advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিপদসীমা ছাড়িয়ে মাতামুহুরী শংখ তিস্তা সুরমার পানি

আমাদের সময় ডেস্ক
১২ জুলাই ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০১৯ ০০:১১
advertisement

টানা এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ধস এবং ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মাতামুহুরী, শংখ, সুরমা ও তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে পানি উঠে ও মাটি ধসে এবং বাঁধ ভেঙে বিভিন্ন উপজেলার সঙ্গে সদরের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে কয়েকশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পাহাড়ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের সরিয়ে নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। গত কয়েক দিন তিন পার্বত্য জেলায় বন্যার অবনতি হলেও এবার উত্তরের জেলাগুলোতেও পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদÑ

বান্দরবান : টানা ছয় দিনের অব্যাহত ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সাঙ্গু নদীর পানি বেড়ে বান্দরবানে দেখা দিয়েছে বন্যা। গতকাল সকাল থেকে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় তলিয়ে গেছে শহরের আর্মিপাড়া, ইসলামপুর, শেরেবাংলা নগর, উজানিপাড়া, মেম্বারপাড়া, ওয়াপদা ব্রিজ এলাকা, কাশেমপাড়াসহ বেশ কয়েকটি নিম্নাঞ্চল। এসব এলাকার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। এদিকে বাজালিয়ায় বড়দুয়ারায় সড়কের পানি না কমায় তৃতীয় দিনের মতো সারাদেশের সঙ্গে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

খাগড়াছড়ি : টানা বর্ষণে খাগড়াছড়িতে একাধিক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। মাটিরাঙা উপজেলার বেলছড়িতে একটি পরিত্যক্ত দোকানের ওপর পাহাড়ধসে পড়ে। তবে এতে কোনো ক্ষতি হয়নি।

রাঙামাটি : জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে উপজেলার অধিকাংশ রাস্তাঘাট, বাড়িঘর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় দুই হাজার পরিবার। খোলা হয়েছে

২৪টি আশ্রয়কেন্দ্র।

চট্টগ্রাম : শংখ নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা ৮ ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার নি¤œাঞ্চল তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ। শংখ নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে দোহাজারী ব্রিজ পয়েন্ট এলাকায় বিপদসীমা অতিক্রম করে নদীর তীরবতী এলাকার অধিকাংশ বাড়িতে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। চন্দনাইশের পাঠানীপুল এলাকায় রাস্তা ডুবে পানি অতিক্রম করছে। বর্ষণ অব্যাহত থাকলে যে কোনো সময় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পটিয়া উপজেলায় শ্রীমাই খালের বেড়িবাঁধ ভেঙে বসতঘর ও ক্ষেত-খামারসহ ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শ্রীমাই খালের পারের মানুষরা নির্ঘুম রাত যাপন করছেন। অনেকের বাড়িঘর শ্রীমাই খালের পানিতে তলিয়ে গেছে। বাড়িঘর পানিতে ডুবন্ত অবস্থায় থাকায় খালের পারের লোকজন মানবেতন জীবনযাপন করছেন।

কক্সবাজার : চকরিয়া উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে অভ্যন্তরীণ সড়ক। শতাধিক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গতকাল থেকে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসামীর ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একদিকে টানা বর্ষণ, অন্যদিকে বন্যায় জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। গ্রামীণ রাস্তাগুলো তলিয়ে গেছে পানিতে।

লালমনিরহাট : তিস্তা ও ধরলা নদীর চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়ে লালমনিরহাটে প্রায় ১২ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তিস্তার পানি প্রবাহ দোয়ানি পয়েন্টে বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার ও ধরলার পানি কুলাঘাট পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল দুপুর ১২টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৬৮ সেন্টিমিটার, যা স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার। বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। হাতীবান্ধা উপজেলার প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এ উপজেলায় তিস্তা নদীর পানি গতকাল বিকালে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

নীলফামারী : ডালিয়া পয়েন্টে গতকাল দুপুরে বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীর তীরবর্তী নীলফামারী জেলার ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার সাত ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি চরগ্রামের পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিস্তা ব্যারাজের সব কয়টি (৪৪টি) জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।

কুড়িগ্রাম : প্রায় এক সপ্তাহ ধরে থেমে থেমে ভারী বৃষ্টি চলছে। সূর্যের আলো দেখা যায়নি। ঘর থেকে বের হতে না পারায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শ্রমজীবী মানুষ পড়েছেন বিপাকে। এদিকে বৃষ্টির পানি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কুড়িগ্রামের সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রাজারহাট উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তার চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলের ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

সিলেট : গোয়াইনঘাট উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। অনেকের বসতঘরে পানি ওঠায় গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। পাশাপাশি অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকের পুকুরের পার ডুবে মাছ ভেসে গেছে।

সুনামগঞ্জ : গতকাল বিকাল ৩টায় সুনামগঞ্জের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৯৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সুনামগঞ্জের ছয় উপজেলা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, হাটবাজারসহ নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার, সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর ও সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বন্ধ হয়ে গেছে শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

মৌলভীবাজার : কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় গতকাল সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া অবিরাম বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। টানা বৃষ্টির কারণে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতর কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়ক ধারে বেশ কিছু গাছ শিকড়সহ উপড়ে পড়ায় কমলগঞ্জের সঙ্গে শ্রীমঙ্গলের সড়ক যোগাযোগ দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৫টায় শেষ খরব পাওয়া পর্যন্ত বন্ধ ছিল।

শেরপুর : প্রবল বর্ষণ ও সীমান্তের ওপার থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের প্রায় ২০ গ্রামের পাঁচ হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি রয়েছে।

advertisement