advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

তথ্যের অভাবে আড়ালে মাদকের হোতারা

হাসান আল জাভেদ
২৫ জুন ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৫ জুন ২০১৯ ০৯:১৮
advertisement

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্সের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। সে অনুসারে প্রচলিত মাদকদ্রব্যের মধ্যে ইয়াবা ট্যাবলেটের চাহিদা, সরবরাহ ও আসক্তদের নিরাময়ে জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। কিন্তু আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণের বদলে সরবরাহ বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক কথিত বন্দুকযুদ্ধ ও আত্মসমর্পণ নীতি অবলম্বন করছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অদূরদর্শী এ নীতির সুযোগে সম্পত্তি রক্ষায় ইয়াবা চোরাকারবারিরা গণহারে আত্মসমর্পণের কৌশল নিলেও গডফাদাররা আড়ালেই থাকছে। অন্যদিকে দেশের আদালতগুলোয় ঝুলে থাকা দেড় লাখ মাদকের মামলার বিচারেও গতি নেই। উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর ভাসা ভাসা তথ্যে ত্রুটিপূর্ণ এজাহার ও দুর্বল চার্জশিটে জামিন পাচ্ছে আসামিরা। মাদক নির্মূলের বদলে আসক্তদের হার বাড়ছে। এজন্য মানি লন্ডারিং আইনের মাদক কারবারি/গডফাদারদের সম্পত্তির উৎস খুঁজে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ মনে করছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্টরা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ২০১৮ সালে সব কটি সংস্থা সারাদেশে ৫ কোটি ৩০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। এতে ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৭৮টি মামলায় ১ লাখ ৬১ হাজার ৩২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ বছরের প্রথম মাসে ৭৬ লাখ ৯১ হাজার ৩০৬ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় ৩৯ হাজার ৯৫৮ জনকে আসামিসহ ৩০ হাজার ৯১০টি মামলা হয়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জব্দ তালিকা বা গ্রেপ্তারের হার কমে এসেছে। এসব আসামির মধ্যে বেশিরভাগই সরবরাহকারী। তাদের মাধ্যমে চোরাকারবারি বা গডফাদারদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি প্রদান বা তাদের সম্পত্তি জব্দের নজির কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়াবা বা মাদক ব্যবসার মূলে রাতারাতি ধনী হওয়া। এ জন্য মাদক ইয়াবা ব্যবসায়ী, গডফাদার বা সরবরাহকারীদের সম্পত্তির উৎস অনুসন্ধান করতে হবে। এর পর অবৈধ সম্পত্তি জব্দের পাশাপাশি সাজার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে চোরাচালান কমবে। প্রচলিত মানি লন্ডারিং আইনের মাধ্যমে এমনটি করা সম্ভব। কক্সবাজারে পুলিশের তদন্ত শাখা সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দায়ের করা কয়েকটি মানি লন্ডারিংয়ের মামলায় সারাদেশে মাদক পাচারের রুট, সিন্ডিকেট ও তাদের অর্থ লেনদেনের চিত্র উঠে এসেছে।

মাদকের মামলা তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, টেকনাফে মুদি দোকানের আড়ালে এক মাদক ব্যবসায়ী চক্রের আদ্যোপান্ত যেভাবে উদঘাটন করা হয়েছে, সেভাবেই মানি লন্ডারিং আইনে সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি, তার পরিবার ও সহযোগীদের আয়-ব্যয়, সম্পত্তি অনুসন্ধান করা সম্ভব। ইয়াবার গডফাদার তালিকায় থাকা হাজী সাইফুল করিমের ক্ষেত্রে কথিত বন্দুকযুদ্ধের নীতি গ্রহণ না করে একইভাবে তার মাধ্যমে সিন্ডিকেটের অন্তত কয়েকশ ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা যেত। যারা আত্মসমর্পণ করেছে বা পলাতক আছে তাদের সম্পত্তির খোঁজ করেও মাদক নির্মূল কঠিন নয়। তবে মাদকদ্রব্য চোরাচালানে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করার ক্ষমতাধারী সিআইডি ও মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরে সেভাবে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ কর্মকর্তা নেই। দুটি সংস্থা মিলে দায়ের করা মামলার সংখ্যা মাত্র ১০টির মতো।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (গোয়েন্দা ও অপারেশন) ড. এ এফ এম মাসুম রাব্বানি আমাদের সময়কে বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনেকেই বাড়ি-গাড়ি, জমিজমা ক্রয় বা বিদেশে অর্থপাচার করেছেন। এই টাকার একটা অংশ ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন হয়েছে। মানি লন্ডারিং আইনে দৃশ্যমান-অদৃশ্যমান সব সম্পত্তির উৎস খুঁজলেই মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার খোঁজ পাওয়া যাবে। রাষ্ট্রের স্বার্থে আমরা সেদিকে যাচ্ছি। বিভিন্ন সময় পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে আসছে মাদকের মামলার বেশিরভাগই ফাঁসানো। কখনো প্রতিপক্ষ ফাঁসাতে, কখনো অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদক মামলায় আসামি করে। সেসব পুলিশ বা মাদকদ্রব্য কর্মকর্তা বিরুদ্ধে কঠোরতাসহ বাহিনীকে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা তদন্তে সক্ষম করে তুলতে হবে।

সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্ল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, মানি লন্ডারিং আইনে মাদক কারবারিদের মূল উৎপাটন করা সহজ উপায়। তবে নতুন এই পদ্ধতি সব কর্মকর্তার ক্ষেত্রে বুঝে ওঠা কঠিনতর। ধীরে ধীরে মানি লন্ডারিং আইনে দেশের ভেতরে এবং বাইরে মাদকের অর্থ ব্যবহারের উৎস খুঁজে বের করা গেলে মাদক নির্মূল না হলেও কমে আসতে বাধ্য। এদিকে মাদক নির্মূলের পাশাপাশি কারাবন্দিদের মাদক নিরাময়ে ভালো উদ্যোগ নেই।

অভিযোগ রয়েছে, কারাগারের ভেতরেই মাদকের হাট। চট্টগ্রামের সাবেক জেলার সোহেল রানা মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন অপ্রতুল। তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরেরে পরিচালক (চিকিৎসা ও পুনর্বাসন) এসএম জাকির হোসেন বলেন, তুলনামূলক মাদক চোরাচালানের হার বাড়লেও আনুপাতিক হারে সেবনকারী বাড়েনি।

advertisement