advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিপদসীমার ১৪৫ সে.মি. উপরে বইছে যমুনার পানি

ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি
১৬ জুলাই ২০১৯ ১৭:২০ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০১৯ ১৭:৩৮
advertisement

অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে যমুনা নদীর পানি। বর্তমানে জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্ট এলাকায় পানি বিপদসীমার ১৪৫ সেন্টিমিটারে ওপরে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক পাঠক আব্দুল মান্নান।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে নিশ্চিত করেন তিনি। সর্বশেষ ২০১৭ সালে যমুনার পানি বিপদসীমার ১৩৪ সেন্টিমিটার ওপরে অবস্থান করেছিল।

এদিকে জামালপুরের ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় বন্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এমনকি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সকল কার্যালয় এখন পানির নীচে। ইতিমধ্যে আঞ্চলিক সড়কগুলোতে পানি ওঠায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রেল লাইনে পানি ওঠায় ঝুঁকি নিয়ে রেল চলছে। যেকোনো মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে রেল যোগাযোগও। ইসলামপুর উপজেলাতেও ৯টি ইউনিয়নের প্রায় দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যানরা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বন্যায় ইসলামপুর-উলিয়া এবং ইসলামপুর-গুঠাইল, ইসলামপুর-কুলকান্দি ও ইসলামপুর-মোরাদাবাদ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে ইসলামপুরে ৯০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।

গত চারদিনে বন্যার পানির তীব্র স্রোতে চিনাডুলী ইউনিয়নের দেওয়ান পাড়া, ডেবরাইপ্যাচ, বেলগাছা ইউনিয়নের মন্নিয়ার চর, বরুল, নোয়ার পাড়ার বৌশেরগড়ে প্রায় দুই শতাধিক বসতভিটা ভেঙে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তরা আশপাশের উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এসব এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসহ বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
তবে সংকট মোকাবেলায় এখন পর্যন্ত ৯০ মেট্রিক টন চাল ও ৪০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ত্রাণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু।

এদিকে উপজেলার চিনাডুলি ইউনিয়নের দক্ষিণ চিনাডুলি, দেওয়ানপাড়া, ডেবরাইপেচ, বলিয়াদহ, সিংভাঙ্গা, পশ্চিম বামনা, পূর্ববামনা, গিলাবাড়ী, সাপধরী ইউনিয়নের আকন্দ পাড়া, পশ্চিম চেঙ্গানিয়া, পূর্ব চেঙ্গানিয়া, ওকাশাড়ীডোবার, কুলকান্দি ইউনিয়নের বেরকুসা, টিনেরচর, সেন্দুরতলী, মিয়াপাড়া, বেলাগাছা ইউনিয়নের কাছিমারচর, দেলীপাড়, গুঠাইল, পাথর্শী ইউনিয়নের শশারিয়াবাড়ী, মোরাদাবাদ, মুকশিমলা, হাড়িয়াবাড়ী পশ্চিম মুজাআটা, নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের ওলিয়া, রামভদ্রা, কাজলা, পলবান্ধা ইউনিয়নের দক্ষিণ বাহাদুরপুর, মরাকান্দি, সিরাজাবাদ, চরবাটিকামারী অঞ্চলগুলোর বিস্তীর্ণ জনপদগুলোতে বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, সরকারি হিসাব অনুযায়ী যমুনা থেকে নেমে আসা বন্যার পানিতে ইসলামপুরের সাপধরী, চিনাডুলি, বেলগাছা, কুলকান্দি, নোয়ারপাড়া, পাথর্শী ,ইসলামপুর সদর ও পলবান্ধা ইউনিয়নগুলোর লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

 

 

advertisement