advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

যিনি খোঁজ নিতেন, তিনিই কোপােলেন!

দেবিদ্বার প্রতিনিধি
১২ জুলাই ২০১৯ ২৩:২৮ | আপডেট: ১৩ জুলাই ২০১৯ ০০:৫৩
advertisement

‘যিনি আমাদের পরিবারের সবসময়ই খোঁজ-খবর নিতো, তার হাতেই আমার মায়ের প্রাণ গেল। আমরা ভাত খেয়েছি কী-না, যে মোখলেছ কাকা দুই ঘন্টা আগেও খোঁজ-খবর নিলো! সেই মোখলেছ কাকা কীভাবে আমার মাকে খুন করলো! আমার মাকেই সবচেয়ে বেশি কুপিয়েছে সে। তার পরিবারে সাথে আমাদেরই সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক ছিল। এত ভালো সম্পর্ক থাকার পরও সে আমার মাকে কীভাবে এত নির্মম-পাশবিক ভাবে কুপিয়ে হত্যা করল, বাবা-দাদীকেও কোপালো। আপনারা আমার বাবা ও দাদীকে বাঁচান, না হয় আমরা একবারে এতিম হয়ে যাব, আমাদের দেখার কেউ থাকবে না।’

গতকাল শুক্রবার দুপুরে এভাবেই বুকফাটা আর্তনাদ করছিল কুমিল্লার দেবিদ্বারে খুন হওয়া নাজমা আক্তারের (৪০) বড় মেয়ে জান্নাত আক্তার। অপরদিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন তার রিক্সাচালক বাবা নুরুল ইসলাম (৫০) ও দাদী মাজেদা বেগম (৬৫)।

জান্নাতরা দুই ভাই-দুই বোন। ছোট ভাই নাজমুল হাসান সপ্তম শ্রেণির ছাত্র, চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে আবু নাঈম, সকলের ছোট বোন সানজিদা আক্তার পড়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে।

জান্নাত জানায়, ঘাতক মোখলেছ ও তাদের পরিবারের মধ্যে সু-সম্পর্ক ছিলো। মোখলেছের মেয়েও তার সঙ্গে পড়ে। সে সুবাদে তাদের ঘরের যাতায়াত ছিল জান্নাতের।

ঘটনার দিন (বুধবার) সকাল ৮টার মোখলেছদের ঘরে যায় জান্নাত। এ সময় তিনি জান্নাতকে ভাত খেয়েছে কি না জানতে চান। না খেয়ে থাকলে তাদের ঘরেই খেতে বলেন মোখলেছ।

মুড়ি খেয়ে আসায় মোখলেছ কাকাকে ভাত খাবে না বলে জানায় জান্নাত। কিছুক্ষণ তাদের ঘরে থেকে বাসায় ফিরে ব্যাগ নিয়ে স্কুলে চলে যায় সে।

এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর ছোট ভাই নাঈমের মাধ্যমে জান্নাত জানতে পারে যে মোখলেছ কাকা তাকে ভাত খাওয়ার কথা বললেন, তিনিই তার মাকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন। একই কায়দায় আহত করেছে বাবা ও দাদীকেও।

স্কুল থেকে দৌঁড়ে ফিরে সে দেখে বাড়ির সামনের রাস্তায় মায়ের রক্তমাখা নিথর দেহ পড়ে আছে। জান্নাত জানায়, সে কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিল না, তার মোখলেছ কাকাই মাকে হত্যা করেছেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে দেবিদ্বার উপজেলার রাধানগর গ্রামের রিক্সাচালক মোখলেছুর রহমান ধারাল দা নিয়ে রাস্তায় এসে লোকজনকে কোপাতে শুরু করেন। সবার আগে প্রতিবেশী নুরুল ইসলামের স্ত্রী নাজমা আক্তারকে কুপিয়ে হত্যা করেন তিনি। একই সঙ্গে তার হত্যাকাণ্ডের শিকার হন এলাকার মৃত শাহ আলমের ছেলে আবু হানিফ (১০) ও স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪৫)। এ ঘটনায় আহত হন আব্দুল লতিফ (৪৫), মাজেদা বেগম (৬৫), নুরুল ইসলাম (৫০), রাবেয়া বেগম (৪০), ফাহিমা (১০), জাহানারা বেগম (৫০) ও লোকমান হোসেন (১৭)। আহতদের মধ্যে মাজেদা বেগমের অবস্থা আশংকাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। অবশ্য গণপিটুনীতে নিহত হন ঘাতক মোখলেছ।

advertisement