advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মোবাইল অ্যাপে বিটিভি দেখবে বিশ্ববাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ জুলাই ২০১৯ ২১:৩০ | আপডেট: ১১ জুলাই ২০১৯ ২১:৩০
advertisement

কয়েক মাসের মধ্যে মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে সারাবিশ্বে বিটিভি দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানান তিনি।

আজ জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (সংশোধন) বিল-২০১৯ পাস হয়। তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এ সময় বিরোধীদলীয় সদস্যরা বিলের উপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব নিয়ে বিটিভি অনুষ্ঠান ও সংবাদ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন।

এদিন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের জন্য দক্ষ, যোগ্য কলাকুশলী ও নির্মাতা সৃষ্টির জন্য সংশ্লি¬ষ্ট বিষয়ে ডিগ্রি, কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান এবং গবেষণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে প্রয়োজনীয় বিধান করতে বিলটি পাসের প্রস্তাব করা হয়।

বিলের উপর আলোচনায় অংশ নেন বিরোধীদল জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক, পীর ফজলুর রহমান ও বেগম রওশন আরা মান্নান, বিএনপির হারুনুর রশীদ, মোশাররফ হোসেন ও বেগম রুমিন ফারহানা এবং গণফোরামের মোকাব্বির খান। তাদের প্রস্তাবগুলো কন্ঠ ভোটে নাকচ হয়ে যায়।

বিল নিয়ে আলোচনাকালে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এখনও বেশিরভাগ মানুষ বিটিভি দেখে। তবে আশ্চর্যের বিষয় গত কয়েক দশক ধরে বিটিভি ভারতে দেখা যাচ্ছিল না। আমরা ভারতের সঙ্গে ওয়ার্কিং অ্যাগ্রিমেন্ট করেছি, চুক্তি করেছি। সেই চুক্তির আলোকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিটিভি সমগ্র ভারতবর্ষে টেরিসটোরিয়াল চ্যানেল হিসেবে দেখা যাবে।

অর্থাৎ ভারতের সরকারি টেলিভিশনগুলো যেভাবে তাদের স¤প্রচার মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে টেরিসটোরিয়োল চ্যানেল হিসেবে দেখা যায়, ঠিক একইভাবে বিটিভি সমগ্র ভারতবর্ষে দেখা যাবে। এ ছাড়া আগামী কিছুদিন পর মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে সমগ্র পৃথিবীতে বিটিভি দেখা যাবে বলেও জানান মন্ত্রী।

বিটিভির খবর পাঠকদের বয়স নিয়ে প্রশ্ন তোলায় উল্টো প্রশ্ন রেখে মন্ত্রী বলেন, একজন সদস্য বলেছেন, বিটিভিতে বয়স্ক মহিলাদের দিয়ে খবর পড়ানো হয়। তাহলে কি সুন্দর তরুণীদের দিয়ে শুধু খবর পড়ানো হবে? চেহারা কি মানুষের সমস্ত গুণাগুণের মূল বিষয়? যে খবর পড়ার জন্য চেহারাই সুন্দর হতে হবে? এটিই কি মুখ্য বিষয়?

তিনি বলেন, চেহারা বয়স নিয়ে প্রশ্ন তোলা কতটুক সমীচীন। আমি একই কথাগুলো সংসদীয় প্রসিডিং থেকে এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ করছি।বিটিভির মান উন্নয়নে অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ছয়টি বিভাগীয় শহরে নতুন টেলিভিশন কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশ ড. হাছান মাহমুদ বলেন, চলচ্চিত্র বিকাশে ভারতসহ অন্যান্য দেশের চলচ্চিত্র আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। চলচ্চিত্র উন্নয়নের জন্য অনেক প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। গাজীপুরে ১০০ একর জায়গার উপর বঙ্গবন্ধু ফিল্ম সিটি স্থাপন করা হবে। সেটি বিশ্বমানের ফিল্ম সিটিতে উন্নীত করব।

সিনেমা হল বন্ধ প্রসঙ্গে মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, হলগুলো বন্ধ হচ্ছে এটা শুধু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট নয় এটা সমগ্র বিশ্বব্যাপী হচ্ছে, ভারতেও অনেক সিনেমা হল বন্ধ হয়েছে। আকাশ সংস্কৃতির কারণে ও নিউ মিডিয়ায় ছবিগুলো চলে আসায় সিনেমা হল বন্ধ হচ্ছে। সমগ্র পৃথিবীতে হল সিনেমা হলগুলো সংকুচিত হচ্ছে। ভারতের মতো আমাদের দেশেও অনেক সিনেমা হল বন্ধ হয়েছিল। যদিও সিনেমা হলগুলো আবার চালু করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

যারা সিনেমা হল আধুনিকায়ন করতে চান বা বন্ধ সিনেমা হল চালু করতে চান তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেয়া হবে। এটি হলে কয়েক বছরের মধ্যে সিনেমা হলের সংখ্যা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

পাস হওয়া বিলে বিদ্যমান আইনের ধারা ৬ এর ১ উপ-ধারা দফা (ড) এর পরিবর্তে নতুন (ড) দফা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। নতুন দফায় ইনস্টিটিউটের গভর্নিং বডিতে একজন শিক্ষক ও একজন চলচ্চিত্র নির্মাতাসহ অনূন্য ৪ থেকে ৬ জন চলচ্চিত্র সংশি¬ষ্ট বরেণ্য ব্যক্তিত্বকে অন্তর্ভুক্ত করার বিধান করা হয়। বিলে গভর্নিং বোর্ডের সদস্যদের মেয়াদ ৩ বছরের পরিবর্তে ২ বছর করা করা হয়। এছাড়া বিলে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্র আরো বিস্তৃত করার বিধান করা হয়েছে।

advertisement