advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পেঁয়াজের দাম কমাতে ব্যবসায়ীদের নির্দেশ

আবু আলী
১২ জুলাই ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০১৯ ০০:১১
advertisement

পেঁয়াজের দাম কমাতে ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা দিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মো. মফিজুল ইসলাম। গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জরুরি বৈঠকে ব্যবসায়ীদের এমন নির্দেশনা দেন তিনি। খবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রের। বাণিজ্য সচিবের সভাপতিত্বে বৈঠকে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, কয়েক দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়েছে। বিষয়টি নজরে এসেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের। পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল করতে আমদানিকারক এবং পাইকারি বিক্রেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য সচিব প্রকৃত কারণ জানতে চান। এ সময় ব্যবসায়ীরা তাদের সমস্যার কথা জানান। সেক্ষেত্রে তারা পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে

বন্দরে ট্রাকজটকে দায়ী করেন। এ ছাড়া অন্যান্য পণ্যের (পাথর, কয়লা) ট্রাককে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ফলে বন্দরে পেঁয়াজের ট্রাক আটকে থাকে। সে বিষয়ে ব্যবসায়ীরা সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেন বাণিজ্য সচিব। তিনি বৈঠক থেকে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের নির্দেশনা দেন।

অন্যদিকে পেঁয়াজ নিয়ে যেন কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে সে দিকে কঠোর নজরদারি করতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কেউ যেন পেঁয়াজ মজুদ রাখতে না পারে সে বিষয়েও নজরদারি করবে। এ ছাড়া এ সময় মনিটরিং টিম পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের চালান দেখবেন।

বাণিজ্য সচিব মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, নিত্যপণ্য বিশেষ করে পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। পেঁয়াজের দাম বাড়ার বিষয়টি ব্যবসায়ীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কেন পেঁয়াজের দাম বাড়ছে সে বিষয়টি যাচাইয়ে বাজার মনিটরিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তিনি বলেন, পেঁয়াজ আমদানি হয় ভারত থেকে। সেখানে কেজিতে ১-২ টাকা দাম বেড়েছে। ওই হিসেবে দেশেও এক থেকে দুই টাকা দাম বাড়ার কথা। কিন্তু ২৫ টাকার পেঁয়াজ ৫০ টাকা হয় কিভাবে? বাণিজ্য সচিব বলেন, কারসাজি করে দাম বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ভোক্তা স্বার্থে দেশে আইনকানুন ও বিধিবিধান রয়েছে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টির প্রমাণ পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেবে সরকার।

জানা গেছে, রাজধানীর খুচরা বাজারে কয়েক দিনের ব্যবধানে ২৫ টাকার ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। ৩০ টাকার দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকায়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে বছরে ২৪ লাখ টন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। কোরবানির ঈদে বাড়তি প্রায় ২ লাখ টনের চাহিদা তৈরি হয়। প্রায় ১৭ লাখ টন দেশে উৎপাদিত হয়। বাকি সাত লাখ টন ভারত থেকে আমদানি করা হয়। এনবিআরের তথ্য মতে, চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। সে হিসাবে পেঁয়াজ ঘাটতি হওয়ার কথা নয়।

advertisement