advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সীমান্তে প্রাণহানি কমে এসেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ জুলাই ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০১৯ ০০:১১
advertisement

সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে প্রাণহানির ঘটনা কমে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদের প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, সীমান্তে হত্যা কমে আসছে। ২০০৯ সালে

যেখানে হত্যা করা হয়েছিল ৬৬ জনকে, ২০১৮ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৩ জনে। সরকার কূটনৈতিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। সীমান্তে হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বিএসএফ একমত পোষণ করে আসছে।

মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর গত ১০ বছরে (২০০৯-২০১৮) সীমান্তে বিএসএফের হাতে ২৯৪ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ২০০৯ সালে ৬৬ জন, ২০১০ সালে ৫৫ জন, ২০১১ সালে ২৪ জন, ২০১২ সালে ২৪ জন, ২০১৩ সালে ১৮ জন, ২০১৪ সালে ২৪ জন, ২০১৫ সালে ৩৮ জন, ২০১৬ সালে ২৫ জন, ২০১৭ সালে ১৭ জন এবং ২০১৮ সালে ৩ জন।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিলের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সেসব স্থানে সমন্বিত টহল কার্যক্রমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে। এক বিওপি (সীমান্ত ফাঁড়ি) থেকে পার্শ্ববর্তী বিওপির দূরত্ব কমাতে ১২৮টি বর্ডার সেন্ট্রি পোস্ট (বিএসপি) নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিএসএফ সীমান্তের ৩১৮ কিলোমিটার এলাকাকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে ক্যামেরা স্থাপনসহ আধুনিক নজরদারির ব্যবস্থা করছে।

বিএনপির হারুনুর রশীদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ সব সংস্থা ২০১৮ সালে এক লাখ ৬১ হাজার ৩২৩ জন মাদক কারবারির বিরুদ্ধে এক লাখ ১৯ হাজার ৮৭৮টি মামলা করে তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- ঘটেনি।

আওয়ামী লীগের দিদারুল আলমের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, গত ১০ বছরে বিজিবি সীমান্তে টহল ও অভিযান চালিয়ে ৬ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকার অন্তর্মুখী মাদক ও চোরাচালান দ্রব্য এবং ৬৯৮ কোটি টাকার বহির্মুখী চোরাচালান দ্রব্য আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এ সময়ে বিজিবি ৫৭টি রিভলবার, ৪৮৩টি পিস্তল, ৪০২টি বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র, ৪৫ লাখ ৩০ হাজার ৪৪৩ বোতল ফেনসিডিল, এক লাখ ৫৪ হাজার ১০৯ কেজি গাঁজা, ১৬ লাখ ১১ হাজার ২৪২ বোতল বিদেশি মদ, এক লাখ ৪৩ হাজার ১৮ লিটার দেশি মদ, ৩ লাখ ৫ হাজার ৫৫৯ বোতল বিয়ার, ৩৬৭ কেজি হেরোইন, ৪ কোটি ৬৭ লাখ ৪০ হাজার ৯৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩ লাখ ৮৫ হাজার ১৫৬টি নেশাজাতীয় ইনজেকশন, ৩ দশমিক ০৭ কেজি আফিম, ৮ দশমিক ০৫৫ কেজি কোকেন আটক করেছে। এ ছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার সময় ৩ হাজার ৮৫৫ জন নারী, এক হাজার ৫৯১টি শিশু উদ্ধার এবং ১০৮ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।

ওয়ার্কার্স পার্টির লুৎফুন নেসা খানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের যে মই রয়েছে, তা দিয়ে ২০তলা পর্যন্ত আগুন নেভানো ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব। সরকারি দলের নিজামউদ্দিন হাজারীর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০০৬ থেকে জুন ২০১৯ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন অবস্থায় এক হাজার ৫০ জন পুলিশ সদস্য নিহত ও ৪ হাজার ৪৪০ জন আহত হয়েছেন।

সরকারি দলের এম আবদুল লতিফের প্রশ্নে মন্ত্রী জানান, সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবন এলাকায় ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩২টি বাহিনীর প্রধানসহ ৩২৮ জন জলদস্যু ও বনদস্যু ৪৬২টি অস্ত্র, ২২ হাজার ৫০৪টি গোলাবারুদ ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।

advertisement