advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ইন্ধনদাতা নেতাদের নাম প্রকাশ করবে ছাত্রদল

নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ জুলাই ২০১৯ ১৯:৫১ | আপডেট: ১১ জুলাই ২০১৯ ১৯:৫১
advertisement

নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে লাঞ্ছিত করাসহ প্রতিটি অপ্রীতিকর ঘটনার তদন্ত দাবি করেছে ক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতারা। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের মাধ্যমে ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠনসহ সাত দফা দাবি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে উত্থাপন করেছেন ক্ষুব্ধ সংগঠনটির নেতারা।

তদন্ত কমিটি গঠনে বিলম্ব দেখে ইন্ধনদাতাদের নাম প্রকাশ নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই ঘটনায় সার্চ কমিটিতে থাকা একাধিক নেতাসহ বিএনপিরও সিনিয়র অনেকের ইন্ধন ছিল যার প্রমাণসহ জনসম্মুখে প্রকাশ করবেন।

শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করে ইন্ধনদাতাদের নাম প্রকাশ করবে বলে নিশ্চিত করেছেন ক্ষুব্ধ ছাত্রদলের একাধিক নেতা।

ছাত্রদলের একজন সহসভাপতি বলেন, সার্চ কমিটির বেশ কয়েকজন নেতা তাদের বলেছিল রিজভীকে হাত-পা ভেঙে বের করে দিতে। তারা বলেছিল নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগুন দিতে। কিন্তু আমরা যারা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছি তা তো করতেই দেইনি, উল্টো আন্দোলন চলাকালে কার্যালয়ের মূল গেইটে পাহারা দিয়েছি যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

তিনি আরও বলেন, আমরা শুনতে পাচ্ছি ওইদিন রিজভীকে বের করতে এ্যাম্বুলেন্সও এনেছিল সার্চ কমিটি। ওই বিল দিয়েছেন সার্চ কমিটির নেতা। আমরা ওই নেতাকে খুঁজতে চেষ্টা করছি।

এই অবস্থায় বুধবার রাতে ছাত্রদলের সঙ্কট নিরসনে দায়িত্বপ্রাপ্ত তিন নেতা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সরে গিয়ে বাকি কাজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সাধারণ সম্পাদকদের সমন্বয়ে গঠিত সার্চ কমিটির নেতাদের দিয়ে সম্পন্ন করতে তারেক রহমানকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। যদিও তিনি তাদের বলেছেন, একটু সময় নিয়ে হলেও তাদের নিয়েই ছাত্রদলের সঙ্কট সমাধান করবেন।

ছাত্রদলের বিদ্রোহীদের এখনকার দাবি, সার্চ কমিটির নেতাদের অধিনে একটা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হোক। কিন্তু এখানেই আটকে আছে সিদ্ধান্ত।

এদিকে, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সমন্বয়ে গঠিত সার্চ কমিটির নেতাদের মধ্যেও এই নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।

বিদ্রোহীদের দিয়ে স্বল্পকালীন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পক্ষে রয়েছেন কয়েকজন। তবে তারেক রহমানের আস্থাভাজন হতে কয়েকজন নেতা বিরোধিতা করছেন। এ অবস্থায় বিদ্রোহীরা ফের আন্দোলন নামতে পারে বলে জানা গেছে।

ধারাবাহিক কমিটি গঠনের দাবিতে করণীয় নিয়ে তারা ফের বৈঠক করবেন। গতকাল বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তারেক রহমান স্কাইপে যুক্ত হয়ে মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের সঙ্গে কথা বলেন।

ছাত্রদলের বিদ্রোহী নেতারা জানান, সার্চ কমিটির নেতাদের প্রতি তাদের কোনো আস্থা নেই। দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র তিন নেতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে ইতিবাচক ছিলেন তারা। তারপরও দল আগের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় আন্দোলনে নামতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে তারেক রহমান সার্চ কমিটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে তার আহ্বায়ক কমিটি না করার পূর্বের সিদ্ধান্তের কথা জানান। সাবেক ছাত্রনেতাদের তিনি জানিয়েছেন, বিক্ষুব্ধ ছাত্রনেতাদের দাবি মানা হবে না। দলের সিদ্ধান্ত মানলে তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা যেতে পারে। কিন্তু, কোনো আহ্বায়ক কমিটি হবে না।

অবশ্য, কমিটি নিয়ে টানা বিক্ষোভের মুখে গত সপ্তাহ দুয়েক ধরে বিদ্রোহীদের দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের আশ্বাস দেয় হাইকমান্ড।

মূলত তারেক রহমানের আশ্বাসের ভিত্তিতে হাইকমান্ড আহ্বায়ক কমিটি গঠনের উদ্যোগও নেয়। হঠাৎ মঙ্গলবার রাতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সেখান থেকে সরে তার পূর্বের সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা জানান।

বিএনপির প্রভাবশালী এক নেতা বলেন, ছাত্রদলের কমিটি ৩ জুন বিলুপ্ত করার পর সৃষ্ট সঙ্কট সমাধানে সার্চ কমিটি ব্যর্থ হলে মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে দায়িত্ব দেন তারেক রহমান।

তারা দ্রুত বিষয়টি সমাধানের দিকেও নিয়ে যান। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

ওই বৈঠকে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এই ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। কিন্তু সম্প্রতি সার্চ কমিটির কোনো কোনো নেতার কর্মকাণ্ড তাদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। সার্চ কমিটির কর্মকাণ্ডে তাদের মনে হয়েছে, আব্বাস-গয়েশ্বর এবং সার্চ কমিটি মুখোমুখী অবস্থানে। যা দলের এবং ওই দুই নেতার জন্য সম্মানজনক নয়। তাই তারা সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।

সার্চ কমিটির একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, বিদ্রোহী ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে সাবেক কয়েকজন ছাত্রনেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিদ্রোহীরা সার্চ কমিটির সাথে কথা না বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।