advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিভেদ সৃষ্টিকারী এমপিদের কড়াবার্তা শেখ হাসিনার

১২ জুলাই ২০১৯ ০০:৫৯
আপডেট: ১২ জুলাই ২০১৯ ০০:৫৯
advertisement

সংসদ সদস্যদের মধ্যে যারা নিজ নিজ এলাকার নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন, তাদের প্রতি কড়াবার্তা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিভেদ সৃষ্টিকারী দলীয় এমপিদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ব্যক্তিস্বার্থের জন্য যারা আওয়ামী লীগের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধাচ্ছে, তৃণমূলে বিভেদ সৃষ্টি করছে, স্থানীয় নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতা করছে; তারা আগামীতে দলীয় মনোনয়ন পাবে না। তাদের জায়গা আওয়ামী লীগে হবে না। তিনি এ সময় নবীন সংসদ সদস্য ও পুরনো সংসদ সদস্যদেরও বেশ কিছু গাইডলাইন দেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় সরকারি দলের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের এক সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত ও সংরক্ষিত আসনের প্রায় সব সদস্য প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য আমাদের সময়কে খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনীর পর রাত ৮টা ৪০ মিনিটে সভা শুরু হয়। চলে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা। সভার শুরুতেই জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুর-ই আলম চৌধুরী লিটনকে পুনরায় আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সেক্রেটারি নির্বাচিত করা হয়। এর আগে দশম জাতীয় সংসদে প্রথমবারের মতো সংসদীয় দলের এই পদে দায়িত্ব পান মাদারীপুরের এই
সংসদ সদস্য।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সংসদ সদস্যরা জানান, প্রধানমন্ত্রী মূলত দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন এমপিদের উদ্দেশে। সংসদীয় শৃঙ্খলা মেনে চলার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকায় দলীয় শৃঙ্খলা মেনে চলতেও এমপিদের নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। বিভেদ সৃষ্টিকারীদের কড়া বার্তা দেওয়ার সময় তিনি সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খানের নাম উল্লেখ করে বলেন, তিনি তার ভাইকে জেতানোর জন্য মাদারীপুরে না গেলেও পারতেন। সম্প্রতি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মাদারীপুর সদরে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ দের বিপক্ষে নির্বাচন করেন শাজাহান খানের আপন ছোট ভাই। এ নির্বাচনে শাজাহান খানের ভাই নির্বাচিত হন। আরও কয়েকটি নির্বাচন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্যদেরও সতর্ক করে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেকে আছে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য হয়ে নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে গ্রুপিং করেন। স্থানীয় এমপিদের সঙ্গে বিভেদ সৃষ্টি করে পরবর্তী সংসদ নির্বাচনে নিজেদের ‘আসন গোছানোর’ চেষ্টা করেন। তিনি এসব কাজ না করার নির্দেশনা দিয়ে বলেন, নারী এমপিরা যে বরাদ্দ পাবেন তা দিয়ে সংসদীয় আসন গোছানোর দরকার নেই। নিজ নিজ এলাকার নারীদের উন্নয়নে কাজ করবেন। নারী ভোটারদের জন্য কাজ করবেন।
এ ছাড়া বর্তমান সংসদের প্রায় ৬ মাস পার হওয়ার পরও দশম সংসদের যেসব মন্ত্রী-এমপি এখনো বাসা-অফিস খালি করেননি, তাদের দ্রুত তা খালি করার নির্দেশ দেন। এ ছাড়া প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় সামাজিক অপরাধ দমনে সংসদ সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। সংসদে বিএনপি এবং বিরোধী দলের এমপিদের সমালোচনা করার সময় সংসদীয় আদবকেতা মেনে চলতে বলেন সবাইকে।
নুর-ই আলম চৌধুরী সংসদীয় দলের সদস্যদের নিয়মিত সংসদের চাঁদা পরিশোধের আহ্বান জানান তার বক্তব্যে।