advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সন্তানদের উত্তম শিক্ষায় গড়ে তুলি

মাহমুদ আহমদ
১২ জুলাই ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০১৯ ০০:১৩
advertisement

জন্মের পর মানুষকে শিক্ষালাভ, চরিত্র গঠন ও জীবনধারণের জন্য বিবিধ কাজে নিয়োজিত থাকতে হয় আর চলার এই পথে সদাচরণ, বিনয়, নম্রতা ইত্যাদির সমন্বয়ে স্বভাবে যে বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে, তাকে আদব-কায়দা বলে। এই আদব-কায়দা তথা চরিত্র গঠন প্রক্রিয়া জন্মলগ্ন থেকেই শুরু হয়ে যায়। এমনকি মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থায়ও পিতা-মাতার গুণাবলি সন্তানের মধ্যে বিকশিত হয়। তাই সন্তানের সুশিক্ষা ও তরবিয়তে পিতা-মাতার ভূমিকা অনস্বীকার্য। সন্তানসন্ততি পিতা-মাতার দর্পণস্বরূপ। পিতা-মাতা তাদের সঙ্গে যে ব্যবহার করবেন, তাদের মধ্যেও সেই চারিত্রিক গুণাবলি বিকশিত হবে। শিষ্টাচারপূর্ণ আচার-আচরণ শেখার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত। মহানবী (সা.) পিতা-মাতাদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘কোনো পিতা তার পুত্রকে উত্তম শিষ্টাচার অপেক্ষা অধিক শ্রেয় আর কোনো বস্তু দান করতে পারে না’ (তিরমিজি)। তাই পিতা-মাতার উচিত হবে সন্তানদের উত্তম শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলা।

হাদিসে উল্লেখ আছে, এক সাহাবি মহানবী (সা.)-এর কাছে এসে বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! সন্তানের ওপর পিতা-মাতার কি হক বা দাবি আছে? তিনি (সা.) বললেন, তারা উভয়েই তোমার বেহেশতও এবং দোযখও’ (ইবনে মাজাহ)। সন্তান ভালো হবে না খারাপ হবে, তা নির্ভর করে পিতা-মাতার কাছে। সন্তান যে পরিবেশে বড় হবে, তাই সে শিখবে। পিতা-মাতা যদি আদর্শবান হোন এবং ধর্মীয় নিয়মকানুন অনুযায়ী চলেন এবং সন্তানকে সুশিক্ষা দিয়ে গড়ে তোলেন, তা হলে সন্তান অবশ্যই ভালো হবে। আল্লাহতায়ালা এ পৃথিবীতে ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি দিয়ে থাকেন পরীক্ষা করার জন্য। অনেককে আল্লাহতায়ালা প্রচুর ধনসম্পদ দান করেন ঠিকই, কিন্তু সেই ধনসম্পত্তির সঠিক ব্যবহার না করার ফলে দেখা যায় সে ধ্বংস হয়ে যায় আবার কাউকে সন্তানসন্ততি দেন ঠিকই, কিন্তু তাদের সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত না করার ফলে এই সন্তান তার জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়।

সন্তানসন্ততি যদি প্রকৃত নৈতিক গুণসম্পন্ন না হয়, তা হলে মাতা-পিতার জন্য তা একটি আজাব ছাড়া কিছুই না। জীবনবিধান আল কোরআনের সুরা কাহাফের ৪৬ আয়াতে বলা হয়েছে, ‘ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি দুনিয়ার সৌন্দর্য। এ সন্তানসন্ততি যদি আদর্শ চরিত্রের না হয়, তা হলে তা হয় মা-বাবার জন্য পরীক্ষার কারণ, দুঃখের বোঝা।’ আর এ জন্যই আল্লাহতায়ালা কোরআন করিমে মুমিনদের হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ‘আর জেনে রাখো, তোমাদের ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি পরীক্ষার কারণ (সুরা আনফাল, আয়াত : ২৭)। আরও বলা হয়েছে, ‘হে যারা ইমান এনেছ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবারদের আগুন থেকে বাঁচাও’ (সুরা তাহরিম, আয়াত : ৬)। প্রতিদিন পত্রিকার পাতায় যে খবরটি নিয়মিত থাকেই তা হলো চুরি, ডাকাতি, ধর্ষণ, হত্যা ইত্যাদি। সন্তানসন্ততি আল্লাহতায়ালার দান। কোনো সন্তানই জন্ম থেকে খারাপ হয় না। পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা পিতা-মাতার অবহেলার কারণেই সন্তান মন্দ পথে পা বাড়ায়। এ জন্য প্রত্যেক পিতা-মাতার দায়িত্ব হলো সন্তানকে একেবারে শৈশব থেকেই ধর্মীয় আদব-কায়দা শেখানো। কোনটা ভালো আর কোনটা মন্দ, এ বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া। আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। কথায় আছে, কাঁচাতে না নোয়ালে বাঁশ, পাকলে করে ঠাস ঠাস। কথাটি খুবই মূল্যবান। কাদামাটি উত্তমরূপে ছেনে সুন্দর ছাঁচে ফেলে যেমন ইচ্ছামতো সুদৃশ্য জিনিস তৈরি করা যায়, তেমনি মানবের শৈশবকালে উত্তম শিক্ষার মাধ্যমে উত্তম মানুষ তৈরি করা সম্ভব।

য় মাহমুদ আহমদ : ইসলামি গবেষক ও কলাম লেখক

advertisement