advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পরের টাকায় পোদ্দারি

১৭ জুলাই ২০১৯ ০১:৫৫
আপডেট: ১৭ জুলাই ২০১৯ ০২:৩৮
advertisement

সাধারণ মানুষকে লোভ দেখিয়ে একাই ৩০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন ফারইস্ট ইসলামি মাল্টি কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের চেয়ারম্যান শামীম কবির। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনসহ ২৮টি মামলা মাথায় নিয়ে চার বছর ধরে ছিলেন পলাতক। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি, গত ৯ জুলাই সিলেটের জৈন্তাপুর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

যদিও গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন ডেকে এ তথ্য জানান মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম।

সিআইডির এ কর্মকর্তা জানান, ফারইস্ট ইসলামি মাল্টি কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড ২০০৬ সালে কুমিল্লা জেলা সমবায় কর্মকর্তা কার্যালয় থেকে নিবন্ধন পায়। এর পর শামীম কবির ও তার নিকটাত্মীয়সহ স্থানীয় কিছু যুবক চৌদ্দগ্রামের মুন্সিরহাট বাজারে একটি অফিস খুলে কার্যক্রম শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে সমিতিটি মুন্সিরহাট অফিসের নিবন্ধন সংশোধন করে থানা থেকে জেলা পর্যায়ে এবং পরে চট্টগ্রাম বিভাগের অনুমোদন নিয়ে কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন জায়গায় শাখা অফিসের অনুমোদন নেয়।

নজরুল ইসলাম জানান, ধর্মভীরু ও স্বল্প শিক্ষিত লোকজনকে আল্লাহর কিছু মহান বাণী শুনিয়ে এবং পবিত্র কোরআনসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে সুসজ্জিত অফিসে দাওয়াত দিয়ে তাদের (এফআইসিএল) টাকা বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করেন শামীম। পাড়ায় পাড়ায় ওয়াজ মাহফিল করে নিজেকে ধর্মের বরপুত্র হিসেবেও দাবি করেন। বিনিয়োগকৃত এক লাখ টাকায় প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে আড়াই হাজার টাকা হারে মুনাফা দেওয়ার কথাও বলেন। এসব বিষয়ে তিনি লিফলেট বিতরণ এবং পত্রপত্রিকায় লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে বিপুল গ্রাহক সংগ্রহ করেন। শুরুর কয়েক বছর (২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত) ওয়াদা অনুযায়ী

মুনাফাও দেন। তাই সাধারণ মানুষ নিজের বহু কষ্টে অর্জিত টাকা ফারইস্ট ইসলামি মাল্টি কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডে জমা রাখতেন। বেশি মুনাফার আশায় কেউ কেউ ধার করে কিংবা জমিজমা বিক্রি করেও সমিতিতে টাকা রাখতেন। এমনকি সরকারি-বেসরকারি কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের পেনশনের টাকা বাসায় না নিয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ করার লোভে ফারইস্টে জমা রাখেন।

প্রতারণার কৌশল হিসেবে মোল্যা নজরুল বলেন, বিভিন্ন রকম ছলচাতুরী করে শামীম ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন থানা এলাকায় বিশেষ করে প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকায় প্রায় ২৫টি অফিস খুলে আমানত সংগ্রহ করেন। তারা পরস্পর যোগসাজশে এ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার গ্রাহকের তিনশ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এর পর ২০১৩-১৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দিয়ে কৌশলে আত্মগোপনে চলে যান ভয়ঙ্কর এই প্রতারক। এ সময় তার অনুসারীরা প্রচার করতে থাকে, চেয়ারম্যান মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন।

গ্রেপ্তার শামীম কবিরের বরাত দিয়ে সিআইডির বিশেষ এই পুলিশ সুপার জানান, আত্মসাতের অর্থ দিয়ে শামীম তার নিজ গ্রাম ও সিলেটের জৈন্তাপুর থানা এলাকায় প্রাসাদসম বাড়ি এবং চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, গাজীপুরের কালিগঞ্জ, কক্সবাজারের উখিয়া, চট্টগ্রামের সীতাকু-সহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে প্লট-ফ্ল্যাটসহ প্রায় ৪০ একর জমি কিনেছেন। ২০১৫ সালে দুদক তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে ১৩টি মামলা রুজু করে, যা বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে। এ চক্রের অন্য সদস্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান মোল্যা নজরুল।

 

advertisement