advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, ছাত্রদলের জটিলতা নিরসনে ‘ব্যর্থ’ সার্চ কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ জুলাই ২০১৯ ০০:৫২ | আপডেট: ১৭ জুলাই ২০১৯ ০৯:৩৪
পুরোনো ছবি
advertisement

ছাত্রদলের কমিটি গঠন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে ব্যর্থ হয়েছেন সংগঠনের নতুন কমিটি গঠনের দায়িত্বশীল সার্চ কমিটির নেতারা। এ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির ক্ষুব্ধ নেতাদের সঙ্গে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে গঠিত সার্চ কমিটির সঙ্গে বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে তিন ঘণ্টার বৈঠকে ঈদের আগের দিন ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করা, নতুন কমিটি গঠনে শর্তারোপ এবং নতুন তফসিল বিষয়ে বিলুপ্ত কমিটির নেতাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়।

সার্চ কমিটির নেতারা ছাত্রদলের ক্ষুব্ধ নেতাদের বক্তব্যের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে সার্চ কমিটির নেতারা বলেছেন, দলের এখন দুর্দিন। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে রয়েছেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে-এ অবস্থায় দল যে সিদ্ধান্ত দেবে তা মানতে হবে।

জবাবে ক্ষুব্ধ ছাত্রনেতারা বলেন, তারা দলের জন্য কাজ করেছেন, ত্যাগ স্বীকার করেছেন, নির্যাতন সহ্য করেছেন। এজন্যই তারা তাদের ন্যায্য দাবি করেছেন। কিন্তু দলের বিশেষ সিন্ডিকেট ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ভুল বুঝিয়ে ছাত্রদলকে তাদের কব্জায় নিতে চাইছেন। এটা তারা করতে দেবেন না।

বৈঠকে একজন সাবেক ছাত্রনেতা সার্চ কমিটির সিনিয়র সদস্য শামসুজ্জামান দুদুকে বলেন, ‘আপনি কৃষক দলের ২৬ বছর ধরে নেতৃত্বে রয়েছেন। এখন আবারও আহ্বায়ক হয়েছেন। এটা কীভাবে সম্ভব? এখানে আপনার কেন বয়সের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই? আপনার কারণে কৃষক দলে নতুন কোনো নেতৃত্ব তৈরী হতে পারে না।’

দুদুর উদ্দেশে ক্ষুব্ধ ওই নেতা আরও বলেন, ‘যুবদলের পাঁচ সদস্যের কমিটি গত ৩০ মাসেও পূর্ণাঙ্গ হয়নি। একই অবস্থা স্বেচ্ছাসেবক দলে। ন্যূনতম লজ্জাবোধ থাকলে এটা করতেন না। পুরো দলটাকে দখল করে এখন ছাত্রদলকেও দখল করতে চাইছেন।’

আরেকজন ছাত্রনেতা সার্চ কমিটির কয়েকজন নেতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘বুকে হাত দিয়ে বলেন, বিগত আন্দোলনে আপনাদের ভূমিকা কী ছিল? আমাদের মা খালেদা জিয়া বন্দি রয়েছেন এখন কী ভূমিকা রাখছেন?’

উপস্থিত সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উদ্দেশে ক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতারা বলেন, ‘আপনারা কত বছর বয়সে ছাত্রদলের সভাপতি হয়েছেন? তখন কেন বয়সসীমার কথা মনে হয়নি, তখন অন্যায় মনে হয়নি? এমপি নির্বাচন করেও ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন।’

ক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতারা প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেন সার্চ কমিটির নেতাদের। সার্চ কমিটির নেতারা কোনো উত্তরই দিতে না পারায় সমাধান ছাড়াই সার্চ কমিটির নেতারা কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় উঠে যান।

তবে বৈঠক থেকে বের হয়ে ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ইখতিয়ার রহমান কবির সংবাদ মাধ্যমকে জানান, তাদের চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে একটি স্বল্পকালীন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের চিন্তাভাবনা হচ্ছে। আলোচনা চলছে আরও চলবে।

ছাত্রদলের ক্ষুব্ধ নেতারা গুলশান কার্যালয় ত্যাগের পর সেখা‌নে রাত ১১টা পর্যন্ত সার্চ কমিটির নেতারা নিজেদের ম‌ধ্যে বৈঠক করেন ব‌লে জানা গে‌ছে।

উভয় বৈঠকেই সার্চ কমিটির শামসুজ্জামান দুদু, আমান উল্লাহ আমান, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির নেতাদের মধ্যে ইখতিয়ার রহমান কবির, মামুন বিল্লাহ, আসাদুজ্জামান আসাদ, বায়েজিদ আরেফিন, কাজী মোক্তার হোসেন, সম্পাদক গোলাম আজম সৈকত, জহির উদ্দিন তুহিনসহ অন্তত ৪০ জন উপস্থিত ছিলেন।

গত ৩ জুন ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দিয়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু করে বিএনপি। এর পর থেকেই বিলুপ্ত কমিটির নেতারা ধারাবাহিক কমিটি গঠনের দাবিতে নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে আসছিলেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় ২২ জুন আন্দোলনকারী ছাত্রদলের ১২ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়।

পরে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে গেলে ছাত্রদলে সংকট সমাধানে দুই স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে দায়িত্ব দেন তারেক রহমান। তারা বিষয়টি সমাধানের পথে নিয়ে যাওয়ার পথে সার্চ কমিটির কার্যক্রমে তা ভুন্ডল হতে বসেছে। তফসীল অনুযায়ী গত ১৫ জুলাই কাউ‌ন্সিল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সার্চ কমিটির নেতারা সেখানে ব্যর্থ হন।

advertisement