advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ৭ এমডিসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ জুলাই ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২২ জুলাই ২০১৯ ০০:৩১
advertisement

২৪৩ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার টাকার কয়লা চুরির মামলায় দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক ৭ ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. শামছুল আলম গতকাল রবিবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় দিনাজপুরে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

২০১৮ সালের ২০ জুলাই দৈনিক আমাদের সময়ে ‘কোথায় গেল এত কয়লা’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে তোলপাড় সৃষ্টি হয় দেশজুড়ে। গঠিত হয় তদন্ত কমিটি। তদন্তে মাঠে নামে দুর্নীতি দমন কমিশনও। দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ পেয়ে মামলা করে দুদক। এর পর কয়লা খনিসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে ব্যাপক অনুসন্ধান করে চার্জশিটের উদ্যোগ নেয় সংস্থাটি।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জানান, চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক ৭ এমডি (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) হলেনÑ মো. মাহবুবুর রহমান, মো. আব্দুল আজিজ খান, প্রকৌশলী খুরশীদুল হাসান, প্রকৌশলী কামরুজ্জামান, মো. আমিনুজ্জামান, প্রকৌশলী এস এম নুরুল আওরঙ্গজেব ও প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহাম্মদ।

এ ছাড়া সাবেক মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. শরিফুল আলম, মো. আবুল কাসেম প্রধানীয়া, আবু তাহের মো. নুর-উজ-জামান চৌধুরী, ব্যবস্থাপক মাসুদুর রহমান হাওলাদার, মো. আরিফুর রহমান ও সৈয়দ ইমান হাসান, উপ-ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ খলিলুর রহমান,

মো. মোর্শেদুজ্জামান, মো. হাবিবুর রহমান, মো. জাহেদুর রহমান সহকারী ব্যবস্থাপক সত্যেন্দ্র নাথ বর্মণ, মো. মনিরুজ্জামান, কোল হ্যান্ডলিং ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপক মো. শোয়েবুর রহমান, উপ-মহাব্যবস্থাপক একেএম খালেদুল ইসলাম, ব্যবস্থাপক অশোক কুমার হালদার ও উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. জোবায়ের আলীকে চার্জশিটে আসামি দেখানো হয়।

মামলার এজাহারে ১৪ জন আসামি ছিলেন। তদন্ত শেষে আরও ৯ জনের নাম যুক্ত হয়। তবে চার্জশিটে এজাহারনামীয় ৫ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। চার্জশিটে যাদের অব্যাহতি দেওয়া হয় তারা হলেনÑ বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (অ্যাক্সপ্লোরেশন) মো. মোশারফ হোসেন সরকার, ব্যবস্থাপক (ডিজাইন, কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড মেনটেনেন্স) জাহিদুল ইসলাম, উপ-ব্যবস্থাপক (সেইফটি ম্যানেজমেন্ট) মো. একরামুল হক, সাবেক মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) মো. আব্দুল মান্নান পাটওয়ারী ও মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) গোপাল চন্দ্র সাহা।

প্রসঙ্গত ২০০৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭২৭ দশমিক ৯২ মেট্রিক টন কয়লা চুরি হয় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে। যার আনুমানিক মূল্য ২৪৩ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার ৫০১ টাকা ৮৪ পয়সা। এ ঘটনায় বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আনিছুর রহমান বাদী হয়ে ১৯ জনের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৪ জুলাই পার্বতীপুর থানায় মামলা করেন। মামলাটি দুদকের তফসিলভুক্ত হওয়ায় পরে দুদকের কাছে মামলার নথি হস্তান্তর করে পুলিশ।

কয়লা চুরির ঘটনা অনুসন্ধান করতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছিল দুদক। উপ-পরিচালক শামছুল আলমের নেতৃত্বে কমিটিতে আরও ছিলেন সহকারী পরিচালক এ এস এম সাজ্জাদ হোসেন ও উপ-সহকারী পরিচালক এ এস এম তাজুল ইসলাম। অনুসন্ধান কাজের তদারকি করেন দুদক পরিচালক কাজী সফিকুল আলম।

advertisement