advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অপতৎপরতা শুরু বেস্টিনেটের

নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ জুলাই ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২২ জুলাই ২০১৯ ১৫:১৯
advertisement

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার যেন সিন্ডিকেটমুক্ত হতে পারছে না। এ সিন্ডিকেটের দুর্নীতির কারণে মাহাথির মোহাম্মদের নতুন সরকার গত বছর বেস্টিনেট মালিকানাধীন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সিনারফ্ল্যাস্ক পরিচালিত এসপিপিএ (Sistern Permohonan Pekerja Asing) সিস্টেমকে কালো তালিকাভুক্ত করে বন্ধ করে দেয়।

জানা গেছে, এর আগে বাংলাদেশ, নেপালসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শ্রমিকদের জিম্মি করে অভিবাসনে বেশি পরিমাণ অর্থ আদায়ের ছক করা হয়। এর অংশ হিসেবে কলিং ভিসার আবেদন প্রক্রিয়ায় ৩টি ওয়েব বেজড অনলাইন অপারেটিং সিস্টেমের নকশা করে বেস্টিনেট, যেন ধাপে ধাপে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া যায়।

এর জের হিসেবে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানো বন্ধ হয়ে যায়। পরে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের একান্ত চেষ্টায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্তের সব প্রক্রিয়া যখন সম্পন্ন, ঠিক তখনই নতুন আবরণে তৎপর হয়ে উঠেছে সেই পুরনো হোতা আমিন-স্বপন সিন্ডিকেট। আমিন-স্বপন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্মী পাঠাতে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা) থেকে বেস্টিনেট (বাংলাদেশ) লিমিটেড নামে অনুমোদন নিয়েছে, যেখানে কোম্পানি চেয়ারম্যান হিসেবে আমিনুল ইসলাম বিন আবদুল নূর (দাতো শ্রী আমিন) ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে মো. রুহুল আমিন স্বপনের নাম রয়েছে। আমিনুলের নামে ১০ হাজার ও রুহুল আমিনের নামে ২ হাজার শেয়ার রয়েছে। আশঙ্কার বিষয়, FWCMS-কে ব্যবহার করে বাংলাদেশের জনশক্তি বাজার মুষ্টিবদ্ধ করার অপতৎপরতায় লিপ্ত আমিন-স্বপন সিন্ডিকেট।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চক্রটি তাদের ঘরানার ১৬টি মেডিক্যাল সেন্টারের তালিকা করে। এখানে কালো টাকার লেনদেনে বিএনপি-জামায়াতের অর্থ জোগানদাতা রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামে সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। এ ১৬টির মাঝে ৩টির মালিকানায় সরাসরি রুহুল আমিন জড়িত। এগুলো হলো ক্যাথারসিস মেডিক্যাল, মীম মেডিক্যাল, রাজধানী মেডিক্যাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক এবং ওয়েলকাম মেডিক্যাল ও পারফেক্ট মেডিক্যাল সেন্টারের মালিক জামায়াতপন্থি মো. ফখরুল ইসলাম। বাকি ১১টি মেডিক্যাল সেন্টারের স্বত্বাধিকারীদের কাছ থেকে নিবন্ধনের নামে হাতিয়ে নেওয়া হয় কয়েক কোটি টাকা। বিতর্কিত এসব কিছুই হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারের কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই।

গেল বছর নেপাল সরকার বেস্টিনেটের বিরুদ্ধে ১৮৫ মিলিয়ন রিঙ্গিত দুর্নীতির অভিযোগ এনে দেশটিতে এর সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এ বেস্টিনেট কোম্পানির FWCMS-জালে মালয়েশিয়ায় নেপাল ও বাংলাদেশের শ্রমিক রপ্তানিতে মেডিক্যাল ও সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্সের আড়ালে লুটে নেয় হাজার কোটি টাকা। FWCMS-এর মাধ্যমে কলিং ভিসার আবেদন করার প্রক্রিয়ার তদন্তে উঠে আসে বিস্ময়কর সব তথ্য। কর্মীর মেডিক্যাল ও আইএসসি বাবদ ৩০৫ রিঙ্গিত নিয়োগকর্তা সিনারফ্লাক্স অ্যাকাউন্টে জমা করলেও তথ্য গোপন করে আবার বায়োমেডিক্যাল ও আইএসসি ফিঙ্গার প্রিন্টের নামে জোরপূর্বক হাতিয়ে নিত আরও অতিরিক্ত অর্থ। বিগত দেড় বছরে ১০ লাখ মালয়েশিয়ায় অভিবাসনপ্রত্যাশীর কাছ থেকে শুধু এ খাতেই হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ।

এই ‘বেস্টিনেট’ দাতো শ্রী আমিন এবং রুহুল আমিন স্বপনের যৌথ মালিকানাধীন একটি আইটি প্রতিষ্ঠান, যা মূলত বিভিন্ন ধরনের মনোপলি ব্যবসার ডিজিটাল দুর্নীতির নকশার বাস্তব রূপ দেয়। বেস্টিনেটের এ ডিজিটাল দুর্নীতির সর্বশেষ শিকার নেপাল ও বাংলাদেশ। ওয়েব বেজড অপারেটিং সিস্টেম FWCMS-এর জালে নির্দিষ্ট কিছু রিক্রুটিং এজেন্টকে নামমাত্র উপস্থাপন করে সিস্টেম ফি নামে মোটা অঙ্কের অর্থ বাগিয়ে নেয়, যার ফলে অভিবাসন ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায়। সাধারণভাবে মনোপলি এ সিস্টেমের সব দায়িত্ব ও দোষ রিক্রুটিং এজেন্টের কাঁধে চাপলেও সিংহভাগ অর্থ চলে যায় বেস্টিনেটের পকেটে এবং এ ডিজিটাল ফাঁদে পা দেওয়া বাংলাদেশের ১০ এজেন্সির ক্ষেত্রেও এটিই ঘটেছে। নেপাল ও মালদ্বীপ সরকার একটু দেরিতে হলেও বুঝতে পেরে দ্রুত বেস্টিনেটকে কালো তালিকাভুক্ত করে দেয়।

মালয়েশিয়ার গণমাধ্যম দ্য স্টারের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় অভিবাসন বাবদ দাতো শ্রী আমিন-স্বপন সিন্ডিকেট হাতিয়ে নেওয়া অর্থের তথ্য। তারা এক সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজ্জাকের মদদপুষ্ট হলেও বর্তমানে মাহাথির সরকারের নৈকট্য পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে বাংলাদেশের অন্যতম এ শ্রমবাজার সিন্ডিকেটমুক্ত করতে জিটুজি প্লাসের সিস্টেম বাতিল করে মাহাথির সরকার। ব্যাপক দুর্নীতি আর অনিয়মে অভিযোগে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে মালয়েশিয়ান কোম্পানি বেস্টিনেট ও সিনারফ্লাক্সের সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। দাতো শ্রী আমিন এ দুটি কোম্পানির মালিক। FWCMS, MIGRAMS ও BIOMEDICAL-এর নামে ডিজিটাল দুর্নীতির কারণে ৩ দেশে (নেপাল, মালদ্বীপ ও মালয়েশিয়া) কালো তালিকাভুক্ত হয় বেস্টিনেট। এবার একই পদ্ধতি কাজে লাগাতে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে দাতো শ্রী আমিন-স্বপন চক্র।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব রৌনক জাহান গত শনিবার সরকারি ছুটি হওয়া সত্ত্বেও সরকারি কাজে ঢাকার বাইরে অবস্থান করছিলেন। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রসঙ্গে আমাদের সময়কে তিনি জানান, সরকারের একান্ত চেষ্টায় আবার এ শ্রমবাজারে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে।

সিন্ডিকেট সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি বলেন, কোনোভাবেই এ ধরনের সিন্ডিকেট গঠনের সুযোগ দেওয়া হবে না। দুদেশের সরকারের মধ্যে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারকের বাইরে বাংলাদেশের কোনো এজেন্সি কাজ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রীসহ সরকার সব কিছুতেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। যারা সরকারের সদিচ্ছাকে পাশ কাটিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নে অপচেষ্টা চালাবে, তাদের দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় আনা হবে। এ ক্ষেত্রে আমরা আপসহীন; জিরো টলারেন্স আমাদের নীতি।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আনিসুল ইসলাম মাহমুদ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্তের বিষয়টিকে সরকারের কূটনৈতিক সফলতা উল্লেখ করে বলেন, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে স্পষ্টই বলছেন, এবার মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে স্বচ্ছতার মাধ্যমে কর্মী পাঠানো হবে। তার সঙ্গে আমরাও একমত। বিগত দিনের ইতিহাস টেনে তিনি বলেন, আমাদের অতীতের অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। সিন্ডিকেট হলে অভিবাসন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যায়। আমরা এটা হতে দিতে পারি না। তাই সিন্ডিকেট গঠনের চেষ্টা করা হলে সরকার কঠোরভাবে দমন করবে।

অভিবাসন বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ সরকারের লক্ষ্য অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে কর্মী প্রেরণে অধিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ খোদ নিয়োগকারী দেশ মালয়েশিয়ার, সেই দুর্নীতিগ্রস্ত বেস্টিনেট ও FWCMS-এর মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর অর্থই হবে বাংলাদেশ সরকারের সদিচ্ছাকে গলা টিপে হত্যা করা।

জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনের কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা চাইছেন বেস্টিনেটের মাধ্যমেই কর্মী যাক। এ নিয়ে তাদের লিখিত সুপারিশও রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে হাইকমিশনকর্তারা এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

কে এই দাতো শ্রী আমিন

’৯০-এর দশকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে মালয়েশিয়া পালিয়ে যাওয়া দরিদ্র পরিবারের যুবক আমিনুল ইসলামের পড়াশোনা বেশিদূর না এগোলেও ধূর্ততায় ছিলেন অগ্রণী। অল্প সময়েই গলাকাটা পাসপোর্টে বাংলাদেশিদের অবৈধভাবে মালয়েশিয়া প্রবেশের একচ্ছত্র হোতা হয়ে ওঠেন আমিনুল ইসলাম। মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন অপরাধে একাধিকবার জেলও খাটেন। একটি কোম্পানির ৫শ জনের চোরাই পাসপোর্ট জালিয়াতি করে রাতারাতি বনে যান ব্যবসায়ী।

২০০৭-০৮-এ হাজার হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে ভুয়া ভিসায় নিয়ে গিয়ে রাস্তায় ছেড়ে দেন, যেখানে ২শ নারীকর্মীও ছিলেন। অমানবিক জীবনযাপন করে জেল খেটে শূন্য হাতে দেশে ফেরে বহু কর্মী। ফলস্বরূপ মালয়েশিয়া সরকার বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া। কিন্তু বন্ধ হওয়ার আগেই আমিনুল ইসলাম হাতিয়ে নেন শত শত কোটি টাকা। আর এ মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যবহার করেই পেয়ে যান মালয়েশিয়ার নাগরিকত্ব ও দাতো শ্রী উপাধি! না, এখানেই থেমে যাননি তিনি।

তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকে টার্গেট করে অভিবাসনের নামে অর্থ শোষণ ও পাচারের মাস্টারমাইন্ড দাতো শ্রী আমিন গং গঠন করেন আইটি প্রতিষ্ঠান ‘বেস্টিনেট’, যার ৮০% মালিকানা ধরে রাখেন নিজের আয়ত্তে আর ২০% দিয়ে দেন তার সহযোগী রুহুল আমিন স্বপনকে।

২০১৭-১৮ সালে বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে পাচার হওয়া প্রাপ্ত অর্থ সরকারের চোখ ফাঁকি দিতে তড়িঘড়ি করে গত এপ্রিলের ১২ তারিখে DWL Resources Berhad নামের একটি হোল্ডিং কোম্পানিতে সর্বোচ্চ ২৮% শেয়ার কিনে কোম্পানির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর পদ নিয়ে নেন দাতো শ্রী আমিন। বিনিয়োগের এ বিপুল অঙ্কের অর্থের পুরোটাই মালয়েশিয়া পাচার হয় রুহুল আমিন স্বপনের মাধ্যমে।

কে এই রুহুল আমিন স্বপন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রত্যন্ত জুলাইপারা গ্রামের মো. আবদুুল করিমের পুত্র রুহুল আমিন স্বপন। বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতায় এলাকায় থাকতে না পেরে ৮০-এর দশকে ঢাকায় পাড়ি জমান তিনি। ’৯০-এর প্রথম দিকে শুরু করেন আদম ব্যবসা। তৎকালীন বিএনপি সরকারের কিছু নেতার ছাত্রছায়ায় অল্প সময়েই দালাল থেকে বনে যান ব্যবসায়ী। গড়ে তোলেন ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল নামে রিক্রুটিং এজেন্সি। সৌদি ও কাতারে নিম্নমানের ও ভুয়া কোম্পানিতে লোক পাঠিয়ে সামাল দিতে না পেরে কয়েক দফা অফিস বদল করে ক্যাথারসিস।

১৯৯৬-২০০১ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যবসায় সুবিধা করতে না পারলেও পরবর্তী সময়ে ক্ষমতার পটপরিবর্তনে পরিস্থিতি অনুকূলে পেয়ে যান। ২০০৫-এর শেষদিকে দাতো শ্রী আমিনের সঙ্গে ভুয়া ভিসার জমজমাট ব্যবসায় পার্টনার হন তিনি। ২০০৭-০৮-এ দাতো শ্রী আমিনের যোগসাজশে বেনামি কোম্পানির ভুয়া চাহিদাপত্র দিয়ে হাজার হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর এয়ারপোর্টের বাইরে রেখে পালিয়ে যায় আমিন-স্বপন দালাল চক্র। এরূপ প্রতারণায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় মালয়েশিয়া সরকার বন্ধ করে দেয় সম্ভাবনাময় এ শ্রমবাজার। পরবর্তী সময়ে অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে দাতো শ্রী আমিনের আইটি প্রতিষ্ঠান বেস্টিনেটের ২০% মালিকানা কিনে নেন তিনি।

২০১৬-১৭তে আবার শেখ হাসিনা সরকারের দূরদর্শিতায় ও কূটনৈতিক তৎপরতায় এ শ্রমবাজার চালু হওয়ার প্রাক্কালে দাতো শ্রী আমিন নেপথ্যে থেকে রুহুল আমিনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় সফল করে সিন্ডিকেট ব্যবসা। অভিযোগ আছে, ধূর্ত আমিন-স্বপন চক্র মালয়েশিয়ার তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী জায়িদ হামিদিকে বিপুল অর্থ দিয়ে বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপিয়ে দেন ১০ সিন্ডিকেটের তালিকা। স্পর্শকাতর ও আলোচিত এ বিষয়টি এখন মাহাথির সরকারের তদন্তনাধীন। এই রুহুল আমিন স্বপনের সহযোগিতায় অভিবাসন ব্যয়ের অর্থ পাচার হতো মালয়েশিয়ায়। গত দেড় বছরে ২ লাখ ৭৫ হাজার কর্মীর অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় বাবদ বিপুল অঙ্কের অর্থ রুহুল আমিন স্বপনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মালয়েশিয়ায় পাচার হয়।

গেল বছর একটি হ্যান্ড গ্লাভস কোম্পানির চাহিদাপত্র ছাড়াই সম্পূর্ণ বিনা অনুমতিতে ৬৮ কর্মীকে ভুয়া বিএমটি কার্ড ইস্যু করে তুলে দেয় বিমানে। কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে ২ দিন না খেয়ে না ঘুমিয়ে অমানুষিক কষ্টের পর দেশে ফেরে হতভাগ্য ৬৮ কর্মী। এ ঘটনায় দুই দেশেই বেশ আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এভাবে বহু অভিবাসনপ্রত্যাশীকে বিভিন্নভাবে ভিন্ন ভিন্ন চুক্তিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে বিমানবন্দর পাড়ি দেওয়ার অভিযোগ আছে ক্যাথারসিজ ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে।

দাতো শ্রী আমিনের স্নেহধন্য রুহুল আমিন স্বপন শুধু ২০১৭-১৮তেই গড়ে তোলে অঢেল সম্পদ। ঢাকার গুলশান-বনানী-বারিধারা-বসুন্ধরা ও পূর্বাচলে রয়েছে একাধিক অট্টালিকা ও জমি। আছে রিয়েল এস্টেট কোম্পানি। কিনে নিয়েছেন কানাডার নাগরিকত্ব ও একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি। মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম, বিদেশে বিপুল সম্পদ ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগ রয়েছে তার। সরকারের চোখ এড়িয়ে দিচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি।

মালয়েশিয়ার বেশকিছু আইটি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তাদের মতে, একটি বিতর্কিত আইটি কোম্পানিকে এত বড় একটি স্পর্শকাতর সেক্টরের দায়িত্বে দীর্ঘদিন রাখা খুবই বিস্ময়কর ও বিব্রতকর। বিগত দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ফায়দা লুটেছে বেস্টিনেট। এতে কর্মী সংগ্রহের ১৫টি সোর্স কান্ট্রিতেই দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সরকার শিগগিরই একটি নীতিপরায়ণ, আর্থিকভাবে সচ্ছল ও তথ্যপ্রযুক্তিতে আধুনিক প্রতিষ্ঠানকে এ সেক্টরের দায়িত্ব দেবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মালয়েশিয়ায় অনেক খ্যাতনামা ও বড় বড় আইটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা খুবই অল্প সময়ে ও কম খরচে একটি অভিবাসন অপারেটিং সিস্টেম চালু করতে সক্ষম। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছ নির্বাচন ও সরকারের সদিচ্ছা।

advertisement