advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সেবিকা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলো না

সিলেট ব্যুরো
২৫ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৫ জুন ২০১৯ ০৯:১৬
advertisement

আর তো মাত্র কটা দিন, পরিপূর্ণ সেবিকা হতে পারতেন তারা। মানুষের সেবা আর পরিবারের সচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়েই তারা দুজন ভর্তি হয়েছিলেন সিলেট নার্সিং কলেজে। এ বছর বিএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষাও দিয়েছেন। কিন্তু কে জানত, মাত্র এক বছরের অপেক্ষা ফুরাবে না। গত রবিবার রাতের রেল দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে ফাহমিদা ইয়াসমিন ইভা (২০) ও সানজিদা আক্তার (২১) নামের দুই তরুণীর সেবিকা হওয়ার স্বপ্ন।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচালে রেল দুর্ঘটনায় নিহত যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে, ইভা ও সানজিদা তাদের দুজন। নিহত অপর দুজন হলেন-মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া পৌরসভার টিটিডিসি এরিয়ার বাসিন্দা আবদুল বারীর স্ত্রী মনোয়ারা পারভীন (৪৮) ও হবিগঞ্জের কাওছার আহমদ (৩২)। নিহত ইভা সিলেটের দক্ষিণ সুরমার জালালপুরের আবদুল্লাহপুর গ্রামের আবদুল বারীর মেয়ে। আর সানজিদা আক্তার বাগেরহাট জেলার মোল্লারহাট থানার আতজুরি ভানদর খোলা গ্রামের মো. আকরাম মোল্লার মেয়ে। সোমবার দুুপুরে ইভার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আর সানজিদার পরিবারকে খবর পাঠিয়েছে নার্সিং কলেজ কর্তৃপক্ষ।

ইভার পরিবার জানিয়েছে, একটি প্রশিক্ষণের জন্য বান্ধবী সানজিদার সঙ্গে ঢাকায় যাচ্ছিলেন তিনি। তিন ভাইবোনের মধ্যে ইভা সবার ছোট। তাকে অকালে হারিয়ে পরিবারটিতে চলছে শোকের মাতম। লাশ নিতে এসে ইভার ভাই আবদুল হামিদ (৩৫) কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, সেবিকা হয়ে মানুষের সেবা করতে চেয়েছিল ইভা। তার সে স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।

তিনি বলেন, রাত ১০টার দিকে সিলেট রেলস্টেশন ছাড়ে উপবন এক্সপ্রেস। ট্রেন ছাড়ার কিছুক্ষণ আগে মাকে ফোন করে ঢাকা যাওয়ার খবর জানিয়েছে। বান্ধবীর সঙ্গে প্রশিক্ষণের জন্য ঢাকায় যাওয়ার কথা বলেছিল। এটাই আমাদের সঙ্গে তার শেষ কথা। বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ইসরাইল আলী সাদেক জানিয়েছেন, ফাহমিদা ইয়াসমিন ইভার লাশ তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে নিয়ে গেছেন। আর বাগেরহাটের সানজিদা আক্তারের লাশ কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কলেজ কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেছে। সানজিদার পরিবারকেও খবর পাঠানো হয়েছে।

সিলেট নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ ফয়সল আহমদ চৌধুরী বলেন, পারিবারিক কাজের কথা বলে ফাহমিদা ইয়াসমিন ইভা রবিবার হোস্টেল থেকে ছুটি নিয়ে গিয়েছিল। আর সানজিদা হোস্টেলে থাকে না। তাই সে ছুটিও নেয়নি। তাদের ঢাকায় যাওয়ার তথ্যও আমাদের কাছে ছিল না। সোমবার সকালেই বিভিন্ন মাধ্যম থেকে এ দুজন নিহতের খবর পাই।

advertisement