advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পর্তুগালে স্বর্ণপদক পেলো বাংলাদেশ কমিউনিটি

নাঈম হাসান পাভেল,পর্তুগাল
১০ জুলাই ২০১৯ ১৭:৪৪ | আপডেট: ১০ জুলাই ২০১৯ ১৭:৪৪
advertisement

পর্তুগালের বানিজ্যিক রাজধানী পোর্তো মিউনিসিপালিটির স্বর্ণপদক অর্জন করেছে পোর্তো শহরে বাংলাদেশের দুই অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোর্তো ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন পর্তু নর্থ। প্রতিবছর পোর্তো মিউনিসিপালিটি থেকে ২৪জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়।

গতকাল মঙ্গলকার পোর্তো শহরের কাজা দ্য রোজেলাল হলে স্বর্ণপদক প্রদানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ এই স্বর্ণপদক গ্রহণ করেন। পোর্তো শহরে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণসহ কমিউনিটিতে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোর্তোর পক্ষে সভাপতি শাহ আলম কাজল, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম পোর্তো সিটি মেয়র রুই মোরেইরার হাত থেকে স্বর্ণপদক গ্রহণ করেন।

এছাড়াও কমিউনিটিতে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন পোর্তো নর্থ’কে স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন পোর্তো নর্থের পক্ষে সভাপতি ফারুক আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক কাজল আহমেদ পোর্তো সিটি মেয়র রুই মোরেইরার হাত থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেন।

পর্তুগালের বর্তমান সরকারী দলের সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য আলবার্টো দ্য সওজা মার্টিনস্ ও মুসলিম ধর্মের ইসমাইলি অনুসারীদের নেতা আগা খান পরিবারের আগা খানকে শহরের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সম্মাননা পদকে ভূষিত করা হয়। পর্তুগালের বর্তমান সরকারি দলের সাবেক মন্ত্রী আলবার্টো দ্য সওজা মার্টিনস্ও আগা খান পরিবারের পক্ষে প্রিন্স আমিন আগা খান মেয়রের হাত থেকে এই সর্বোচ্চ সম্মাননা গ্রহণ করেন।

এবছর পোর্তো মিউনিসিপালিটি স্বর্ণপদক গ্রহণকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো-, বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোর্তো, পোর্তো পপুলার বিশ্ববিদ্যালয়, রান্চো ফোলক্লোরিকো দ্যো পোর্তো, পাদ্রে জোসে লোপেজ বাতিস্তা, গ্রুপো দ্য জাদরেস দ্যো পোর্তো, অ্যাসোসিয়েশন হিন্দু, অ্যাসোসিয়েশন দ্য কারাটে, জুলমিরো নেভেস দ্য কারভালহো, রোসা মারিয়া মিইরিলেস গোমেস গোনকালভেস, লুইস ম্যানুয়েল দ্য ফারিয়া নেইভা দোস সান্তোস, জোসে দ্যা মাগালহেস ভালে দ্য ফিগুইরেদো, জোসে ম্যানুয়েল দ্য দোস সান্তোস জিগান্তে, জোসে কার্লোস কস্তা মার্কেস, জোয়াও লুইস দ্য মারিস রোসেইরা, হেনড্রিক লুইস রদ্রিগেজ, জোসে ফার্নান্দেস দ্য লেমোস, মারিয়া দ্য ফাতিমা মাকাদো হেনরিকস কারনেইরো, ক্রিস্টিয়ানো জোয়াকিম মার্কেস ত্রিনিদাদ পেরেইরা, অরনাল্ডো বাতিস্তা সারাভাইয়া, এন্তোনিও ম্যানুয়েল সাম্পাইয়ো, আন্তেরো জোয়াকিম ব্রাগা দ্য সওজা এবং আলবানো দ্য সিলভা রিবেইরো।

২০১৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই পদকটির প্রতিবছর ৯ই জুলাই প্রদান করা হয়। এই দিনটি পোর্তোবাসীর জন্য একটি প্রতীকী দিন ১৮৩২ সালের এই দিনে মিন্দেলো নামক জায়গায় অবস্থান করে। ডোম পেদ্রোর নেতৃত্বে স্বাধীনতা যোদ্ধারা পোর্তো শহরের অবরোধ মুক্ত করে। সেই থেকে পোর্তো শহরের অধিবাসীদের জন্য এই দিনটি একটি অনন্য দিন।

পোর্তো সিটি মেয়র ড. রুই মোরেইরা বলেন, এই পুরস্কারের মাধ্যমে পোর্তো মিউনিসিপালিটিতে বসবাসরত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহ প্রদান করি। তারা যাতে করে এই শহরে আরও শক্তির সাথে বসবাস করেন, অবদান রাখেন। এটি আমাদের জীবনের একটি ধরণ। প্রতিবছর ৯ই জুলাই ডোম পেদ্রোর ঐতিহাসিক দিনে আমরা এটির আয়োজন করে থাকি। পোর্তো শহরের অধিবাসীদের জন্য এই দিনটি একটি অনন্য দিন। স্বর্ণপদক অর্জন করা সকলকে আমি অভিনন্দন জানাই।

শাহ আলম কাজল বলেন, ‘এই পুরষ্কার আমাদের বাংলাদেশের জন্য পর্তুগালে অনন্য এক গৌরব। এমন সম্মাননা বাংলাদেশের কোনো সংগঠনের জন্য প্রথম। আমরা সবসময় চেষ্টা করেছি প্রবাসে বাংলাদেশিদের সংগঠিত রেখে স্থানীয় পর্তুগিজ কমিউনিটির সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করতে। আজ একটি স্বীকৃতি এলো। পোর্তোর বাংলাদেশ কমিউনিটির সকলে আনন্দিত।’

উল্লেখ্য, সম্প্রতি পোর্তো মিউনিসিপালিটির মেয়র, সদস্যবৃন্দ ও সরকারী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে গোপন ভোটের মাধ্যমে ও সম্মতিক্রমে উক্ত ২৪টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যাক্তিকে এই পদক প্রদান করার সিধ্বান্ত নেয়া হয়ছিলো।

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সবার একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা ও উদ্যোগে প্রবাসে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ কমিউনিটির প্রয়াসে গঠিত হয় বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোর্তো। প্রতিষ্ঠার আড়াই বছর পরই বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোর্তো অর্জন করে অনন্য এক কৃর্তি, পর্তুগালে একমাত্র সংগঠন হিসেবে পর্তুগিজ ইমিগ্রেশন হাইকমিশনের নিবন্ধন লাভ করে তারা। পর্তুগালে সগৌরবে বাংলাদেশকে তুলে ধরার পাশাপাশি পোর্তো মিউনিসিপালিটির মেয়র রুই মোরেইরার একান্ত সহযোগিতায় ও বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোর্তোর নেতৃবৃন্দের প্রচেষ্টায় পোর্তো শহরে নির্মিত হয় বাংলাদেশের স্থায়ী শহীদ মিনার।