advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

একসঙ্গে থেকেও মাকে বাঁচাতে পারেননি এ্যানি

খালেদ পারভেজ বখস,কুলাউড়া ও মো. দেলোয়ার হোসেন,ফেঞ্চুগঞ্জ
২৫ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৫ জুন ২০১৯ ০৯:১৭
advertisement

ট্রেনে একসঙ্গে থাকলেও মাকে বাঁচাতে পারলাম না। দুর্ঘটনার পর মাকে উদ্ধার করতে ট্রেনের ভেতর থাকা অনেক যাত্রীর কাছে কাকুতি-মিনতি করে সাহায্য চাইলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। সবাই মোবাইল ফোনে সেলফি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। অশ্রু চোখে তীব্র ক্ষোভের সঙ্গে কথাগুলো বললেন সিলেট লিডিং ইউনিভার্সিটির বিবিএ’র ছাত্রী রোকসানা পারভিন এ্যানি। গতকাল সকালে কুলাউড়া শহরের বাসভবনে দুর্ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ্যানির মা নিহত মনোয়ারা বেগম লায়লন (৫৫)। তিনি গত রবিবার রাত পৌনে ১২টায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচালে রেলওয়ে ব্রিজ ভেঙে ঢাকাগামী আন্তঃনগর উপবন এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় নিহত হন। তিনি কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও কাদিপুর ইউনিয়নের গুপ্তগ্রামের বাসিন্দা আলহাজ আবদুল বারীর স্ত্রী। কুলাউড়া শহরের টিডিসি এলাকার গফুর মঞ্জিলে তাদের বাসা। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মাইজগাঁও (শেখেরটিলা) গ্রামের মরহুম চেরাগ মিয়ার মেয়ে তিনি।

পরিবার সূত্র জানায়, স্বামীসহ কুলাউড়া থেকে সিলেট নগরীর পাঠানটুলায় বড় মেয়ে ইসরাত আরা মুন্নীর বাসায় গত শুক্রবার বেড়াতে যান লায়লন বেগম। রবিবার রাতে উপবনে স্বামী-সন্তান নিয়ে ফিরছিলেন কুলাউড়ায়। ছোট ছেলে সিলেটের শাহজালাল সিটি কলেজের ছাত্র শাহরিয়ার আহমেদ দীপু বাবা-মা ও বোনকে রাতে ট্রেনে তুলে দিয়েছিল। কিন্তু সে জানত না, এটাই হবে তার মায়ের শেষযাত্রা।

লায়লনের বড় ভাই ঢাকার ব্যবসায়ী আতাউর রহমান আলতা জানান, রবিবার (২৩ জুন) সিলেট থেকে উপবনে কুলাউড়ায় শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিল লায়লন। সঙ্গে ছিল স্বামী ও সন্তানরা। কে জানত, এই যাওয়াই লায়লনের শেষ যাওয়া হবে। গতকাল লায়লন বেগমের বাসায় ছিল স্বজনদের আহাজারি। তার অকালমৃত্যু কেউই মেনে নিতে পারছেন না। নিজের চোখের সামনে মায়ের মৃত্যু দেখা মেয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিল। পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিকাল ৫টায় জানাজা শেষে গ্রামের বাড়িতে দাফন সম্পন্ন হয় লায়লন বেগমের।

advertisement