advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

জলাবদ্ধতা ও যানজটে অচল চট্টগ্রাম বিমানবন্দর সড়ক

চট্টগ্রাম ব্যুরো
১২ জুলাই ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০১৯ ০০:১১
advertisement

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে টানা চার দিনের বৃষ্টিতে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অভিমুখী প্রধান সড়কটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ভারী বৃষ্টিতে পানি জমে ও উন্নয়নকাজের খোঁড়া গর্তের কারণে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের বড় একটি অংশের পরিস্থিতি এমন যে, এক কিলোমিটার পথ পার হতেই দেড় থেকে দুই ঘণ্টা লাগছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা গাড়ির দীর্ঘ সারি যানজটকে আরও তীব্র করেছে। যানজটের কারণে বন্দরে প্রবেশ করতে না পেরে গাড়ি ফিরে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পণ্য নিতে বন্দরে প্রবেশ করলেও বের হতে পারছে না। এতে বন্দরে স্বাভাবিক খালাস প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এ অবস্থায় গত চার দিন ধরে সময়মতো বিমানবন্দরে পৌঁছাতে না পারায় অনেক যাত্রীকে রেখেই ফ্লাইট গন্তব্যে চলে গেছে। বিমানযাত্রীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি ওই এলাকায় কারখানা-অফিসে কর্মরতরাও পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। তিনগুণ ভাড়া দিয়ে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছতে পারছেন না। বিশেষ করে সিইপিজেড, চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টম ও সিমেন্ট ক্রসিং এলাকার যাত্রীদের দুর্ভোগ বেশি। সময়মতো কাজে যোগ দিতে অনেকেই গাড়ি থেকে নেমে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছেন।

গত রবিবার রাত থেকে চট্টগ্রাম নগরীতে মুষলধারে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। সোমবার সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে নগরীর কয়েকটি সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যেসব সড়ক দিয়ে যানবাহন চলছিল, পানি মাড়িয়ে চলতে গিয়ে সেগুলোর গতি শ্লথ হয়ে যায়। গতকাল পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় নগরীর বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে যায়। ফলে সড়কের অবস্থা নাজুক হতে থাকে। সৃষ্টি হয় বড় বড় গর্তের। সিএনজি অটোরিকশাচালক মোহাম্মদ শফিউল্লাহ আমাদের সময়কে

বলেন, গতকাল ফজরের নামাজ পড়ে টাইগার পাস থেকে পতেঙ্গা নেভি হাসপাতাল গেটের উদ্দেশে রওনা দিই। আড়াইশ টাকার ভাড়ার জন্য পাঁচ ঘণ্টা ব্যয় করতে হয়েছে। নগরীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত এবং নগরীর অধিকাংশ সড়কের অবস্থা নাজুক। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অর্ধেক ভাড়াও আদায় করতে পারছি না।

সিইপিজেড এলাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আতিকুর রহমান জানান, গতকাল নগরীর বহদ্দারহাটের বাসা থেকে বের হয়ে কর্মস্থলে পৌঁছতে পাঁচ ঘণ্টা সময় লেগেছে। গত সোমবার থেকে প্রতিদিন এ অবস্থায় অফিসে যেতে হচ্ছে। ফলে সময়মতো অফিসে পৌঁছা সম্ভব হচ্ছে না।

চট্টগ্রাম কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম সহসম্পাদক আশরাফুল হক খান স্বপন আমাদের সময়কে বলেন, যানজটের কারণে বন্দর থেকে পণ্য নিতে আসা কয়েকটি গাড়ির যাত্রা বাতিল করতে হয়েছে। গতকাল দুপুর ১২টা থেকে অপেক্ষা করে রাত পৌনে ৮টা পর্যন্ত বন্দরে প্রবেশ করতে পারেননি। অথচ বন্দর গেট থেকে মাত্র দুই থেকে আড়াই কিলোমটার দূরত্বে গাড়ি অবস্থান করছে বলে চালক জানিয়েছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, যানজটের কারণে আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহনে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হবে। অন্যদিকে রপ্তানিযোগ্য পণ্য বিশেষ করে পোশাকশিল্পের কনটেইনার নির্ধারিত সময়ে জাহাজীকরণ সম্ভব না হলে বিদেশি ক্রেতা অর্ডার বাতিল করতে পারে। অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় আমদানি পণ্য বাজারে না পৌঁছলে মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে।

তিনি বলেন, বৈরী আবহাওয়া, অতিবর্ষণে রাস্তায় জলবদ্ধতা, সিটি করপোরেশন, ওয়াসা কর্তৃপক্ষের সড়ক উন্নয়নে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে সড়কের বিভিন্ন জায়গায় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। তাই বন্দরের সামনে বারিক বিল্ডিং মোড় থেকে সিমেন্ট ক্রসিং পর্যন্ত প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। দীর্ঘ যানজটের কারণে ১৫ মিনিটের রাস্তা পার হতে তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় লাগছে।

জুলাই মাসে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ করে সৃষ্ট গর্তগুলো ভরাট করে বন্দরমুখী যানবাহন চলাচলে সহায়তা করতে উন্নয়নকাজে জড়িত ওয়াসা, সিটি করপোরেশন এবং সিডিএসহ সব বিভাগকে অনুরোধ জানান তিনি।