advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বাড়ছে পানি বাড়ছে ভয়

মো. মাহফুজুর রহমান
১৩ জুলাই ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৩ জুলাই ২০১৯ ০৮:৫৪
advertisement

টানা বৃষ্টি, উজান ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের সব নদনদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু স্থানে স্বল্প থেকে মধ্যমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা আরও অবনতি হয়ে বড় বন্যায় রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ইতোমধ্যে ১০ জেলায় নদনদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছেন।

গতকাল শুক্রবার সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির এক সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৃষ্টির কারণে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় মাঠপর্যায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।

সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের পঞ্চম তলার ৪২৫ নম্বর রুমে খোলা হয়েছে এ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ফোন নম্বর ০২৯৫৭০০২৮। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ‘বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রে টোল ফ্র্রি ১০৯০ নম্বর চালু করা হয়েছে।

বলা হয়েছে, ফোন করার পর ৫ নম্বর বাটন চেপে ফোন করে জানা যাবে বন্যার পূর্বাভাস-সংক্রান্ত তথ্য। একইভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেও খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো এনামুর রহমান জানান, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মেডিক্যাল টিম গঠন করেছে এবং পর্যাপ্ত পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট প্রস্তুত রেখেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেও নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া আমাদের সময়কে জানান, গত সপ্তাহে উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোয় পানি কমার প্রবণতা ছিল, এখন ফের বাড়তে শুরু করেছে।

অন্তত আরও দুদিন ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি বাড়বে। এ ছাড়া দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে এবং ওই এলাকাসংলগ্ন ভারতীয় অংশে আরও বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। ত্রাণ মন্ত্রণালয় ও পাউবো সূত্র আরও জানায়, ভারী বর্ষণের কারণে ১০ জেলায় নদনদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলার নদীতে ৬২৮টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৬টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ, এসব অবকাঠামো মেরামতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে।

তবে এর মধ্যে ৫৫১টি পয়েন্টকে ঝুঁকিমুক্ত করতে কাজ করছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, জামালপুরে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। লালমনিহাটে তিস্তা নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীভাঙন দেখা দিয়েছে মানিকগঞ্জেও। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উজানের ঢল আর ভারী বর্ষণে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় চর-দ্বীপচরসহ নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

পানি বৃদ্ধির ফলে কুড়িগ্রাম সদর, চিলমারী, রৌমারী, উলিপুর, নাগেশ্বরী ও রাজারহাট উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজারো মানুষ। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি বাড়তে থাকায় বন্যার আশঙ্কা করছে এ এলাকার মানুষ। ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা অববাহিকার নদ-নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বিস্তৃীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে দুর্ভোগে পড়েছে মানুষজন। তলিয়ে গেছে গ্রামীণ রাস্তাঘাট, মাছের ঘের, শাকসবজিসহ আমন বীজতলা। মূলত চরাঞ্চলগুলোর বাড়িঘরের চারপাশে পানি ওঠায় অনেকটা পানিবন্দি জীবনযাপন করছে নদীর তীরের পরিবারগুলো।

এদিকে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। দুর্গত জেলাগুলোতে পাঠানো হয়েছে সাড়ে ১৭ হাজার টন চাল এবং ৫০ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ২ কোটি ৯৩ লাখ নগদ টাকা। দু-একদিনের মধ্যে এসব জেলায় ৫শটি করে তাঁবু এবং মেডিক্যাল টিমের পৌঁছে যাবে বলে আমাদের সময়কে জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান জানান।

ত্রাণ সচিব শাহ কামাল বলেন, যেসব জেলা দুর্গত হতে পারে সেগুলোর পাশাপাশি অন্য জেলাগুলোতেও সমান প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলায় দুই হাজার প্যাকেট করে মোট ৫০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার পাঠানো হয়েছে। একটি প্যাকেটে চিড়া, মুড়ি, বিস্কুট, তেল, আটা, মসুরের ডাল, শিশু খাবারসহ একটি পরিবারের সাত দিনের খাবার রয়েছে। এখন পর্যন্ত ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা এবং দুই দফায় সাড়ে ১৭ হাজার টন চাল বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়েছে জানিয়ে শাহ কামাল বলেন, কোনো জেলা প্রশাসক চাহিদা পাঠানোর সঙ্গে সঙ্গে চাল দেওয়া হবে।

সিভিল সার্জনদের নেতৃত্বে টিম গঠন করা হয়েছে, যাতে পানিবাহিত রোগ বিস্তার রোধ করা যায়। খাদ্যগুদামে কর্মরতদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। উজানের ঢল আর ভারী বর্ষণে দেশের বিভিন্ন নদনদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

রাঙামাটি : ঝুঁঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে রাঙামাটি জেলা শহরের সঙ্গে যুক্ত সড়কগুলো। বৃহস্পতিবার থেকে সড়কগুলোয় ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। কাপ্তাই হ্রদে পানির উচ্চতা বেড়ে উপজেলার নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এরই মধ্যে বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল ও জুরাছড়ি উপজেলার নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।

বান্দরবান : এ জেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। গতকাল সকাল থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় বিকালের দিকে সাঙ্গু নদীর পানি দুই ফুটের মতো কমে গেছে। অবশ্য এখনো পানিবন্দি হয়ে আছে লক্ষাধিক মানুষ। সারাদেশের সঙ্গে এখনো সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে কয়েক হাজার পরিবার।

কক্সবাজার : বানের পানিতে ভাসছে কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়ার মানুষ। দুই উপজেলার অন্তত ৮ লাখ মানুষের মধ্যে আনুমানিক ৭০ শতাংশ মানুষ পানিবন্দি। অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ প্রায় বন্ধ। ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে অনেকেই খাবার সংগ্রহ করছে। গতকাল দুপুর পর্যন্ত বন্যাকবলিত এলাকাগুলো ২ থেকে ৩ ফুট পানিতে ডুবে রয়েছে। উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালীর হাকিমপাড়া ১৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভারী বর্ষণে পাহাড়ি ঢলের পানিতে ডুবে সহোদরের মৃত্যু হয়েছে। তারা হচ্ছে উখিয়ার বালুখালী হাকিমপাড়া ক্যাম্প ১৪-এর ১৬ নম্বর ব্লকের বাসিন্দা আব্দুস সালামের ছেলে আনোয়ার সাদেক ও আনোয়ার ফয়সাল।

কুড়িগ্রাম : ধরলা, ব্রহ্মপুত্রের, তিস্তা, বিপৎসীমা ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং নুনখাওয়া নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। গতকাল দুপুরে ধরলা নদীর পানি ২৬ দশমিক ৫০ সে.মি., ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী পয়েন্টে ২৩ দশমিক ৭১ সে.মি. ও নুনখাওয়া পয়েন্টে ২৬ দশমিক ২০ সে.মি. এবং তিস্তায় ২৯ দশমিক ১০ সেন্টিমিটার বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। প্লাবিত হয়েছে চরাঞ্চলের ৪ শতাধিক গ্রাম।

লালমনিরহাট : জেলার ৫টি উপজেলায় প্রায় ২৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব এলাকা নতুন করে দেখা দিয়েছে বন্যা। গতকাল বিকাল ৪টায় বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে তিস্তার পানি প্রবাহ দোয়ানি পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে ৫২.৮৫ সেন্টিমিটার। এদিকে ধরলার পানি কুলাঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সিলেট : সুরমা, কুশিয়ারাসহ অন্য নদীর পানি গতকাল দুপুর ১২টার রিডিং অনুযায়ী বিভিন্ন পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, সিলেটে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ১০.৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, কানাইঘাটে ১৩.২৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। কুশিয়ারা নদীর পানি বিয়ানীবাজারের শেওলায় প্রবাহিত হয়েছে বিপদসীমার ১২.৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, শেরপুরে ৮.৩৪ সেন্টিমিটার, জৈন্তাপুরে সারী নদীর পানি ১১.৬১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং কানাইঘাটে লোভাছড়ার ১৪.৬৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ৬০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ।

উপজেলা সদরের সঙ্গে বিভিন্ন এলাকার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। ছাতক উপজেলার নিম্মাঞ্চলসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ছাতকে সুরমা নদীর পানি গতকাল বিপৎসীমার ৮০ সেন্টিমিটার, চেলা নদীর ৯০ সেন্টিমিটার ও পিয়াইন নদীর ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এ ছাড়া ডাইকি, বটেরখাল ও বোকা নদীর পানিও প্রবাহিত হচ্ছে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে। প্রবল বর্ষণে সুরমা, পিয়াইন ও চেলা নদীতে পাথর ও বালুবাহী বার্জ-কার্গো ও বাল্কহেডে লোডিং-আনলোডিং প্রায়বন্ধ।

নেত্রকোনা : দুর্গাপুরে বাড়তে শুরু সোমেশ্বরী নদীর পানি। ভারতের মেঘালয়ে টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢলে নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে এ এলাকার বিভিন্ন ইউনিয়ন। বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বিরিশিরি ইউনিয়নের কানিয়াইল, শিরবির, ভুলিগাও, খালিশাপাড়, গাওকান্দিয়া গ্রামের জাগিরপাড়া, ভাদুয়া, শংকরপুর, হাতিমারা কান্দা, কাকৈরগড়া ইউনিয়নের বাইরাউড়া, তাতিরকোনা, ডেউটুকোন, কৈলাটি ও দুর্গাপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী আদিবাসী গ্রামগুলো নতুন করে প্লাবিত হয়েছে।

প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন, সিলেট ব্যুরো থেকে সজল ছত্রী, হবিগঞ্জ থেকে রুহুল হাসান শরীফ, বগুড়া থেকে প্রদীপ মোহন্ত, বান্দরবান থেকে এনএ জাকির, রাঙামাটি থেকে জিয়াউর রহমান জুয়েল, কক্সবাজার থেকে সরওয়ার আজম মানিক, কুড়িগ্রাম থেকে মোল্লা হারুন-উর-রশীদ, লালমনিরহাট থেকে মিজানুর রহমান মিজু, সুনামগঞ্জের ছাতক থেকে বিজয় রায়, সিলেটের কানাইঘাট থেকে সুজন চন্দ অনুপ ও নেত্রকোনার দুর্গাপুর থেকে বিজন কৃষ্ণ রায় ।

advertisement