advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

না দেখলে বিশ্বাসই করতাম না

শবনম বুবলী (চিত্রনায়িকা)
২১ জুলাই ২০১৯ ১৩:৪২ | আপডেট: ২১ জুলাই ২০১৯ ১৩:৪২
advertisement

প্রথম ইউরোপ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা মোটেও ভালো ছিল না। ভিন্ন একটি পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে কষ্ট হয়েছিল। ‘রংবাজ’ ছবির সুবাদে প্রথম ইউরোপে যাওয়া হয়। ছবির ‘ঘুম আমার’ গানের শুটিং করতে আমরা সুইজারল্যান্ড ও ইতালি যাই। দুই দেশের একটি বর্ডারে প্রথম শুটিং করি। দারুণ একটি জায়গা, একেবারে ছবির মতো।

জায়গাটি হচ্ছে, বরফের একটি পাহাড়। প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার ফুট উঁচুতে। রোজার মধ্যে আমরা ওখানে শুটিং করেছি। একে তো রোজা, তার উপর প্রচণ্ড ঠাণ্ডা আবার উঁচু হওয়ার কারণে অক্সিজেনেরও সমস্যা হচ্ছিল। সব মিলিয়ে ওই সফরটা আমাদের জন্য কষ্টকর ছিল। সেখানে শুটিং শেষ করে আমরা যাই ইতালির মিলানে। সেখানে বাকি অংশের শুটিং করা হয়। ইতালিতে শুটিং করতে খুব একটা সমস্যা হয়নি। শুটিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে ঘুরে বেড়ানো হয়েছে।

ইউরোপের দেশগুলো সুন্দর, লোকমুখে শুনেছি। কিন্তু দেখা হয়নি। যখন দেখলাম, মনে হলো শুধু সুন্দর না খুবই সুন্দর। প্রতিটি রাস্তাঘাট, বাড়িঘর সবই পরিকল্পিত। এক কথায় বললে বলবো, স্বপ্নের মতো। যদিও প্রথম সফরটি বেশি দিনের ছিল না, তারপর যে ক’দিন ছিলাম দারুণ কিছু সময় কাটিয়েছি।

কিছুদিন আগে পরিবার নিয়ে ঘুরতে গিয়েছিলাম লন্ডনে। ঈদের দু’দিন পর। জীবনের শ্রেষ্ঠ কিছু সময় কাটিয়েছি এই সফরে। কোনো কাজ নেই, শুধুই ঘুরে বেড়ানো। সাতদিনের এই সফরে লন্ডনের অনেক ঐতিহাসিক স্থান দেখেছি। গোটা লন্ডনটা একঝলক দেখেছি, লন্ডন আই-এ গিয়ে। টাওয়ার অব লন্ডনে গিয়ে দেখেছি পৃথিবীর বহুল আলোচিত কোহিনূর হীরা। অসাধারণ, নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাসই করতাম না, এটি কত সুন্দর। এছাড়াও অনেক দর্শনীয় স্থানে ঘুরে বেড়িয়েছি।

আমার কাছে দিনের লন্ডন থেকে রাতের লন্ডন অনেক বেশি সুন্দর লেগেছে। রাতে শহরের বর্ণিল সাজ আর চোখ ধাঁধাঁনো আলো দেখে মুগ্ধ হয়েছি। অনেক রাত পর্যন্ত পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছি। মজার সব খাবার পরখ করেছি।

আমি আবার একটু ভোজনরসিক। যদিও তা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করি। কিন্তু মাঝে-মধ্যে ইচ্ছে করেই হাল ছেড়ে দেই। লন্ডনে থাকা সময়গুলোতে খাবারের প্রতি কোনো নিয়ন্ত্রণ রাখিনি। সুইজারল্যান্ড-ইতালির সফরের বেলাতেও তাই করেছি। সুইজারল্যান্ডে প্রচণ্ড ঠাণ্ডার মধ্যেও সেখানকার জনপ্রিয় আইসক্রিম খেয়েছি। দারুণ মজার আইসক্রিম, সময় পেলেই একটার পর একটা খাওয়া শুরু করতাম। তাছাড়া ইতালির পিৎজার স্বাদ এখনও মুখে লেগে আছে। সত্যি, ইউরোপ সফরগুলো অসাধারণ ছিল।

advertisement