advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মুসলমানদের নিয়ে যেন কেউ খেলতে না পারে

১২ জুলাই ২০১৯ ০১:৫৯
আপডেট: ১২ জুলাই ২০১৯ ০১:৫৯
advertisement

মুসলিম উম্মাহর একসঙ্গে কাজ করা একান্তভাবে প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমরা যেন সারাবিশ্বে সবার সঙ্গে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে চলতে পারি। নিজেদের যে কোনো সমস্যা নিজেরাই সমাধান করতে পারি, যাতে অন্য কেউ মুসলমানদের ভাগ্য নিয়ে খেলতে না পারে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ঢাকা দ্য ওআইসি সিটি অব ট্যুরিজম-২০১৯’ উদযাপন উপলক্ষে দুদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান। খবর : বাসস।
ইসলামি পর্যটনকে ‘বিশ্ব বাণিজ্য ব্র্যান্ড’ হিসেবে বিকশিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ইসলামি পর্যটনকে বিশ্ব বাণিজ্য ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে সার্বিক প্রয়াস ও রোডম্যাপ অতি জরুরি। কারণ এর বাজার বার্ষিক ৮ দশমিক ৩ শতাংশ হারে বেড়ে ২০২১ সাল নাগাদ ২৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছবে।
প্রধানমন্ত্রী ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর মুসলিম পর্যটক ও পাশ্চাত্য দেশগুলোর জন্য কক্সবাজারে পৃথক পর্যটন স্পট তৈরির প্রস্তাব করেন। তিনি বঙ্গপোসাগরের নিকটবর্তী দেশগুলো নিয়ে বাংলাদেশের একটি নৌ-ট্যুরিজম রুট তৈরির পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র আ ম উবায়দুল মুকতাদির চৌধুরী, মন্ত্রণালয়টির সচিব এম মহিবুল হক ও ওআইসির সহকারী মহাসচিব মুসা কুলাকলিকায়া অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে ৪শ বছরের প্রাচীন নগরী ঢাকার মুসলিম ঐতিহ্য ও নিদর্শন নিয়ে একটি অডিও ভিজুয়াল প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে যোগদানকারী প্রায় ৩০টি দেশের পর্যটনমন্ত্রী ও তাদের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। ২০১৮ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ওআইসির পর্যটনমন্ত্রীদের ১০ম সম্মেলনে গৃহীত ‘ঢাকা ঘোষণা’য় ঢাকাকে ‘ওআইসি সিটি অব ট্যুরিজম-২০১৯’ হিসেবে নির্বাচন করা হয়। ৪ ওআইসিভুক্ত দেশের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শীর্ষস্থান দখল করে ঢাকা।
ঢাকাকে সিটি অব ট্যুরিজম ঘোষণা উদ্যাপনের জন্য আজ এবং আগামীকাল বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিদেশি পর্যটকদের জন্য ঢাকা ও এর আশপাশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক মুসলিম নিদর্শনগুলো পরিদর্শন, কনসার্ট এবং হাতিরঝিলে লেজার শো ও আতশবাজি প্রদর্শন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে ইসলামি অর্থনীতি সম্পর্কে বলেন, এটি বর্তমানে নবরূপে বিকাশ লাভ করছে। হালাল ফুডস, ইসলামি ফাইন্যান্স, হালাল ফার্মাসিউটিক্যালস ও প্রসাধনী, হালাল পর্যটন ইত্যাদি হচ্ছে ইসলামিক অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান খাত। এ খাতগুলো বিকাশের জন্য ওআইসি সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর সরকারি-বেসরকারি খাতের সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব একান্ত প্রয়োজন।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন, দেশের উন্নয়ন ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ অত্যন্ত জরুরি। মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর কল্যাণে ১৯৭৪ সালে লাহোরে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ওআইসি সম্মেলনে তিনি যোগদান করেন এবং বাংলাদেশ ওআইসির সদস্যপদ লাভ করে।

 

advertisement