advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

উন্নত করতে হবে মানবিক মূল্যবোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ জুলাই ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০১৯ ০০:১১
advertisement

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান বলেছেন, ট্র্যাডিশনাল সোসাইটি থেকে আমরা মর্ডানাইজেশনের দিকে যাচ্ছি। আমাদের মধ্যে আগের যে পশুপ্রবৃত্তিগুলো ছিল সেগুলো নানাভাবে দমন হয়েছে। কিন্তু মর্ডানাইজেশন হওয়ার ফলে অনেক নেতিবাচক

‘গ্লোবাল এলিমেন্ট’ বর্তমানে আমাদের মধ্যে ঢুকে গেছে। এটি প্রচ- অস্থিরতা তৈরি করেছে। এ সময়টা আমাদের জন্য ক্রান্তিকাল। এ ক্রান্তিকালে সকলকে আরও বেশি মানবিক হতে হবে। মূল্যবোধগুলো আরও উন্নত করতে হবে। গতকাল আমাদের সময়কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. জিয়া বলেন, নব্বইয়ের দশকে আমরা দেখেছি, যখন জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় ছিল, তখন এলাকায় এলাকায় চায়নিজ কুড়াল দিয়ে মানুষকে কুপিয়ে ফেলে রাখা হতো। বল্লম দিয়ে মারামারি, ভয়ঙ্কর সহিংসতাÑ এসব আমরা দেখেছি। এখন সেসব নেই। তবে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে যে ধরনের অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তা নিয়ন্ত্রণে আমাদের বিকল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। এ ক্ষেত্রে পরিবার, কমিউনিটি অর্গানাইজেশন এখন আগের ভূমিকা পালন করতে পারছে না।

তিনি বলেন, আমেরিকা-ইউরোপে হঠাৎ উত্তেজিত হওয়া, মানুষকে কিল-ঘুষি, চড়-থাপ্পড় দেওয়া, গালিগালাজ করাÑ এসব দেখা যায় না। এসবকে তারা কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে। নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম হলোÑ সামাজিকীকরণ, স্কুলিং ইত্যাদি। এ ছাড়া রাষ্ট্রের বিধান অনুযায়ী অন্যায় করলে কঠোর শাস্তি নিশ্চিতের ব্যবস্থা রয়েছে। আমাদের দেশেও অপরাধের প্রবৃত্তি দমনে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অনুশাসন প্রয়োজন। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের ট্র্যাডিশনাল সোসাইটিতে এ জিনিসগুলোর দারুণ অভাব দেখা যাচ্ছে। তাই যত্রতত্র অপরাধমূলক কর্মকা-ের পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে।

এ অপরাধবিজ্ঞানী বলেন, এখন কিশোর-তরুণেরা অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠছে। আগে এরা এদিক-সেদিক চলাফেরা করলে টিসির ব্যবস্থা ছিল। তখন টিসি একটা ভয়ঙ্কর বিষয় ছিল। ভয়ভীতিটা আগে প্রচ- রকমভাবে কাজ করত। এখন সে অনুশাসনগুলো একেবারে আলাদা হয়ে গেছে। ফলে আমরা অনেকটা অসহায় হয়ে গেছি। বাবা-মা পরিবারে যে অনুশাসনগুলো ছেলেমেয়েদের দিতেন, সেটি এখন কোনোভাবেই দিতে পারেন না। ফলে নতুন নতুন উপসর্গ দেখতে পাচ্ছি। বাবা ছেলেকে মেরে ফেলছে, ছেলে বাবাকে মেরে ফেলছে। এক রিলেশনশিপ ভেঙে নতুন রিলেশনশিপ তৈরি করছে।

এ অনুশাসন ব্যবস্থা আমরা তৈরিতে ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের পুলিশ ব্যবস্থা, আমাদের কোর্ট, প্রিজন ইত্যাদি ঢেলে সাজাতে পারিনি। ফলে রাষ্ট্রীয়ভাবে যদি আমরা অনুশাসনের কথা বলি, তা হলে দেখতে পাব কোনো না কোনোভাবে পুলিশের দুর্নীতি, অনিয়ম চোখে পড়ছে। ভুক্তভোগীরা কোনোভাবে সাপোর্ট পাচ্ছে না। এসব দূর করার জন্য আমাদের আরও মানবিক হতে হবে। মূল্যবোধসম্পন্ন হতে হবে।