advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রোডসের নীরব প্রস্থান

ক্রীড়া প্রতিবেদক
১২ জুলাই ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০১৯ ০০:১৩
advertisement

বিদায়ক্ষণে একটা কথাও বললেন না স্টিভ রোডস। আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ-পর্বটা নীরবেই শেষ হলো তার। বিদায়বেলায় তার বিষণœ মুখটা দেখে মনে হয়েছে, এভাবে বিদায় নিতে তিনি চাননি।

২০১৯ বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। টাইগারদের প্রথম লক্ষ্য ছিল সেমিফাইনাল। তবে প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে। অষ্টম স্থানে থেকে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে দেশে ফিরেছে টাইগাররা। এর পরই প্রধান কোচ স্টিভ রোডসের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা বিসিবির তরফ থেকে জানানো হয়। চন্ডিকা হাথুরুসিংহে চলে যাওয়ার পর ২০১৮ সালের জুনে প্রায় ২৩ হাজার ডলার বেতনে ২০২০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত বিসিবি রোডসকে জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব দেয়। তার প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর। রোডসকে নিয়ে অসন্তুষ্টি ছিল বোর্ড কর্তাদের। তারা মনে করেছেন, জাতীয় দলের কোচ হওয়ার মতো যথেষ্ট যোগ্যতা নেই উস্টারশায়ারের সাবেক এ কোচের। তাই তো মেয়াদ শেষের আগেই তার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কখনই গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলেননি রোডস। বরং হাসিমুখে সব সময় কথা বলেছেন। সব প্রশ্নের দিয়েছেন উত্তর। তবে বিদায়লগ্নে কিছুই বললেন না। মুখে তালা মেরে রেখেছিলেন ইংলিশ কোচ! প্রসঙ্গত টাইগারদের প্রধান কোচের দায়িত্ব নিতে গত বছরের ১৯ জুন ঢাকায় এসেছিলেন রোডস।

দায়িত্ব নেওয়ার দিনে মুখে চওড়া হাসি ছিল রোডসের। বিদায়লগ্নে সে মুখে মেঘের আনাগোনা। বিসিবির সিইওর সঙ্গে দেখা করেছেন। গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত থাকলেও তাদের এড়িয়ে গেছেন। একটা কথাও বলেননি। বিসিবির তরফ থেকে বলা হচ্ছে, ‘এটা পারস্পরিক সমঝোতার বিচ্ছেদ।’

বিসিবির সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেন, ‘তিনি (রোডস) বলেছেন, সব সময়ই বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য শুভকামনা থাকবে।’ বুধবার লন্ডনে ইন্টার পার্লামেন্টারি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, শ্রীলংকা সিরিজে দায়িত্ব পালন করতে পারেন রোডস। এর পর দিনই আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেন টাইগার কোচ। বিসিবির সিইও বলেন, ‘আমরা আগেও বলেছি যে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি হয়েছে। কিছু টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনস থাকে। বোর্ড সভাপতি সেটাই বলেছেন যে, আলটিমেটলি তিনি কবে যাবেন বা কী করবেন সেটি তারই সিদ্ধান্ত। সেটি আমাদের কাল জানিয়েছেন এবং আমরাও সভাপতিকে রাতে জানিয়েছি বিষয়টি যে তিনি আজকে চলে যেতে চাচ্ছেন।’

বিসিবি রোডসের কাজের মূল্যায়ন করছে কীভাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আসলে আপনারা যেভাবে মূল্যায়ন করেন আমরাও সেভাবে মূল্যায়ন করব। ফল দিয়েই তো কোচের মূল্যায়ন হয়। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই কিছু ভালো ফল তো আমাদের ছিল।’ নতুন কোচ প্রসঙ্গে সিইও বলেন, ‘এ বিষয়ে কাজ চলছে। আমরা বিভিন্ন সোর্স থেকে চেষ্টা করছি, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাদের কোচিং পজিশনে যে ঘাটতিগুলো আছে সেগুলো পূরণ করার জন্য।’