advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

জনগণকে একটুখানি রেহাই দেন : রওশন

নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ জুলাই ২০১৯ ২১:০২ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০১৯ ০২:১৫
advertisement

গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিরোধিতা করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ। বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি গ্যাসের দাম নিয়ে কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা উন্নয়ন চাই তবে গ্যাসের দাম বাড়াতে চাই না। গ্যাসের দাম না বাড়িয়ে যদি আবার বিবেচনা করা যায়, জনগণকে একটুখানি রেহাই দেন। রেহাই দেওয়া উচিত কারণ অনেক জণগন আছে, তাদের এতো দাম দিয়ে গ্যাস কেনার সামর্থ নেই।’

রওশন এরশাদ বলেন, ‘আমি সেদিন শুনেছি, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশের উন্নয়ন যদি চান, তাহলে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি মেনে নিতে হবে। আমরা উন্নয়ন চাই তবে গ্যাসের দাম বাড়াতে চাই না। এটাই হলো আসল কথা। এটা আমার কথা না জনগণের কথা। যেদিন বাজেট পাস হলো, সেদিন গ্যাসের দাম বাড়ানো হলো।’

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান বলেন, ‘সবার কাছ থেকে শুনলো গ্যাসের দাম বাড়ালে কি হবে, না হবে। গণশুনাননির পরে কি হলো, গ্যাসের দাম বেড়ে গেলো। কিন্তু আমরা যখন গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিলাম, তখন ভারত গ্যাসের দাম কমিয়ে দিলো। যে সিলিন্ডারে ঘরে রান্না করে, সেটির দাম ১০০ টাকা কমিয়ে দেওয়া হলো। যদি এটাই হয় তাহলে আমাদের হটাৎ বাড়লো কেনো?’

রওশন এরশাদ বলেন, ‘আমাদের সমুদ্রে যে গ্যাস আছে সেটা আমরা তুলি না কেনো? এখন যদি চেষ্টা করা না হয়, অনেক সময় লাগবে, দু-তিন বছর চলে যাবে, তবে আমরা কেন এখই চেষ্টা করছি না? এখন না করলে পরে কখন করবো।’

শিক্ষকদের প্রতি মানবিকতার হাত বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে রওশন বলেন, ‘এমপিওভুক্তি বঞ্চিত শিক্ষকরা আন্দোলন করছে। তারা বেতন পাচ্ছেন না। এই অসহায় শিক্ষকদের প্রতি মানবিকতার হাত বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানাই।’

বিরোধী দলীয় উপনেতা বলেন, ‘স্মার্টফোন ব্যবহার করে আমাদের ছেলে-মেয়েরা অন্য রকম জগত তৈরি করছে। এর হাত থেকে যদি তাদেরকে বাঁচানো না যায় তাহলে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ তারা কীভাবে নেতৃত্ব দেবে। এটা থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের রাস্তা খুঁজতে হবে। অনেক জায়গা আছে ফেসবুক নাই। তারা যদি সারা রাত জেগে স্মার্টফোন দেখে। ঘুম নাই, লেখা পড়া নেই। একেকটার চেহারা কেমন হয়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘দেশের উন্নয়নের সঙ্গে দিনরাত পরিশ্রম করে তথ্য সরবরাহ করেন গণমাধ্যম কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের উন্নয়নে কোনো সরকারই গুরুত্ব দেয় না। যদিও বর্তমান সরকারের সময় গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য নবম ওয়েজবোর্ড গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড দ্রুত বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেবেন।’ 

রওশন বলেন, ‘ছোট ছোট বাচ্চাদেরকে ধর্ষণ করা হচ্ছে। বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। এই ধরনের শিশু নিযাতন কেন গড়ে উঠেছে? বিশেষ করে স্কুলে-মাদ্রাসায় কোনো জায়গায় আমাদের বাচ্চারা সুরক্ষিত না, নিরাপদ না। যদি নিরাপদ না হয় তাহলে লেখাপড়া করবে কিভাবে? নুসরাতের মতো যদি জীবন দিতে হয় এটা দুঃখজনক। আমাদের দেশে আইন আছে। আমি সরাসরি বলতে চাই, এদের মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। ইদানিং দেখা যাচ্ছে অনেক বেশি। কোনো জায়গাতে বাচ্চারা নিরাপদ না। এই ধরনের অবস্থা আগে ছিল না।’

এ সময় আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ‘তাদের দ্রুত শাস্তি দেওয়া উচিত। মামলাগুলো ঝুলিয়ে না রেখে তাদের শাস্তি দেওয়া উচিত।’

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে রওশন স্পিকারের অনুমতি নিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের উন্নয়নের বিভিন্নদিক তুলে ধরেন। এরশাদের সুস্থতার জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন।

advertisement