advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঘাতকের স্ত্রীর এজাহারে আসামি দেড় হাজার

শাহীন আলম,দেবিদ্বার
১২ জুলাই ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০১৯ ১২:৪৮
advertisement

কুমিল্লায় মা-ছেলেসহ প্রকাশ্যে তিনজনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। নিহত নাজমা বেগমের ছোটভাই মো. রুবেল হোসেন গতকাল বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় জনতার হাতে পিটুনিতে নিহত মো. মোখলেছুর রহমানকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।

অন্যদিকে মোখলেছুর রহমানকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে তার স্ত্রী রাবেয়া বেগমও একটি মামলা করেছেন। এ হত্যা মামলায় রাঁধানগর গ্রামের অজ্ঞাতনামা এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

দেবিদ্বার থানায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মামলা দুটি নথিভুক্ত করা হয়। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য ও ভীতিকর পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। এদিকে নৃশংস এই হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কুমিল্লা পুলিশলাইন থেকে অতিরিক্ত ১৬ নারী ও পুরুষ পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়। দেবিদ্বার থানার ওসি মো. জহিরুল আনোয়ার আমাদের সময়কে জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেবিদ্বার থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।

তবে মামলা দুটি অধিকতর তদন্ত ও হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কুমিল্লাকে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। ঘটনার সংবাদ পেয়ে বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতদের পরিবারকে সান্ত্বনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম।

এ সময় তিনি নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতাসহ তাদের খাদ্যসামগ্রীর ব্যবস্থা এবং আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব দেন। মোখলেছের জানাজা ও দাফনে এলাকাবাসীর বাধা এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় লাশ বহনকারী পিকআপ থেকে একে একে চারটি লাশ বের করা হয়। এ সময় লাশের স্বজনদের আহাজারি আর আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার নারী-পুরুষের চোখেও ছলছল পানি। গভীর ভালোবাসা যেন জমা পড়েছে নির্মমভাবে নিহত মা-ছেলে ও এক নারীর প্রতি। তেমনই ঘৃণা আর নিন্দার ঝড় ঘাতকের দিকে। উপস্থিত জনতা যখন ঘাতক মোখলেছের লাশ দেখতে পায়, তখনই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা এ এলাকায় ঘাতক মোখলেছের জানাজা ও লাশ দাফনের তীব্র প্রতিবাদ ও বাধা দেন।

লাশ দাফন না করার প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। পরে প্রায় দেড় ঘণ্টার পর দেবিদ্বার থানার ওসি জহিরুল আনোয়ারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ উত্তেজিত এলাকাবাসীকে শান্ত করেন। পরে তিনি নিহতদের আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্যদের সঙ্গে কথা বলে ঘাতক মোখলেছের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করেন। দেবিদ্বারের রাঁধানগর এলাকায় মোখলেছুর রহমান গত বুধবার সকাল ১০টায় ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নারী ও শিশুসহ তিনজনকে নির্মমভাবে হত্যা করেন।

এ সময় আরও সাতজনকে মারাত্মক জখম করেন। পরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা পেয়ে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা মোখলেছকে পিটিয়ে হত্যা করেন। তিনি পেশায় রিকশাচালক ছিলেন। মোখলেছের বাড়িতে অপরিচিত পাঁচ ব্যক্তি কারা তিনজনকে কুপিয়ে হত্যার এখনো কোনো রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। তবে ঘটনার পূর্বের রাতে ঘাতক মোখলেছের বাড়িতে অপরিচিত পাঁচ ব্যক্তিকে এবং ঘটনার দিন সকালে বোরকা পরিহিত এক মহিলাকে বাড়ির লোকজন দেখতে পায়।

ওরা কারা, কী তাদের পরিচয়, কেন মোখলেছের বাড়িতে তারা এলো? এ নিয়ে এলাকায় চলছে নানা গুঞ্জন। অপরিচিত পাঁচ ব্যক্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে নিহত মোখলেছের স্ত্রী রাবেয়া আক্তার বলেন, ঘটনার দিন সকালে আমি ঢাকা থেকে এসেছি। রাতে বা সকালে বাড়িতে কে আসে আমার জানা নেই। সুলতানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘাতক মোখলেছ একজন সাধারণ রিকশাচালক।

এর পরও তার বাড়িটি পাকা দালান! এর পেছনে রহস্য আছে। রিকশা চালানোর আড়ালে মাদককারবারে জড়িত কিনা তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ ছাড়া ঘটনার আগের রাতে তার ঘরে নারী-পুরুষসহ কয়েকজন অপরিচিত লোকও এসেছিল। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে তার স্ত্রী ও বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই এ ঘটনার রহস্য বেরিয়ে আসবে।

ওসি জহিরুল আনোয়ার জানান, পুলিশ হত্যাকা-ের রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর পেছনে যদি কোনো রহস্য থেকেও থাকে, তা খতিয়ে বের করা হবে।

advertisement