advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আর্চার রশিদ ওকসের গল্পটি চমৎকার

মাইদুল আলম বাবু, এজবাস্টন থেকে
১২ জুলাই ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০১৯ ০০:১৩
advertisement

ইংল্যান্ডের যুদ্ধশালায় মার্ক উড, ওকস, স্টোকস ও প্লানকেটের মতো পেসাররা দীর্ঘদিন ধরেই সর্বোচ্চটা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে এই পথচলায় একটু পরিবর্তন ঘটে এ বিশ্বকাপে। ২৪ বছর বয়সী এক তরুণকে উড়িয়ে আনে ইংল্যান্ড। জফরা আর্চারের গতিতে ভড়কে যায় বিশ্ব। ডান-হাতি এই ফাস্ট বোলার ও লেগ স্পিনার রশিদ খান আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে দেন। এতদিন বেশ ভালোই নজরে পড়ছিল। গতকাল গল্পটি আলাদা মাত্রা পেল। সেমিফাইনালের মঞ্চে আর্চার ও রশিদ ইংল্যান্ডকে ফাইনালের মঞ্চে যেতে প্রশস্ত পথ করে দিলেন।

অস্ট্রেলিয়া টসে জিতে ব্যাটিং নিয়ে একটি ‘মহাধরা’ খেয়েছে। যদিও সকালে চকচকে রোদেলা আকাশের নিচে খেলা। উইকেটও ব্রাউন কালারের। ফলে এমন উইকেটে প্রচুর রান হবে ভেবেই এ সিদ্ধান্ত অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চের। ওপেনিংয়ে অস্ট্রেলিয়া এই বিশ্বকাপে ওয়ার্নার ও ফিঞ্চ ভালো সার্ভিস দিয়েছেন। কাল ওকস-আর্চার সে সুযোগ দেননি। অ্যারন ফিঞ্চকে নিজের প্রথম ডেলিভারিতে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন আর্চার। এজবাস্টনের গ্যালারিতে তখন পাগলা নাচন চলে। ওকসের পরের ওভারে দুর্দান্ত বাউন্সার খেলতে পারেননি ওয়ার্নার। ব্যাটে বল লেগে চলে যায় ফাস্ট সিøপে। পিটার হ্যান্ডসকম্ব বোল্ড ৪ রানে। ১৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল অস্ট্রেলিয়া। এ সময় স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি দায়িত্ব নেন।

অস্ট্রেলিয়ার স্মিথ চাপে ভালো খেলেন। বল টেম্পারিংয়ের ঝামেলায় এক বছর নিষিদ্ধ ছিলেন। কালও ইংল্যান্ডের সমর্থকরা দুয়ো ধ্বনি দিয়েছে। তিনি অটুট ছিলেন। ক্যারি ও স্মিথ জমে গিয়েছিলেন উইকেটে। ১০৩ রানে জুটি ছিল এটি। মনে হচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া হয়তো বেরিয়ে যাবে। রশিদ ক্যারিকে আউট করে সেটি হতে দেননি। অস্ট্রেলিয়া আবার টালমাটাল হয়ে যায়। রশিদ ৩ উইকেট নেন। ম্যাক্সওয়েল এসে আইপিএল স্টাইলে ব্যাটিং শুরু করেন। তাকে আর্চার আউট করে সাজঘরে ফেরান আগভাগে। ২২ রানে ম্যাক্সওয়েল, ক্যারি ৩৬ রানে ফেরেন। অস্ট্রেলিয়া শুধু দাঁড়িয়ে ছিল স্মিথে ভর করে। যিনি ৮৫ রানে আউট হন। আর শেষে স্টার্ক ২৯ রানের ইনিংস খেললে কিছুটা বাঁচার উপায় আসে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ২২৪ রান টার্গেট। লড়াই হতেও পারে এমন বিশ্বাস ছিল। দলটির নাম যে অস্ট্রেলিয়া।

আর্চার ও রশিদের পাশাপাশি ওকসও ভালো বল করেছেন। তবে রশিদ ও আর্চার ভাইটাল উইকেট পেয়েছেন। ১০ ওভারে ৩২ রানে ২ উইকেট আর্চারের। আর রশিদ পেয়েছেন ৩ উইকেট ৫৪ রান খরচ করে। ৮ ওভারে ২০ রান দিয়ে ৩ উইকেট ছিল ওকসের। স্বাভাবিকভাবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া ডানা মেলতে পারেনি সেভাবে।