয়েছে নেদারল্যান্ডস, ৬৯ কোটি ২০ লাখ ডলার। তৃতীয় অবস্থানে থাকা যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগ ৩৭ কোটি ১০ লাখ ডলার।

এর পর যুক্তরাষ্ট্র ১৭ কোটি ৪০ লাখ, সিঙ্গাপুর ১৭ কোটি ১০ লাখ, হংকং ১৭ কোটি, ভারত ১২ কোটি ১০ লাখ, নরওয়ে ১০ কোটি ৮ লাখ, মালয়েশিয়া ৯ কোটি ৩০ লাখ, দক্ষিণ কোরিয়া ৭ কোটি ৩০ লাখ, মৌরিতানিয়া ৬ কোটি ৮০ লাখ, শ্রীলংকা ৬ কোটি ১০ লাখ, জাপান ৫ কোটি ৮০ লাখ, সংযুক্ত আরব আমিরাত ৫ কোটি ৬ লাখ, তাইওয়ান ৫ কোটি ২০ লাখ, সুইজারল্যান্ড ৪ কোটি ৯০ লাখ, আয়ারল্যান্ড ৪ কোটি ৪০ লাখ, বারমুডা ৩ কোটি ৭০ লাখ, জার্মানি ২ কোটি ৬০ লাখ, সুইডেন ২ কোটি ২০ লাখ এবং অন্যান্য দেশ ১৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছে। বাংলাদেশের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তিনটি চ্যালেঞ্জকেও চিহ্নিত করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় জমির অভাব, অবকাঠামো স্বল্পতা এবং বিশ্বব্যাংকের ইজ অব ডুইং (বিজনেস সহজ ব্যবসা করার সূচক) র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকা। বর্তমানে ১৯০টি দেশের মধ্যে এ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৬। তবে এ অবস্থার উত্তরণে কাজ চলছে বলে জানালেন প্রাধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান (সালমান এফ রহমান)।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে কাজ করছে সরকার। আগামীতে বিনিয়োগে এর প্রমাণ পাওয়া যাবে। প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর রিটেইনড আর্নিংয়ের ওপর যে করারোপ করা হয়েছে, তা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে। কেননা এটি হলে তা ডাবল করে রূপান্তরিত হবে, যা কোম্পানির বিনিয়োগ বাড়াতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে।’

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী মো. আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) মো. আবুল কালাম আজাদ ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর।

advertisement