advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রবাসীদের সঙ্গে প্রতারণা, নিউইয়র্কে বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

প্রবাস ডেস্ক
৬ জুলাই ২০১৯ ১৪:৪৪ | আপডেট: ৬ জুলাই ২০১৯ ১৯:০০
advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রবাসীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা এবং একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার ৯টি কম্পিউটার চুরির মামলায় মোস্তাউর রহমান (৪৯) নামে এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে জ্যামাইকার হিলসাইড এভিনিউ এলাকার একটি দোকানে চুরি করা কম্পিউটারগুলো বিক্রির সেখানকার পুলিশ স্টেশনের কর্মকর্তারা তাকে গ্রেপ্তার করে।

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মাজেদা এ উদ্দিন জানান, গত জানুয়ারি মাসে কুইন্সের বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যামাইকার ১৬৯-১৮ এ, দ্বিতীয় তলায় মোস্তাউর রহমানের মালিকানাধীন অফিসের জন্য একটি কক্ষ ভাড়া নেন তিনি। ৬ মে তার প্রতিষ্ঠান স্যাফেস্ট’র (সাউথ এশিয়ান ফান্ড ফর এডুকেশন, স্কলারশিপ অ্যান্ড ট্রেনিং) অফিস উদ্বোধন করেন। সেখানে উদ্যমী প্রবাসীদের কম্পিউটার শেখানোর পাশাপাশি ভাষাগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার পরামর্শও দেওয়া হয়। এমন অবস্থায় ওই ভবনের মালিক ভাড়া বাকি রাখার কারণে মোস্তাউরের বিরুদ্ধে কুইন্স কোর্টে মামলা করেন। এক পর্যায়ে ১৭ জুন আদালতের নির্দেশে নিউইয়র্ক সিটি মার্শাল রোনাল্ড ডব্লিউ পেজান্ট সেই ভবনে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ ভবনের মালিক ছাড়া আর কেউ সেখানে ঢুকতে পারবে না।

এ অবস্থায় মাজেদা ঘাবড়ে যান। কারণ, তার অফিসে ১৭টি কম্পিউটার, নগদ অর্থসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস রয়েছে। নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করা সত্ত্বেও কেন তিনি মোস্তাউরের অপকর্মের ভিকটিম হলেন-এমন প্রশ্নে জর্জরিত হন। এমনি অবস্থায় মাজেদা জানতে পারেন যে, মার্শাল কর্তৃক ওই ভবনে তালা লাগানোর আগেই মোস্তাউর সবকটি কম্পিউটার সরিয়ে ফেলেছেন।

পহেলা জুলাই মাজেদা নিশ্চিত হন যে, অন্তত ৪টি কম্পিউটার জ্যামাইকার একটি দোকানে বিক্রির পাঁয়তারা চলছে। ঘটনাটি পুলিশের দৃষ্টিতে দেয়ার পর ৫ জুলাই সন্ধ্যার দিকে ওই দোকানে অভিযানের সময় পুলিশ মোস্তাউরকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। ওই দোকানদার পুলিশকে জানিয়েছেন যে, মোস্তাউর কম্পিউটারগুলো বিক্রির জন্যে এনেছেন। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। নিউইয়র্ক পুলিশের গণসংযোগ দপ্তরের ডেপুটি কমিশনার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, কুইন্সের শামসুল হক, নিজাম উদ্দিন, মো. শফিক, ফরিদা ইয়াসমীন, আব্দুল কাদেরসহ ১২ জন প্রবাসী অভিযোগ করেছেন যে, তার প্রকৃত নাম হচ্ছে মো. মুস্তাকুর রহমান। একেক সময় একেক নাম ধারণ করেছেন তিনি প্রতারণা করেছেন। এরমধ্যে শামসুল হকের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৫ হাজার ডলার। বিনিময়ে তাকে ওয়ার্ক পারমিট, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর সংগ্রহ করে দেওয়ার কথা। আরো ৯ হাজার ডলার চেয়েছেন কন্সট্রাকশন-ঠিকাদারের লাইসেন্স করে দেয়ার অঙ্গীকারে।

শামসুল হক ডক্যুমেন্টসহ অভিযোগ করেছেন, মুস্তাকুর নিজেকে ইমিগ্রেশনের অ্যাটর্নি পরিচয় দিয়ে তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার বিস্তারিত আবেদনে সহায়তা করার অঙ্গীকার করেছেন। এ অঙ্গীকারে গত ১১ মার্চ ওই পরিমাণ অর্থ নেন। এখন শামসুল হক নিশ্চিত হয়েছেন যে, মুস্তাকুর অ্যাটর্নি নয়। মিথ্যা কথা বলেছেন।

অনুসন্ধানকালে জানা যায়, জ্যামাইকার মতো ম্যানহাটনেও একটি কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন মোস্তাউর। সেটির ভাড়া বাবদ দুটি চেক দেন। একটিও ভাঙাতে পারেননি ওই কক্ষের মালিক। এ ধরনের বেশক'টি চেক দিয়েছেন নিউইয়র্কে বাংলা ভাষার পত্রিকাগুলোতে বিজ্ঞাপনের বিল বাবদ। প্রত্যেকেরই চেক বাউন্স হয় ওই একাউন্টে কোনো অর্থ না থাকায় অর্থাৎ পত্রিকাগুলোকে উল্টো জরিমানা দিতে হয়েছে।

জানা গেছে, কুমিল্লার বুড়িচং –এর মুস্তাকুর ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের অকল্যান্ড সিটিতে ১৪৬০ ব্রডওয়েতে তার একটি অফিস ছিল। সেখানকার ভিজিটিং কার্ডে তাকে এমআরটি গ্রুপের এমডি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। শুধু তাই নয়, শিক্ষাগত যোগ্যতার মধ্যে লেখা রয়েছে, কানাডা থেকে এমবিএ এবং এমএসএস করেছেন। ব্যবসা প্রশাসনে পিএইচডির ছাত্র ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলে ক্যাম্পাসে।

মুস্তাকুরের কাছে প্রতারিতরা উল্লেখ করেছেন যে, সবকিছুই মিথ্যা। কারণ, তার চাল-চলন এবং কথাবার্তায় কোনোভাবেই উচ্চ শিক্ষিত বলে মনে হয়নি।

সত্যিকার অর্থে তিনি ইমিগ্রেশনের অ্যাটর্নি কিনা জানতে চাইলে মোস্তাউর তথা মুস্তাকুর বলেন, ‘আমি অ্যাটর্নিশিপ করেছি কানাডায়।’ যুক্তরাষ্ট্রে কীভাবে আইনজীবী হিসেবে ব্যবসা করছেন-এ প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘নেটওয়ার্ক’-এ অ্যাটর্নিশিপ করেছি।’ অর্থাৎ উভয় তথ্যই সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। নেটওয়ার্কে কোনো ডিগ্রি অর্জনের বিধি নেই যুক্তরাষ্ট্রে।

এছাড়া আইনজীবীর ব্যবসা করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো অঙ্গরাজ্যে বার কাউন্সিলের মেম্বার হতে হবে এবং লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হয় যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে।