advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আদালতের ভেতর আসামিকে হত্যা, ‘আবেগের বশে দুর্ঘটনা’ বললেন হানিফ

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ জুলাই ২০১৯ ১৬:৩৮ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০১৯ ১৬:৩৮
advertisement

কুমিল্লায় আদালতের ভেতর ছুরিকাঘাতে এক ব্যক্তিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটিকে বিচ্ছিন্ন হিসেবে দেখছেন আওয়ামী লী‌গের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। ‘আবেগের বশে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার দুপু‌রে বঙ্গবন্ধু এ‌ভি‌নিউ‌য়ে দলীয় কার্যালয়ে ‘গণতন্ত্রের মানস কন্যা বিশ্ব শান্তির অগ্রদূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারান্তরীণ ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এমন মন্তব্য করেন তিনি।

হানিফ বলেন, ‘আজ বিএনপির এক নেতা প্রেস ব্রিফিং করলেন। তিনি বলেন, “আদালতের মধ্যে একজন ব্যক্তি নিহত হয়েছে কুমিল্লায়, এরপর আর সরকার থাকে না। সরকার পদত্যাগ করেন।” আমি বলি, এটা হচ্ছে একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। তারা দুই জন মামাতো ফুপাতো ভাই, একই মামলার আসামি ছিল। আবেগের বশে একটা দুর্ঘটনায় ঘটে গেছে।’

এ সময় বিএনপির ওই নেতাকে আয়নায় নিজের চেহারা দেখতে বলেন হানিফ। তাকে অতীতটা দেখার চেষ্টা করেন মন্তব্য করে হানিফ বলেন, ‘আপনারা কোন মুখে, কীভাবে সরকারের ব্যর্থতার কথা বলেন। এই ঘটনা নিয়ে কথা বলার আগে আয়নায় নিজের চেহারা দেখেন।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা আরও বলেন, ‘এই বাংলাদেশে আপনারা (বিএনপি) ক্ষমতায় ছিলেন। তখন ঝালকাঠিতে আদালতের মধ্যে বোমা হামলা করে ২ বিচারককে হত্যা করেছিলেন। গাজীপুরের আদালত বোমা হামলা করে ১২ জন আইনজীবীকে হত্যা করা হয়েছিল। কোথাও ছিলো তখন আপনাদের সরকার? সিলেটে হযরত শাহজালালের মাজারে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর ওপর হামলা হয়েছিল। একজন বিদেশি রাষ্ট্রদূতকে পর্যন্ত আপনার নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। আবার খুব বড় বড় গলায় এখন বলেন সরকারের ব্যর্থতার জন্য সরকারের পদত্যাগ করা উচিৎ।’

মাহবুব-উল আলম হানিফ আরও বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনে জনগণ আপনাদের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করেছে। তারপরও আপনারা বারবার জনগণের ওপর আঘাত করেছেন। নিজের অপকর্ম আপনারা ধরে রাখতে চেয়েছেন। ক্ষমতা থাকতে আপনার লুটপাট- সন্ত্রাসী কাজ করেছেন। ক্ষমতার বাইরে থেকে দেশের জন্য, জনগণের জন্য কোনো কাজ করেননি। ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করার জন্য আপনার জনগণের ওপর আঘাত করেছেন। আন্দোলনের নামে তাণ্ডবতা চালিয়েছেন। আপনাদের শিক্ষা হয়নি। আপনাদের লজ্জা হওয়া উচিৎ।’

আ.লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপির দুর্নীতি, ব্যর্থতার কারণে ২০০৭ সালে একটি অসাংবিধানিক সরকার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। সেই সরকারের দায়িত্ব ছিল প্রথম, যারই  অপকর্ম করেছে, এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, তাদের গ্রেপ্তার করা। খালেদা জিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে গ্রেপ্তারের কথা ছিল। তাকে গ্রেপ্তার না করে, গ্রেপ্তার করলেন তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনাকে। এটা ছিলো দীর্ঘ চক্রান্তের একটা অংশ।’

কারণ, সেই সময় যারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব নিয়েছে, এরা সকলেই ছিল বিএনপির। ২০০৭ সালের এ ঘটনা দিয়ে জাতীর সামনে একটা বিষয় পরিষ্কার হয়েছে। এই বিএনপি কোনো দিন গণতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিল না। বিএনপি নামক দলটি গণতন্ত্র চর্চায়ও বিশ্বাসী ছিল না। অথচ, আজকে কথা কথায় গণতন্ত্রে ধোয়াশা তুলে বেড়ায়’ যোগ করেন হানিফ।

তিনি আরও বলেন, ‘এই বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর কখনো ক্ষমতা ছাড়তে চায় না। সেটা আঁকড়ে কিভাবে ধরে রাখতে হয় সে চেষ্টা করেছে। আপনি যদি বিএনপি ইতিহাস দেখেন- ২০০৬ সালে তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দেন নাই। ক্ষমতা আগলে রাখার জন্য তাদের  রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে সরকার গঠন করার চেষ্টা করা হয়েছিল। যার পরিপ্রেক্ষিতে ১/১১ এর সরকার গঠিত হয়েছিল। কেন বিএনপি সেই সময় ক্ষমতা ছাড়তে চায় নাই? কারণ, তারা জানতো ৫ বছর ক্ষমতায় থেকে অপকর্ম করেছে। জনগণ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল।’

মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

advertisement