advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

উপসাগরীয় উত্তেজনা : ইরানকে যেমন দেখলাম

ড. এম সাখাওয়াত হোসেন
১৫ জুলাই ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ জুলাই ২০১৯ ০৯:০৩
advertisement

কয়েক বন্ধুবান্ধব, আমাদের নিয়মিত এমন সঙ্গী নিয়ে গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রায় ১৪ দিন কাটিয়ে এলাম পারস্য উপসাগরের সর্ববৃহৎ দেশ ইরান থেকে। এ সফরের ব্যবস্থা করেছিলেন আমাদেরই এক চিকিৎসক বন্ধু, যিনি ইরানে চাকরি করার সুবাদে সেখানেই বিয়ে করেছিলেন। বর্তমানে সস্ত্রীক ঢাকাতেই থাকেন। ডাক্তার গিন্নি বেশ সুন্দর বাংলাও বলেন আর মাতৃভাষা ফারসি তো রয়েছেই। আমাদের ডাক্তার বন্ধু নিজেও খুব ভালো ফারসি বলেন, কাজেই ইরান ঘুরতে ভাষাগত অসুবিধা থাকলেও এই দুজনের কারণে সে অসুবিধা বহুলাংশে কম হয়েছিল।

ইরানের রাজধানী তেহরান ছাড়াও কাশান, সিরাজ, ইস্পাহান, হামাদান ও কাস্পিয়ান সাগরতীরের রামসার নামক শহরে গিয়েছিলাম। পথে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়েছি রুদবার নামক ওই শহরে, যেটি ১৯৯০ সালে এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে সম্পূর্ণ মাটির সঙ্গে মিশে যায়। ওই শহর ও আশপাশের গ্রামের প্রায় ৪০-৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় এবং এবং লক্ষাধিক মানুষ আহত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এই শহর এবং আশপাশ পুনর্গঠিত হয়। এখন ছিমছাম ছোট একটি দৃষ্টিনন্দন শহর।

ইরান ভ্রমণের ইচ্ছা আমার বহুদিনের, তখনো ইসলামিক অভ্যুত্থান হয়নি কিন্তু সামরিক বাহিনীতে চাকরির কারণে যাওয়া হয়নি বিশ্বের প্রথম সাম্রাজ্য পারসিয়া সভ্যতার নিদর্শনগুলোয়। ইচ্ছা আরও প্রবল হয়েছিল ১৯৭০ সালের শেষ দিকে লাহোরে চাকরির সুবাদে তৎকালীন ইরানের শাহের সঙ্গে কয়েকটি বাক্যবিনিময়ের পর। শাহের ইরানে আর যাওয়া হলো না। তার পর ১৯৭৯ সালের বিশ্ব কাঁপানো ইসলামিক রেভ্যুলুশন, যার পুরোধা ছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লা খোমেনি, ইমাম খোমেনি নামে অধিক পরিচিত এই শিয়া মুসলিমপ্রধান দেশে। সেই থেকে ৪০ বছর ইরান শিয়া ধর্মীয় গুরুদের দ্বারা শাসিত। ইরানি ব্র্যান্ড গণতন্ত্র, একদলীয় শাসন সেখানে সর্বোচ্চ কাউন্সিল অব এলভারলির নেতা আলী খামেনিই সুপ্রিম নেতা হিসেবে সবচেয়ে শক্তিধর ব্যক্তি। ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের পার্লামেন্ট এবং রাষ্ট্রপতি থাকলেও দেশের সামরিক বাহিনী ও রেভ্যুলুশনারি গার্ড সুপ্রিম নেতার অধীনেই।

সারা ইরান ৩১টি প্রদেশে বিভক্ত, তবে একক কেন্দ্রিক (unitary) দেশ। প্রদেশের গভর্নর থাকলেও সুপ্রিম নেতার সরাসরি তত্ত্বাবধানে প্রদেশের ধর্মীয় নেতা ‘ইমাম জুমা’কেই ক্ষমতাধর মনে করা হয়। ইরানের এই কড়া শাসনব্যবস্থায় সামান্য ছাড় দেওয়া হলেও এখনো একদলীয় ধর্মীয় শাসনে বেড়ে উঠেছে যে প্রজন্ম, তাদের চোখ উন্মুক্ত বিশ্বের দিকে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই পশ্চিমা বিশ্ব শঙ্কিত হয়ে উঠেছিল। তেমনি শঙ্কিত হয়েছিল আমির শাহি ও রাজকীয় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। শঙ্কিত হয়েছিল ধর্মীয় গণঅভ্যুত্থানের ধারণায়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শাহকে হারিয়ে ওই অঞ্চলের বৃহত্তম শক্তিধর তেলসমৃদ্ধ দেশকে হারানোর আর নতুন ভূরাজনৈতিকের মধ্যে পড়তে হলো, যেখান থেকে আজও যুক্তরাষ্ট্র বের হতে পারেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসলামি ইরানের চরম বিবাদের সূত্রপাত হয় ১৯৭৯ সালের ইসলামিক রেভ্যুলুশনের পর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকসহ দূতাবাসের সদস্যদের ৪৪৪ দিন জিম্মি রাখার পর থেকে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৮০ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক পুরোপুরি ছেদ করে, যা এখনো অব্যাহত। ১৯৮১ সালে ইরান জিম্মিদের মুক্তি দিয়েছিল কথিত গোপন অস্ত্র চুক্তির মাধ্যমে, যেটি ইতিহাসে ইরান-কন্ট্রা আর্মস কেলেঙ্কারি নামে বিখ্যাত। ইরান-ইরাক প্রায় আট বছরের যুদ্ধে জানমালের ক্ষতি হওয়া ছাড়াও ইরানের অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিল। এর পর পর্যায়ক্রমে অবরোধ যা বর্তমানে আরও তীব্র হয়েছে, ইরানের অর্থনীতির ওপর দারুণ চাপ ফেলছে। যেহেতু ইরানে প্রাকৃতিক গ্যাস, তেল এবং অন্য খনিজ পদার্থ রয়েছে অফুরন্ত, সে প্রভাব চোখে পড়ে না। ইরানে বিশ্বের মোট তেলের ১০ শতাংশ রিজার্ভ রয়েছে।

২০০৬ সালে উত্তোলনযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩৮৪ বিলিয়ন ব্যারেল। ইরানে গ্যাস রিজার্ভ রয়েছে ১ হাজার ২০১ ট্রিলিয়ন কিউবিক ফুট। প্রায় ১৮ শতাংশ বিশ্বের মোট রিজার্ভ। বিগত বছরগুলোয় অবরোধের কারণে ইরান তেল ও গ্যাস উন্মুক্ত বাজারে বিক্রি করতে না পারার কারণে মাথাপিছু আয় ও জিডিপি অনেক কমে গেছে। তবে এখনো ইরানের মাথাপিছু আয় ১৪ হাজার মার্কিন ডলার। ইরানিদের মতে, এই আয় হওয়া উচিত ছিল ৪০ হাজার ডলার। অবরোধের কারণে ইরানের প্রবৃদ্ধি কমেছে। বেকারত্ব বেড়েছে এবং ইরানি মাপদণ্ডের গরিবের মাত্রাও বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি তথ্যমতে, ৫১ দশমিক ৪ থেকে ২০১৮ সালে দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১ শতাংশে। খাবারের মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮১ দশমিক ৭০ শতাংশ। তেল ও অন্যান্য দ্রব্যাদি রপ্তানিতে বাধানিষেধ থাকায় সরকারের আয় কমে গিয়েছে।

এ ধরনের আন্তর্জাতিক অবরোধ ইরানের সামাজিক অঙ্গনেও বেশ প্রভাব ফেলেছে। একসময় ইরানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল পর্যটন, বিশেষ করে কাস্পিয়ান সাগর তীরের এবং অন্য শহরগুলোয় যেখানে পর্যটকশূন্য প্রায়। ইরানের মানুষগুলো অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ এবং বন্ধুসুলভ কিন্তু ওইসব অঞ্চলের মানুষের আক্ষেপ যে, এখন তারা তাদের দেশে মেহমানই খুঁজে পায় না। অন্যদিকে সরকারের কড়া ব্যবস্থার কারণে সামাজিক যোগাযোগব্যবস্থাগুলো প্রায় বন্ধ। ফেসবুকসহ ইউটিউব বন্ধ, ইন্টারনেট অত্যন্ত ধীরগতিতে চলে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের লেনদেন বন্ধ। তেহরানে খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ অন্য আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোয় হাতেগোনা কিছু মধ্যপ্রাচ্যের বিমান যোগাযোগ রয়েছে।

বিগত বছরগুলোয় মাদকাসক্তি বেড়েছে বহুগুণ, বিশেষ করে আফিম, যেগুলো আসে আফগানিস্তান থেকে। যদিও এখনো এ নেশা গরিব বেকার ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যেই বেশি, তবে মধ্যবিত্ত ইরানিরা বেশ শঙ্কিত এই সংক্রমণের আশঙ্কায়। ইরান এই অঞ্চলের সবচেয়ে শিল্পোন্নত দেশ। বাস, ট্রাক থেকে পশ্চিমা ব্র্যান্ডের গাড়ি সবই দেশে তৈরি হয়। এখনো ফ্রান্স ও জার্মানির লগ্নি রয়েছে শিল্প খাতে, বিশেষ করে অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রিতে। রাস্তাঘাট, যোগাযোগব্যবস্থা গত ৪০ বছরে ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ডে উন্নীত। শহরগুলো সবুজ আর দারুণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। তথাপি একঘরে হয়ে পড়ার চাপ প্রত্যক্ষ করা যায়।

ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কোপানলে রয়েছে। এ বিষয়ে এখন সবাই জ্ঞাত রয়েছেন। ইরানের ওপর মার্কিন চাপ পারমাণবিক চুক্তি, যা ছয়টি বৃহৎ শক্তির সঙ্গে ২০১৫ সালে সম্পাদিত হয়েছিল, সেখান থেকে সরে আসার অজুহাত বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালে বারাক ওবামার প্রশাসনের মাধ্যমে যুক্ত হলেও বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন চুক্তিভঙ্গের দায়ে বের হয়ে আসার পর থেকেই সামরিক চাপ বৃদ্ধি করতে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। অভিযোগ যে, চুক্তি অনুযায়ী বেঁধে দেওয়া ২০২ দশমিক ৮ কেজি ইউরেনিয়ামের জায়গায় প্রায় ৩০০ কেজি ইউরেনিয়াম মজুদ করেছে। এগুলো ইউরেনিয়াম হেক্সোফ্লোরাই-৬ (টঋ-৬), যা পারমাণবিক অস্ত্রে ব্যবহারযোগ্য।

এ অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্বাস মোসাভি বলেন, এ চুক্তি যে কোনো সময় ইরান ভঙ্গ করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইরান এই বর্ধিত অতিরিক্ত ইউরেনিয়াম দিয়ে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহার হতে পারে, যা অস্ত্র তৈরির প্রথম ধাপ। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য উপেক্ষা করে চলছে, বাড়ছে উত্তেজনা। ইদানীং ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এবং তার মিত্রদের অবরোধের জবাবে অধিক পরিমাণে ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ করা ছাড়া উপায় নেই। ইসরায়েল শঙ্কার বার্তা দিলেও ইইউ এখনো চুক্তিতে রয়েছে। মনে করা হয়, পশ্চিমা বিশ্ব যাতে আলোচনার পথ উন্মুক্ত রাখে সে কারণেই ইরান এ ধরনের চাপ প্রয়োগ করছে। অনেক ইরানির সঙ্গে আলাপচারিতায় পরিষ্কার ধারণা হলো যে, সাধারণ ইরানিরা যুক্তরাষ্ট্রের এহেন আচরণে মোটেও শঙ্কিত বা আতঙ্কিত নয়।

কয়েকজন আমাকে বললেন, মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের দুঃসাহসী অভিযান শুরু করলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশ ইসরায়েল, কারণ লেবানন ও সিরিয়ায় ইরানের উপস্থিতি ও হিজবুল্লাহদের শক্তি বৃদ্ধি এবং একই সঙ্গে ইরানের দূরপাল্লার মিসাইল ইসরায়েলকে কাবু করতে যথেষ্ট। এমনটাই ধারণা সাধারণ মানুষের। ইরানিরা বিশ্বাস করে যে, ইরান-ইরাক যুদ্ধের পর সামরিক দিক থেকে ইরান যথেষ্ট শক্তিশালী হয়েছে। অন্যান্য কারণে বর্তমান সরকার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে দ্বিমত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের কারণে জাতীয়তাবাদী এবং অতীত গৌরব ইরানিদের একত্র রেখেছে। ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের দ্বারপ্রান্তে, এতে কোনোই সন্দেহ নেই। ইরানের এ যাত্রা শুরু হয়েছিল শাহের আমলে ১৯৫৭ সালে। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে বেসামরিক ব্যবহারযোগ্য রিসার্চ রিঅ্যাক্টর প্রদান করে। ৫ মেগাওয়াট এই রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ছিল ৯৩ শতাংশ ইউরেনিয়াম অধিক শক্তি (বহৎরপয) গড়ে তোলার। মানে পারমাণবিক অস্ত্রে ব্যবহারযোগ্য অরিশক্তি ইউরেনিয়াম। ১৬৬৮ সালে ইরান এনপিটিভুক্ত হয় এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার ঘোষণা দিয়েছিল।

১৯৭৯ সালের ইসলামিক রেভ্যুলুশনের পর সবই প্রায় ভেস্তে যায়। আজকের মার্কিন-ইরান বৈরী সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক মার্কিন প্রশাসনের ভুলের কারণে ইরান এ অঞ্চলে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ইরাক প্রায় সম্পূর্ণভাবে ইরানের মুখাপেক্ষী। বিশেষ করে শিয়া শক্তি উত্থানের পর। অন্যদিকে সিরিয়ার আট বছরের গৃহযুদ্ধ ইরানকে দারুণভাবে সামরিক ও ভূ-কৌশলগত সুবিধা করে দিয়েছে, বিশেষ করে লেবাননের হিজবুল্লাহদের সঙ্গে যোগাযোগের পথ প্রশস্থ হয়েছে। সৌদি আরব এখন ইরান আতঙ্কে ভুগছে, বিশেষ করে ইয়েমেনের হুথিবিরোধী অনৈতিক যুদ্ধে আটকে পড়ার পর। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্ব ইরানের অভ্যুত্থানকে দুর্বল এবং নস্যাৎ করতে ইরাক-ইরান যুদ্ধের মাধ্যমে শিয়া-সুন্নির যে বিভেদ সৃষ্টি করেছিল, তা বুমেরাং হতে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্র অতীতে ১৯৫৩ সালে মোসাদ্দেকের সরকার উৎখাত করে যে ভুল করেছিল, তা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে বলে তথ্যে প্রকাশ।

ইতোমধ্যে উপসাগরে উত্তেজনা বাড়ছে বই কমেনি। ইরানকে কোণঠাসা করতে যুক্তরাষ্ট্র আব্রাহাম লিংকন, এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারসহ যে যুদ্ধ জাহাজগুলো পাঠিয়েছে, তা ইরানের মিসাইল থেকে দূরেই রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সমরবিদরা ভালোভাবেই জানেন যে, ইরানের মিসাইল প্রজেক্ট কওসারের অধীনে যেসব প্রাথমিক পর্যায়ের ব্যালিস্টিক মিসাইল রয়েছে, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ডোবাতে সক্ষম। এমন কিছু হলে ক্ষয়ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের এবং ইসরায়েলেরই হবে সবচেয়ে বেশি। ইরান বিভিন্ন ধরনের ও দূরত্বের নয় ধরনের মিসাইল তৈরি করে বিভিন্ন জায়গায় বিন্যস্ত করেছে, যার অনেকগুলোই পারমাণবিক অস্ত্র বহনের ক্ষমতা রাখে। বিশেষ করে উপমহাসাগরের প্রতিরক্ষায় ‘প্রজেক্ট কওসার’-এর আওতার মিসাইল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিশ্লেষকরা যথেষ্ট চিন্তিত।

ইরানকে এ পর্যায়ে ঠেলে আনার পেছনে যে যুক্তরাষ্ট্রের অবিবেচক ভুল ভূ-রাজনৈতিক প্রকল্প ছিল, তার কারণে ক্রমেই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বিস্তৃত হচ্ছে। অন্যদিকে ইরানের বর্তমান সরকারের জন্য এক ধরনের আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে। ইরানের অর্থনৈতিক দুর্দশার মধ্যেও জাতীয়তাবাদী ও ঐতিহ্যবাদী ইরানিদের একত্র রেখেছে। উপসাগরে যুদ্ধ-যুদ্ধ ভাব হয়তো চলবে যুক্তরাষ্ট্রের আগামী নির্বাচন পর্যন্ত, কিন্তু উভয় পক্ষই ভালো করে জানে যে, পরিণতি ভয়াবহ হবে। বিশ্ব অর্থনীতি ভেঙে পড়বে। ইরান নিয়ে ধর্মীয় আদলের তফাতের কারণে মুসলিম বিশ্বে দুই জোট হতে দেখা দিয়েছে, যা বিশ্ব শান্তির জন্য শুভ নয়।

যাহোক, আমার দেখা ইরান বাইরে থেকে যতখানি কট্টর ধর্মীয় অনুশাসনপন্থি দেশ মনে হয় আসলে তেমন নয়। পোশাক-পরিচ্ছদে কিছু বাধ্যবাধকতা থাকলেও কর্মক্ষেত্রে নারীর বিচরণ পুরুষের চেয়ে বেশি। এত নারীকে গাড়ি, এমনকি ট্যাক্সি চালাতেও বহু দেশে আমি দেখিনি। একেই হয়তো বলে ঝববরহম রং নবষরারহম (চোখের দেখাই বিশ্বাস)। য় ড. এম সাখাওয়াত হোসেন : ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার এবং কলাম লেখক

advertisement