advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

শিশুদের মারাত্মক সমস্যা অটিজম

ডা. শাহনেওয়াজ চৌধুরী,আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার
১২ জুলাই ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০১৯ ০১:০৫
advertisement

‘অটিজম’ শব্দের অর্থ-পারিপার্শ্বিক জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজস্ব জগতে আবদ্ধ থাকা। ইংরেজিতে একে বলা হয়-‘সিম্পটম কমপ্লেক্স’। অটিস্টিক শিশুর বৈশিষ্ট্য : এরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোলে চড়তে চায় না, ভাব বিনিময় করতে চায় না। এ ধরনের শিশুরা অপরের সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক স্থাপন করতে চায় না ঠিক, তবে তাদের আবেগ নেই-এ কথা বলা যাবে না।

অটিস্টিক শিশুরা একনাগাড়ে হাত বা মুখ নাড়ে। এটি মুদ্রাদোষ। এ ধরনের শিশুরা শব্দ বা আওয়াজে বিরক্ত বোধ করে। শব্দ বেশি হলে তারা কান চেপে ধরে, বসে বসে দুলতে পছন্দ করে। এরা তাদের পরিচিত জগতের জিনিসপত্র অদল-বদল পছন্দ করে না। তেমন হলে এরা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। খেলনার পরিবর্তে অন্য কিছু নিয়ে খেলতে পছন্দ করে।

এরা স্বনির্ভর জীবন-যাপনে অভ্যস্ত। অটিস্টিক শিশুদের আয়ু, বুদ্ধি, স্মৃতিশক্তি সুস্থ মানুষের মতোই স্বাভাবিক। এরা পা উঁচু করে তালুতে ভর করে চলতে পছন্দ করে। অনেকে পাঁচ-ছয় বছর বয়স পর্যন্ত চঞ্চল হয়ে থাকে। অকারণে চিৎকার করতে পছন্দ করে। অটিস্টিক শিশুরা কথা কম বলতে পছন্দ করে। বললেও একই কথার পুনরাবৃত্তি করে এবং তৃতীয় ব্যক্তির ওপর ভর করে কথা বলে। যেমন, ও করেছে। ওরা মেরেছে।

আলাদা করবেন যেভাবে : অটিস্টিক ও বধির শিশু এক নয়। এ দুধরনের শিশুর মধ্যে পার্থক্য হলো-অটিস্টিক শিশু শুনতে পায়। বধির শিশু শুনতে পায় না। একটি পরীক্ষার মাধ্যমে উভয়কে আলাদা করা যায়। এ দুধরনের শিশুকে এক খাটে শোয়ান। পাশে একটি ঘণ্টা রাখুন। এবার পিন দিয়ে দুই শিশুর পায়ের পাতায় হালকা করে খোঁচা দিন, যেন সে অনুভব করতে পারে। একজন পিন দিয়ে খোঁচা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরেকজন ঘণ্টা বাজান। এভাবে কিছুক্ষণ করতে থাকুন। খোঁচা দিতেই দুই শিশু পা টেনে নেবে বা সরিয়ে নেবে।

আরও কিছুক্ষণ পরে পিন দিয়ে খোঁচা না দিয়ে শুধু ঘণ্টা বাজান। দেখা যাবে, অটিস্টিক শিশু কেবল ঘণ্টা শুনেই পা সরিয়ে নিচ্ছে। কেননা ইতোমধ্যে তার ধারণা জন্মেছে, পিনের খোঁচার সঙ্গে ঘণ্টা ধ্বনির একটা সম্পর্ক রয়েছে এবং দুটোরই সমান অনুভূতি। এ ধারণা থেকে সে পা সরিয়ে নেবে। আর শুধু ঘণ্টা বাজালে বধির শিশুটি পা সরিয়ে নেবে না। কেননা সে ঘণ্টার ধ্বনি শুনতেই পাবে না।

এ ধরনের পরীক্ষার নাম-কন্ডিশনড রেসপন্স বা সংযোজিত প্রতিক্রিয়া। চিকিৎসা : ওষুধের মাধ্যমে এর চিকিৎসা সম্ভব নয়। তবে চঞ্চলতা কমানোর ওষুধ দেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া আচরণগত উৎকর্ষের মাধ্যমে এদের শান্ত এবং ভালো আচরণ তৈরি করা যায়। আপনজনদের করণীয় : অটিস্টিক শিশুকে সময় দিন। তার রুচি, পছন্দ-অপছন্দের গুরুত্ব দিন। এ ধরনের শিশুর ওপর কোনো অবস্থায় বিরক্ত হবেন না। তাতে তার জেদ আরও বাড়বে। অন্য সন্তানের মতোই সমান চোখে দেখবেন। কোনো অবস্থায় আপনার অটিস্টিক শিশুটির চোখে যেন কোনো বৈষম্য ধরা না পড়ে।

লেখক : আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার শাহজাহান জেনারেল হাসপাতাল কলেজ রোড, সুবিদখালী, মির্জাগঞ্জ, পটুয়াখালী। ০১৭২২০৪১৯৫৯

advertisement