advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

জাহালমকা-ে দায়ী দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ জুলাই ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০১৯ ০০:১১
advertisement

টাঙ্গাইলের পাটকল শ্রমিক নিরাপরাধ জাহালামের কারাভোগের জন্য দুদকের তদন্ত কর্মকর্তাদের দায়ী করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। দুদকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির দেওয়া ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘জাহালমকে আবু সালেক হিসেবে শনাক্ত করার ভুলটি হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কারণে। আর দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভুল পথে চালিত করতে ভূমিকা রেখেছেন ব্র্যাক ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংকের কর্মকর্তারা এবং অ্যাকাউন্টের (ব্যাংক হিসাব) ভুয়া ব্যক্তিকে পরিচয়দানকারীরা। তবে সঠিক ঘটনা তথা সত্য উদ্ঘাটন করে আদালতের কাছে উপস্থাপন করাটাই তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্মকর্তাদের ওপর বা অন্য কারও ওপর এ দায়িত্ব অর্পণ করার কোনো সুযোগ নেই।’

গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের বেঞ্চে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান প্রতিবেদনটি দাখিল করেন। পরে দুদকের আইনজীবীর সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আগামী মঙ্গলবার বেলা ২টায় পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষে

ছিলেন আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান।

সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে আবু সালেক নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা করে দুদক। কিন্তু দুদকের ভুলে সালেকের বদলে তিন বছর ধরে কারাগারে কাটাতে হয় টাঙ্গাইলের জাহালমকে। এ নিয়ে গত ৩০ জানুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি সেদিন হাইকোর্টের উপরোক্ত বেঞ্চের নজরে আনেন আইনজীবী অমিত দাশ গুপ্ত। পরে আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন।

সব পক্ষের বক্তব্য শুনে গত ৩ ফেব্রুয়ারি নিরপরাধ পাটকল শ্রমিক জাহালমকে অর্থ জালিয়াতির মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে ওই দিনই মুক্তির নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী সেদিন সে মুক্তিও পান। এর পর গত ১৭ এপ্রিল পাটকল শ্রমিক নিরীহ জাহালমের বিনাদোষে তিন বছর কারাভোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন তলব করেন হাইকোর্ট।

সেই আদেশ অনুযায়ী দুদক প্রতিবেদন দাখিল করে। দুদকের তদন্ত কমিটির প্রধান আবুল হাসনাত মো. আবদুল ওয়াদুদের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তদন্তকারী কর্মকর্তাদের এটি লক্ষ্য করা উচিত ছিল যে, প্রথমে কিন্তু ব্যাংক কর্মকর্তা বা অ্যাকাউন্টের শনাক্তকারীরা আবু সালেককে শনাক্ত করতে কিংবা তাকে খুঁজে বের করতে তৎপর হয়নি। যখন তিনটি মামলার চার্জশিটে ব্যাংক কর্মকর্তাদের দায়ী করা হয়, তখন ব্যাংক কর্মকর্তারা বুঝতে পারে যে মূল আসামি আবু সালেককে খুঁজে বের করে দিতে না পারলে তারা নিশ্চিতভাবেই বাকি মামলাগুলোতেও আসামি হয়ে যাবে। তখন তারা যেভাবেই হোক আবু সালেককে খুঁজে বের করে দিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। যে কাজটি তদন্তকারী কর্মকর্তাদের করা উচিত ছিল, সে কাজটি করতে মাঠে নেমে পড়েন ব্যাংক কর্মকর্তারা। তারা যেনতেনভাবে একজন আবু সালেককে দুদকের সামনে হাজির করে ও তাকে আবু সালেক হিসেবে শনাক্ত করেন। এই ৩৩ মামলার আইওগণ কেউই সিরিয়াসভাবে মামলার তদন্ত করেনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলাগুলোতে প্রায় ১২ জন তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) তদন্ত করে তদন্ত রিপোর্ট কমিশনে দাখিল করেন। কিন্তু তাদের কেউই আসামি জাহালমের বাড়ি পরিদর্শন করেননি। আমি তদন্তকালে তার বাড়ি পরিদর্শন করেছি। তার বাড়িটির দৈন্যদশা এতটাই প্রকট যে, যে কোনো ব্যক্তিরই সন্দেহ হওয়া স্বাভাবিক যে, ১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত একজন ব্যক্তির বাড়ির এই দৈন্যদশা কেন? তার বাড়ি পরিদর্শন করলেই আইওদের মনে সন্দেহ দেখা দিত। জাহালমকে যখন দুদকের আইওগণ প্রথম দেখে, তখন সে একজন পাটকল শ্রমিক? এই প্রশ্নটি কেন আইওদের মনে এলো না। প্রতিবেদনে ১২ জন তদন্ত কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে বেশ কয়েক দফা সুপারিশ করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।