advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পাল্টে যাবে বিভিন্ন শহরের তাপমাত্রা

আমাদের সময় ডেস্ক
১২ জুলাই ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০১৯ ০১:৪৮
advertisement

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর সব মহাদেশেই তাপমাত্রার ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বৈশ্বিক উষ্ণতার দরুন হারিয়ে যেতে বসেছে ঋতু বৈচিত্র্য, যার মারাত্মক প্রভাব পড়েছে সব দেশেই। জলবায়ু পরিবর্তনের এই হার এখনই কমানো না গেলে মানবজাতির জন্য সামনে মারাত্মক বিপর্যয় অপেক্ষা করছে বলে হুশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন বিশেষজ্ঞরা।

এর মধ্যেই সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, জলবায়ুর এমন অবস্থা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ উল্টেপাল্টে যেতে পারে বিশ্বের সব বড় বড় শহরের তাপমাত্রা। যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সেখানকার জীবনযাত্রায়।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, জলবায়ু নিয়ে এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছে সুইজারল্যান্ডের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ইটিএইচ জুরিখ। যা গত বুধবার প্রকাশিত হয়েছে একটি বিজ্ঞান সাময়িকীতে। এক শহরের সঙ্গে অন্য শহরের জলবায়ুু ও আবহাওয়াগত মিল ধরে ধরে এই গবেষণা চালিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। আর তাতেই এই ভয়াবহ ফল বেরিয়ে এসেছে।

এক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা ১৯টি নির্ণায়ক ব্যবহার করে ৫২০টি বড় শহরের জলবায়ুূর ওপর এই গবেষণা করেছেন। এসব নির্ণায়ক তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের পরিবর্তনশীলতা নির্দেশ করে। গবেষণা প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, মাদ্রিদে এখন যে ধরনের জলবায়ুূ বর্তমান, ২০৫০ সাল নাগাদ লন্ডনের জলবায়ুও তেমন হবে।

প্যারিসের জলবায়ু পাল্টে হবে বর্তমানের ক্যানবেরার মতো, স্টকহমের হবে বুদাপেস্টের মতো। মস্কোর জলবায়ু রূপ নিতে পারে বর্তমানের সোফিয়ার কাছাকাছি। এ ছাড়া কুয়ালালামপুর, জাকার্তা ও সিঙ্গাপুরের মতো গ্রীষ্মম-লীয় অঞ্চলের বড় শহরগুলোর জলবায়ুতেও ওই সময়ে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটতে পারে। দেখা দিতে পারে চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া, তীব্র খরা।

তবে বিজ্ঞানীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, পরিবেশবান্ধব নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই শতাব্দীর মাঝামাঝি কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গমন স্থিতিশীল পর্যায়ে আনা হয়তো সম্ভব হবে। ওই সময়ে বৈশ্বিক তাপমাত্রা গড়ে ১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকতে পারে। সে অনুযায়ী, ২০৫০ সাল নাগাদ উত্তর গোলার্ধের শহরগুলোর তাপমাত্রা বিষুবরেখা থেকে কমপক্ষে হাজার কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত দেশগুলোর মতো হতে পারে।

তবে বিষুবরেখার কাছাকাছি থাকা শহরগুলোতে উষ্ণতার তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যাবে না। প্রতিবেদনটির প্রধান লেখক জ্যাঁ ফ্রাঁসিস ব্যাস্তিন বলেন, জলবায়ুু পরিবর্তনের কারণে কী হতে চলেছে সে বিষয়ে সবাইকে জানানোর জন্যই তাদের এই গবেষণা। এর মধ্য দিয়ে সঠিক পথ বেছে নিতে সবাইকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।