advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দেশে কোথায় কী ঘটছে, খবর নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ জুলাই ২০১৯ ১৯:৫০ | আপডেট: ১৩ জুলাই ২০১৯ ০১:২৮
গণভবনে দলের উপদেষ্টা পরিষদ ও কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : ফোকাস বাংলা
advertisement

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি-বন্যা হচ্ছে। নদী ভাঙন বা পাহাড় ধসের ঘটনাও ঘটতে পারে। এই অবস্থায় সারা দেশে কোথায় কী হচ্ছে, কী ঘটছে সে খবর নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ শুক্রবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দলের উপদেষ্টা পরিষদ ও কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ কথা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন বৃষ্টি হচ্ছে, বন্যা হচ্ছে, কোথাও নদী ভাঙ্গন হতে পারে বা পাহাড়ে ধস নামতে পারে। আমরা কিন্তু প্রতিনিয়ত সারা দেশে কোথায় কী ঘটছে, খবর নিচ্ছি। যেখানে যার যেটা দায়িত্ব, দেওয়া আছে। তারা সঙ্গে সঙ্গে সে দায়িত্ব পালন করছেন। এখানে এতটুকু শৈথিল্য নেই।’

এ সময় ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের একটি ঘটনার কথা স্মরণ করেন শেখ হাসিনা। উপস্থিত ব্যক্তিবর্গকে সে কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘৯১ সালে যখন প্রবল ঘুর্ণিঝড় হয়, তখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। তারা জানেই না বড় একটা ঘূর্ণিঝড় হয়েছে, কত মানুষ মারা গেছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, “পার্লামেন্টে আমি বললাম, ঘুর্ণিঝড় হয়েছে; এত মানুষ তখন মারা গেছে। তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া পার্লামেন্টে বলে দিলেন, ‘যত মানুষ মরার কথা ছিল, তত মানুষ মরে নাই।’ আমি জিজ্ঞেস করতে বাধ্য হলাম, “কত মানুষ মরলে আপনার তত মানুষ হবে বলেন”;  এ ছাড়া বলার মত কিছু ছিল না। কারণ, উনি জানেনই না। এই যে একটা দূর্যোগ আসলে সিগন্যাল দেওয়া হচ্ছে, কিচ্ছু জানেনই না।’

দূর্যোগ মোকাবিলায় আওয়ামী লীগ সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা কিন্তু অবহেলা করে রাষ্ট্র পরিচালনা করি না। আমরা মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে, মানুষের বিপদে তাদের পাশে দাঁড়ানো, মানুষের কল্যাণে ও উন্নয়নে কাজ করা এই নীতি নিয়ে আমরা কাজ করি বলেই আজকে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। তবে আমাদের দলের নেতাকর্মীদেরকেও সবসময় সক্রিয় থাকতে হবে।’

দেশের উন্নয়নের যাত্রাপথে নানা বাঁধা বিপত্তির কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি আরও বলেন, ‘আমাদের চলার পথ কিন্তু খুব সহজ ছিল না। প্রতি পদে পদে বাঁধা, অগ্নি-সন্ত্রাস, খুন, নির্যাতন অনেক কিছু সহ্য করতে হয়েছে। তারপরেও আমরা কিন্তু এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি। দেশের উন্নয়নের ধারাটা ধীরে ধীরে অব্যাহত রেখেছি। এই ১০ বছরে আমরা কিন্তু হোঁচট খাইনি কিংবা পিছিয়ে যাইনি, আবার হঠাৎ করেও লাফ দিইনি। আমরা আরও সামনে যেতে চাই। বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়তে চাই।’

দেশের উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক শক্তি, সাংগঠনিক শক্তি ও জনগণের সমর্থন প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৮১ সালে বাংলাদেশে এসে বহু আন্দোলন-সংগ্রাম করে আমরা সরকার গঠন করেছি। দেশটাকে এগিয়ে নিতে পেরেছি। এর পেছনে মূল শক্তিটাই ছিল দেশের জনগণ, তাদের সমর্থন। আর অবশ্যই মহান আল্লাহর রহমত ছিল।’

উন্নয়নে সঠিক পরিকল্পনার প্রয়োজনীতার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে সরকারে আসলে কী করব? কোথায় যাব? সেগুলোর সবকিছু মোটামুটি একটা পরিকল্পনা আমাদের তৈরি করা ছিল বলেই সরকারে আসার পর আমরা কাজগুলো করতে পেরেছি। যার কারণে দেশটা এতদূরে আনতে পেরেছি। আগামী দিনে দেশকে আমরা কোথায় নিয়ে যাব? সে পরিকল্পনাও আমাদের আছে।’

দলের উপদেষ্টাদের ‘থিঙ্ক ট্যাঙ্ক’ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে উপদেষ্টাদের আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার অনুরোধ করছি। আপনাদের সকলকে সক্রিয় হতে হবে। বিভিন্ন উপকমিটি করা আছে। আপনারা মিটিং, সেমিনার করছেন। সেটা অব্যাহত রাখেন।

দেশের অগ্রগতিকে অস্বীকার ও সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে সরকার প্রধান বলেন, ‘আমাদের দেশের কিছু লোক থাকে যাদের কোনকিছুই ভালো লাগে না। আমরা অর্থনৈতিকভাবে যতদূরই আগাই, কিছু লোক সবসময় এটাকে ভিন্ন চোখে দেখে, এটা তাদের অভ্যাস। এরা আসলে কখনো গণতান্ত্রিক ধারাটা চায় না। গণতান্ত্রিক ধারাটা হলে আমার মনে হয় তাদের যেন দম ঘুটে। তারা নিঃশ্বাস নিতে পারে না। তারে কাছে মনে হয় যেন অস্বাভাবিক কিছু হলে তাদের খুব দাম বাড়ে।’