advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

চট্টগ্রাম কারাগারে মাদক সরবরাহে ২ মাসে ৬ মামলা

চট্টগ্রাম ব্যুরো
২৫ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৫ জুন ২০১৯ ০৯:১১
advertisement

কারাগারে মাদক সরবরাহ করতে গিয়ে ধরা পড়ে প্রতিমাসেই একাধিক মামলা হচ্ছে। এসব ঘটনায় কারা অভ্যন্তরে মাদক প্রবেশের বিষয়টি স্পষ্ট হলো। গত দুই মাসে এ ধরনের ঘটনায় ছয়টি মামলা হয়েছে চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানায়। এর মধ্যে আদালতে হাজিরা দেওয়ার জন্য যাওয়া বন্দিদের পাশাপাশি কারাগারে বন্দি দেখতে আসা স্বজনদেরও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন আমাদের সময়কে বলেন, ‘অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে প্রতিটি মাদক মামলার রুট আলাদা। তবে আমরা চেষ্টা করছি সেসব রুট খুঁজে বের করতে। এর মধ্যে হামকা নুর আলমকে রিমান্ডে আনা হলে এসব রুটের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বের হবে বলে আশা করছি।’ গত ১৬ জুন হামকা নুর আলমকে কারা অভ্যন্তরে ইয়াবা সরবরাহ করতে গিয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কারারক্ষী সাইফুল আলম। ওই মামলায় হামকা আলমকে এক দিনের রিমান্ডে আনার জন্য পুলিশকে অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৩ এপ্রিল কোতোয়ালি থানার এসআই এইচ এম এরশাদ কামাল উদ্দিন রনির (২৮) বিরুদ্ধে মাদক আইনে একটি মামলা করেন। পুলিশ রনিকে কারাফটকে ২০০ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে। রনি সে সময় পুলিশকে বলেছিলেন, কারাগারে বন্দিদের কাছে সরবরাহ করার জন্য তিনি মূলত ইয়াবাগুলো এনেছিলেন। এর আগে ১ এপ্রিল মাজাহারুল ইসলাম রিফাত নামের এক যুবককে ইয়াবাসহ কারাফটক থেকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত ৮ মে চট্টগ্রাম কারাগারের জেলার নাশির আহমেদ হাজতি মো. আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়াকে ১০ পিস ইয়াবাসহ আটকের ঘটনায় মামলা দায়ের করেন। ১১ জুন হাজতি মনির উদ্দিনকে ১৪ পিস এবং হাজতি মো. সাইফুল করিমকে ১৬ পিস ইয়াবাসহ কারারক্ষীরা আটক করেন।

এ মামলারও বাদী হন জেলার নাশির আহমেদ। সর্বশেষ গত ২১ জুন চট্টগ্রামের আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী রেজাউল করিম ওরফে ডাইল করিমকে ১৮০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়। এসব হাজতি আদালত পুলিশের কড়া পাহারায় মামলার হাজিরা দিতে আদালতে গিয়েছিলেন। আর আদালত পুলিশেরই কড়া পাহারায় ইয়াবা নিয়ে কারাগারে ফিরছিলেন।

চট্টগ্রাম কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার মো. কামাল হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, কে কীভাবে মাদক আনছে সেটা আমাদের বিবেচ্য নয়। তবে আমরা কারা ফটকে ব্যাপক তল্লাশির মাধ্যমে আদালত ফেরত বন্দিদের ভেতরে ঢুকাই। জানা যায়, চট্টগ্রাম কারাগারের সাবেক জেলার সোহেল রানা বিশ্বাস দায়িত্ব পালনকালে অনেকটা অবাধেই কারা অভ্যন্তরে মাদক নেওয়া যেত। স্বজনদের নামে বন্দিদের সঙ্গে দেখা করেই এই মাদক দেওয়া হতো।

গত বছরের ২৬ অক্টোবর সোহেল রানা বিশ্বাস ময়মনসিংহগামী একটি ট্রেনে নগদ ৪৪ লাখ টাকা ও কয়েক কোটি টাকার ব্যাংক চেকসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। এর পর থেকে চট্টগ্রাম কারাগারে বন্দি দেখতে আসা আর আদালত ফেরত বন্দিদের শরীর তল্লাশির ব্যাপারে কড়াকড়ি শুরু হয়। এতেই নিয়মিত ইয়াবা সরবরাহের ঘটনা বের হতে থাকে।

advertisement