advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ছেলেধরা সন্দেহে মানসিক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধাকে গণপিটুনি, গ্রেপ্তার ৫

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
১২ জুলাই ২০১৯ ১৫:৪৩ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০১৯ ১৫:৪৩
প্রতীকী ছবি
advertisement

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ছেলেধরা সন্দেহে মাহমুদা বেগম (৬০) নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধাকে গণপিটুনির ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তাদের গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের নারকেলতলা গ্রামে ওই বৃদ্ধাকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর রাতেই ফরিদগঞ্জ থানায় আহত বৃদ্ধার ছেলে মাহফুজ বাদী হয়ে ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আহত বৃদ্ধা মাহমুদা বেগম চাঁদপুর সদর উপজেলার পশ্চিম সকদি গ্রামের বিল্লাল মুন্সীর স্ত্রী।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-সুমন (২৮), জলিল (৫০), ইউছুপ (৩০), ইব্রাহীম (২৮) ও জসিম (২০)।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের নারকেলতলা গ্রামের নোয়া বাড়ির সামনে ওই বৃদ্ধাকে দেখে ছেলেধরা সন্দেহে বাড়ির লোকজন চিৎকার দেয়। এ সময় তাদের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসে। একপর্যায়ে ওই বৃদ্ধাকে বেঁধে রাস্তা দিয়ে নিয়ে যেতে যেতে বেধড়ক মারধর করে স্থানীয় লোকজন।

এক পর্যায়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গনি বাবুল পাটওয়ারীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করেন। পরে তার কাছে থাকা জিনিসপত্র খুঁজে তার পরিচয় সর্ম্পকে নিশ্চিত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে ওই বৃদ্ধাকে থানা নিয়ে যায়।

এরপর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বৃদ্ধার ছেলে মাহফুজ থানায় উপস্থিত হয়ে মাহমুদা বেগম তার মা বলে নিশ্চিত করেন। তবে গণপিটুনির একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়ে যায়। পরে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি দেখে পুলিশ গণপিটুনি দেওয়া পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।

বৃদ্ধার ছেলে মাহফুজ জানান, ২০০৫ সালে তার ছোট বোন নিখোঁজের পর থেকে তার মা মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। গত দুই দিন আগে তার মা বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন।

এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ থানার ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) অহিদুল ইসলাম জানান, ছেলেধরা সন্দেহে এভাবে গণপিটুনি দিয়ে আইন হাতে তুলে নেওয়া অপরাধ। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

advertisement