advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অন্যকে লোভ দেখিয়ে নিজেই আত্মসাৎ করেছেন ৩০০ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ জুলাই ২০১৯ ১৭:৩২ | আপডেট: ১৭ জুলাই ২০১৯ ০২:৩৬
advertisement
advertisement

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনসহ অন্যান্য ২৮টি মামলার ৪ বছর যাবৎ পলাতক আসামি ফার ইস্ট ইসলামি মাল্টি কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের চেয়ারম্যান শামীম কবিরকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি।

আজ দুপুরে মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানিয়েছেন।

তিনি জানান, আসামি শামীম কবিরকে গত ৯ জুলাই  সিলেট জেলার জৈন্তাপুর থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনার বর্ননা দিয়ে তিনি জানান, ফারইস্ট ইসলামি মাল্টি কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি.  ২০০৬ সালে জেলা সমবায় কর্মকর্তা কার্যালয়, কুমিল্লা তেকে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিবন্ধন নং- ১৫১/৩ মাধ্যমে অনুমোদনপ্রাপ্ত হয়। এই অনুমোদনের আলোকে শামীম কবির ও তার নিকট আত্মীয়সহ স্থানীয় কিছু যুবকদের নিয়ে কুমিল্লা জেলার অর্ন্তর্গত নিজ উপজেলার চৌদ্দগ্রামের মুন্সিরহাট বাজারে একটি অফিস খুলে কার্যক্রম শুরু করে।

পরবর্তীতে উক্ত সমিতিটি মুন্সিরহাট অফিসের নিবন্ধন সংশোধন করে থানা থেকে জেলা পর্যায়ে এবং পরে চট্টগ্রাম বিভাগের অনুমোদন নিয়ে কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন জায়গায় শাখা অফিসের অনুমোদন নেয়।

সিআইডির এই কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার শামীম ইসলাম ধর্মকে পুঁজি করে কতিপয় ধর্মভীরু ও স্বল্প শিক্ষিত লোকজনকে আল্লাহতালার কিছু মহান বাণী শুনিয়ে এবং পবিত্র কোরান শরীফসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে সুসজ্জিত অফিসে দাওয়াত দিয়ে তাদের (এফআইসিএল) অফিসে টাকা বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করে। পাড়ায় পাড়ায় ওয়াজ মাহফিল করে নিজেকে ধর্মের বরপুত্র হিসেবে দাবি করে।  বিনিয়োগকৃত এক লাখ টাকায় প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২ হাজার পাঁচশত টাকা হারে মুনাফা দেওয়ার কথা বলে। এ সব বিষয়ে সে লিফলেট প্রচার করে এবং পত্র পত্রিকায় লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে অধিক সংখ্যক গ্রাহক সংগ্রহে লিপ্ত থাকে। শুরুর কয়েক বৎসর ২০০৭ সাল হতে ২০১২ সাল পর্যন্ত ওয়াদা অনুযায়ী মুনাফা দিয়ে গ্রাহক সংগ্রহ করে। কয়েক বছর লাভজনক মুনাফা পেয়ে সাধারণ মানুষ নিজের বহু কষ্টে অর্জিত টাকা ফারইস্ট ইসলামি মাল্টি কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডে জমা রাখতো। বেশি মুনাফার আশায় কেউ কেউ অন্য জায়গা থেকে টাকা পয়সা ধার করে এনে, জমি জমা বিক্রি করে সমিতিতে টাকা রাখতো। কোনো কোনো সরকারি বেসরকারি কর্মচারী পেনশনের টাকা বাসায় না নিয়ে জমাকৃত টাকা দ্বিগুণ-তিনগুণ করার জন্য ফারইস্ট ইসলামী মাল্টি কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ এ জমা রাখে।

প্রতারণার বিষয়ে তিনি জানান,  বিভিন্ন রকম ছলচাতুরী প্রয়োগ করে শামীম ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন থানা এলাকায় বিশেষ করে প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকায় প্রায় ২৫টি অফিস খুলে আমানত সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান রাখে। আসামি শামীম কবিরসহ মামলার অপরাপর আসামিগণের সহায়তায় পরস্পর যোগসাজসে প্রায় ২০ হাজার গ্রাহকদের তিনশত কোটি টাকা আত্মসাত করেন। এরপর  ২০১৩-১৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দিয়ে সে কৌশলে আত্মগোপন করে। তখন  সে প্রচার করতে থাকে যে  এর চেয়ারম্যান মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামি শামীম কবিরের তথ্য মতে সিআইডি জানায় ,আত্মসাতকৃত বিপুল পরিমান অর্থ দিয়ে শামীম তার নিজ গ্রাম ও সিলেটের জৈন্তাপুর থানা এলাকায় প্রাসাদসম বাড়ি, চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ, নারায়নগঞ্জের আড়াইহাজার, গাজীপুরের কালিগঞ্জ, কক্সবাজার জেলার উখিয়া থানা, চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ডসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে প্লট, ফ্ল্যাটসহ বিপুল পরিমান সম্পত্তি যার পরিমাণ প্রায় ৪০ জমি কিনেছেন।  দুদক  কর্তৃক ২০১৫ সালে তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪(২)(৩) ধারায় ১৩টি মামলা রুজু করে যা বর্তমানে সিআইডি কর্তৃক তদন্তাধীন আছে। আর সেই মামলাতেই শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

advertisement