advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ভাসছে চকরিয়া-পেকুয়ার মানুষ, ২ দিনের অনাহার

মুকুল কান্তি দাশ,চকরিয়া
১২ জুলাই ২০১৯ ১৬:৪৯ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০১৯ ১৭:০০
advertisement

বানের পানিতে ভাসছে কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়ার মানুষ। দুই উপজেলার অন্তত ৮ লাখ মানুষের মধ্যে আনুমানিক ৭০ শতাংশ মানুষ পানিবন্দি। রান্না করতে না পেরে কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষ দুদিন ধরে খাবার খেতে পারেনি। সেইসঙ্গে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির। রাস্তাঘাঁট পানির নিচে তলিয়ে থাকায় ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে অনেকেই খাবার সংগ্রহ করছেন।

টানা ৮ দিনের বর্ষণে এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে এ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে বৃষ্টি কমলেও পানি এখনো পুরোপুরি নেমে যায়নি।

উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা শুকনো খাবার ও খিচুড়ি রান্না করে বানভাসী মানুষদের কাছে পৌঁছে দিলেও তা পর্যাপ্ত নয়। বন্যাকবলিত এলাকাগুলোর মধ্যে সড়কের পাশে থাকা দুর্গতরা এসব শুকনো খাবার পেলেও বেশিরভাগ মানুষই এই সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন। তাই বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত খাবার-বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানান দুর্গতরা।

চকরিয়ার পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়ন এবং পেকুয়ার সাতটির মধ্যে তিনটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। একটি পৌরসভা ও ২২টি ইউনিয়নের মধ্যে ২০ থেকে ২৫টি গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে যায়। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে ২ থেকে ৩ ফুট পানি রয়ে গেছে।

ওইসব পরিবারের লোকজন বলেন, বৃষ্টি কমলেও বন্যার পানি তেমন কমেনি। তাদের বাড়িতে পানীয়জল ও খাবার সংকট থাকলেও কোনো নেতা বা জনপ্রতিনিধিরা খোঁজ-খবর নেয়ার গরজ করেনি। অনুরুপভাবে অধিক প্লাবিত অপর গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের অবস্থাও একই।

গত শুক্রবার থেকে চকরিয়া-পেকুয়া, পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা ও আলীকদমে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। এই বৃষ্টির পানি রাতের দিকে মাতামুহুরী নদী দিয়ে নেমে আসে ভাটির দিকে। এসময় নদীর দুই কূল উপচে লামা-আলীকদম প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি চকরিয়ার সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, লক্ষ্যারচর, বরইতলী, সাহারবিল, চিরিংগা, কৈয়ারবিল, কোণাখালী, বিএমচর, ঢেমুশিয়া, পশ্চিম বড় ভেওলা, ফাঁসিয়াখালী ও  পৌরসভার অধিকাংশ এলাকা এবং পেকুয়া সদর, উজানটিয়া, মগনামাসহ বেশ ক’টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে যায়। 

কাকারা ইউপি চেয়ারম্যান শওকত ওসমান ও সুরাজপুর-মানিকপুরের ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক ও লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তাফা কাইছার জানান, বৃষ্টি কমলেও বন্যার পানি কমেনি। শতশত পরিবারে রান্নার কাজ বন্ধ রয়েছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে পানিবন্দি মানুষের মাঝে খিচুড়ি রান্না করে ও শুকনো খাবার দেয়া হচ্ছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয়। 

চকরিয়া পৌরসভার মেয়র মো.আলমগীর চৌধুরী বলেন, টানা বৃষ্টিতে শতাধিক পরিবার জলাবদ্ধতার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। মাতামুহুরী নদীর পানি কমতে শুরু করলে পৌর এলাকার যেসব ওয়ার্ডে পানি আটকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে আশা করি ওইসব পানি দ্রুত নেমে যাবে।

চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলুল করিম সাঈদী শুক্রবার সকালে থেকে তার নিজস্ব তহবিল থেকে বন্যাকবলিত এলাকায় চাল-ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌছে দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘বন্যার পানি কমে না যাওয়া পর্যন্ত দুর্গতদের শুকনো খাবারের পাশাপাশি চাল-ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। বন্যা পানি নেমে গেলে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে করণীয় ঠিক করা হবে।’ 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান ও পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহাবুব-উল করিম বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব শুকনো খাবার বন্যাকবলিত এলাকায় পৌছে দিচ্ছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। প্রশাসনের লোকজনও কাজ করছে।’