advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রশংসিত বাংলাদেশের দায় আরও বাড়ল

১২ জুলাই ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ১২ জুলাই ২০১৯ ০০:১৩
advertisement

গত মঙ্গল ও বুধবার রাজধানী ঢাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ঠেকাতে উচ্চ পর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপ্টেশন বা জলবায়ুবিষয়ক বৈশ্বিক অভিযোজন কমিশনের (জিএসএ) বৈঠকে যোগ দিতে বাংলাদেশে এসেছিলেন কমিশনের চেয়ারম্যান, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় মার্শাল আইল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ড. হিলদা সি হেইনে এবং সম্মেলনের কো-চেয়ার ও বিশ্বব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রিস্টালিনা জর্জিওভা। সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তিনি অভিযোজন প্রক্রিয়ার যে কোনো উদ্যোগের সমস্যার দিকগুলো উল্লেখ করে জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় সঠিক অভিযোজন কৌশল গ্রহণের পাশাপশি সাশ্রয়ী পন্থা ও ঝুঁকি নিরসনব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেন। এ ধরনের প্রকল্পের ব্যাপারে তার আগ্রহের কথাও শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রয়াস এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন বান কি মুন। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের এ পর্যন্ত গৃহীত প্রয়াসকে তিনি ‘অলৌকিক’ আখ্যা দিয়ে এ দেশকে জলবায়ু অভিযোজনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘আমরা ঢাকায় এসেছি বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতা থেকে শিখতে।’ উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ২০০৯ সালে সারাবিশ্বে প্রথম দেশ হিসেবে জাতীয় অভিযোজন কর্মকৌশল ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে বিশ্ব নেতাদের প্রশংসা অর্জন করেছিল। সম্ভবত এসব কারণেই দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশেই জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক একটি বৈশ্বিক অভিযোজন কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব উচ্চ পর্যায়ে আলোচিত হচ্ছে।

এ ধরনের একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে স্বভাবতই রোহিঙ্গা সমস্যা উত্থাপিত হওয়ারই কথা। এবার বিশেষভাবে পরিবেশ ও জলবায়ুর ওপর যে ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে সে প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে ১১ লাখ শরণার্থীর চাপে কীভাবে কক্সবাজার অঞ্চলের বন, পাহাড়, পানিসহ সার্বিক প্রাকৃতিক-সামাজিক পরিবেশ হুমকির সম্মুখীন হয়েছে তা বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। সব রকম আন্তর্জাতিক ফোরামে প্রসঙ্গটি উত্থাপন জরুরি বলেই আমরা মনে করি। মিয়ানমার সরকার তাদের ফিরিয়ে নিতে ও পুনর্বাসনে আন্তরিক হবে এবং ত্বরিত ব্যবস্থা নিতেও বাধ্য হবে।

তবে এ কথাও সবাইকে মানতে হবে, আমরা বক্তৃতা ও বক্তব্যের অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেও জলবায়ু পরিবর্তন তহবিল পরিচালনা এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষতার পরিচয় দিতে পারিনি। মনে রাখতে হবে, বিশ্বসমাজ এ ব্যাপারে আমাদের দেশ ও প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের দিকে উচ্চ প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। সেটি দেশীয় প্রেক্ষাপটে যেমন, তেমনি বৈশ্বিক পটভূমিতেও প্রযোজ্য। তাই সফলভাবে সম্মেলন ও প্রচুর প্রতিশ্রুতিসহ বক্তব্য উপস্থাপনের পাশাপাশি যথাযথ কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নেও সফল হতে হবে।

advertisement