advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণে জাপা হতে পারে বড় প্ল্যাটফরম

মুহম্মদ আকবর
২২ জুলাই ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২২ জুলাই ২০১৯ ০৮:৫৯
advertisement

জাতীয় পার্টির সদ্য দায়িত্ব নেওয়া চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের বলেছেন, জাতীয় পার্টিকে নেতাকেন্দ্রিক দল হিসেবে দেখতে চাই না। যদিও বাংলাদেশে এখন এটাই ট্রেন্ড হয়ে গেছে। প্রায় সব দলই নেতাকেন্দ্রিক। আমি চাই আমাদের দল হবে সমর্থককেন্দ্রিক। নেতা সবার মতের ভিত্তিতেই দল পরিচালনা করবেন।

গতকাল রবিবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আমাদের সময়ের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেন।

জিএম কাদের বলেন, বর্তমানে জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক কাঠামো সারাদেশে ছড়িয়ে আছে। পার্টির একটা সমর্থকগোষ্ঠীও আছে। তিনটি বৃহৎ দলের মধ্যে জাতীয় পার্টি একটি। এখন যেহেতু দেশে একটা রাজনৈতিক শূন্যতা আছে। বিশেষ করে যারা সরকারবিরোধী রাজনীতি করছেন, সরকারবিরোধী প্ল্যাটফরমে আছেন, তাদের কর্মকাণ্ড খুব একটা কার্যকর নয়। তারা হয়তো বলছেন, তাদের রাজনীতি করতে দেওয়া হচ্ছে না, আবার সরকারপক্ষ থেকে বলা হচ্ছে-সরকারের বাইরে যারা আছেন তাদের রাজনীতি করার মতো সেই শক্তি নেই। যা-ই হোক, বাস্তব কথা হচ্ছে-দেশের জনগণ সঠিক রাজনীতির কোনো প্ল্যাটফরম দেখছে না। সরকারের দলের যে রাজনীতি তাতেও বোধহয় মানুষ যেভাবে তাদের চাচ্ছে, সেভাবে পাচ্ছে না। প্রশাসন, সরকার-সবমিলিয়ে তাদের সঙ্গে যারা আছেন, তারাও বোধহয় সন্তুষ্ট নন। এ অবস্থায় আমরা যদি জনগণের কথা তুলে ধরতে পারি, তা হলে জাতীয় পার্টি রাজনৈতিকভাবে অনেক শক্তিশালী একটা প্ল্যাটফরম হিসেবে আবির্ভূত হবে।

জিএম কাদের বলেন, দলের চেয়ারম্যান, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর আমরা কতগুলো ঘটনা দেখলাম। দেখলাম দেশব্যাপী তাকে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ। এতে একটা বিষয় মনে হয়েছে, আমাদের দলের নেতা-ভক্ত-স্বজন আছে। আমরা যখন এরশাদের জানাজা পড়লাম, পার্টি অফিসের সামনে শ্রদ্ধা নিবেদন করলাম, কুলখানি করলাম; তখন দেখেছি সারাদেশ থেকেই কিছু কিছু মানুষ এসব আয়োজনে শরিক হয়েছে। দুই-তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে প্রিয় মানুষটির মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এতে বোঝা যায়, সারাদেশে আমাদের সম্ভাবনা আছে। হয়তো রংপুর বা উত্তরবঙ্গে আনুপাতিক হারে বেশি, অন্য জায়গায় আমাদের ভক্ত, স্বজন ও অনুসারীর সংখ্যা কম।

প্রাসঙ্গিকভাবে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিষয়ে জাপার বর্তমান চেয়ারম্যান বলেন, এরশাদ মানে জাতীয় পার্টি; জাতীয় পার্টি মানে এরশাদ। তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, জনগণের প্রতি তার যে কমিটমেন্ট তা থেকে শিক্ষা নিয়েই আমরা রাজনীতি করে যাব। অতীতেও জাতীয় পার্টি কয়েক দফা ভেঙেছে। আবার ভাঙনের সুর উঠেছে ... কথা শেষ হওয়ার আগেই তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি এককভাবে যে ভেঙেছে, তা কিন্তু নয়। বাংলাদেশের প্রধান বড় বড় দল থেকে শুরু করে ছোটখাটো দলও কিন্তু ভেঙেছে। বঙ্গবন্ধুর তিরোধানের পর আওয়ামী লীগও ভেঙেছে। অনেক বড় নেতা অন্য দলে গিয়ে রাজনীতি করা শুরু করেন।

সুতরাং ভাঙন যে একটা রাজনৈতিক দলকে দুর্বল করে, দলকে ধ্বংস করে, তা কিন্তু সত্য নয়। আমাদের দলও ভেঙেছে, তা সত্য। তাতে আমাদের দল যে দুর্বল হয়েছে, তা কিন্তু নয়। সমমনা মানুষরা একসঙ্গে থাকলে যে সুবিধা হয়, ভেতরে দ্বন্দ্ব থাকলে হয়তো সে সুবিধা হয় না। দলে এ মুহূর্তে ভাঙনের কোনো লক্ষণ আমি দেখছি না। নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় মতবিরোধকে খারাপভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এটা স্বাভাবিক একটা বিষয়। এতে অস্বাভাবিক কিছু যদি আসে, তবে তা দুঃখজনক। এখন পর্যন্ত আমাদের দলে সেরকম কিছু আসেনি। এ-ও সত্য, কেউ যদি দলের বাইরে গিয়ে অন্য একটি দলও তৈরি করে, তাতে দলের খুব একটা ক্ষতি হয় না। আমাদের দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস তা-ই বলে।

দল পরিচালনার ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টির পরিকল্পনার বিষয়ে জিএম কাদের বলেন, আমরা যেটা চাচ্ছি তা হলো সংগঠনের যে ইউনিট যেভাবে আছে, তাকে আরও শক্তিশালী করা; সচল করা। নিয়মেরভেতরে, শৃঙ্খলার ভেতরে, চেইন অব কমান্ডের ভেতরে সবাইকে এনে সংগঠনকে তৈরি করা। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সবার কথা শুনে সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব। এটা আমরা সংসদেও করব, সংসদের বাইরেও করব। সব জায়গায় করলে আমাদের প্রতি মানুষের আগ্রহ আরও বাড়তে থাকবে। এর ধারাবাহিকতায় আগামী নির্বাচনের আগে জাতীয় পার্টি একটি বড় দল হিসেবে জনগণের সামনে গিয়ে দাঁড়াবে।

দলের অন্য নেতারা জাপার নতুন সিদ্ধান্তের বিষয়ে (চেয়ারম্যান পদের বিষয়ে) একমত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার মতে, পৃথিবীর কোথাও একটা বিষয়ের প্রতি একমত হয় না। শতভাগ মানুষ আমার সঙ্গে থাকবে, সর্বসম্মতক্রমে সবকিছু হবে-এমনটা বোধহয় আশা করা ঠিক নয়। তবে অধিকাংশ বা মেজরিটি থাকলে ধরে নেওয়া হয় সবাই একসঙ্গে আছে।

রওশন এরশাদের বিষয়ে তিনি বলেন, ওনার মত যে আমার বিরুদ্ধে-এমন সিম্পটম এখন পর্যন্ত দেখিনি। আমাকে মেনে নিচ্ছেন না-এমন কথা আমি কোথাও কোথাও শুনছি; কিন্তু ওনার কাজকর্মে এটা আমি লক্ষ করিনি। আমি এখনো মনে করি, তিনি আমাকে খুব স্নেহ করেন। যেহেতু আমার বড় ভাইকে আমরা বাবার মতো দেখতাম, ওনাকেও (রওশনকে) মায়ের মতো দেখে আসছি ছোটবেলা থেকে। উনিও আমাদের সে স্নেহ দিয়েছেন। দেশের অনেক নেতার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দল হারিয়ে গেছে। যেমন-মওলানা ভাসানী, শেরেবাংলা একে ফজলুল হকের দল।

জাপার ক্ষেত্রে কি তা হবে- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি তো ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা নই। তবে, স্বাভাবিক হিসাবে আমার যেটা মনে হয়, আমি আগে বলেছি-জাতীয় পার্টির একটা অস্তিত্ব সব জায়গায় বিরাজমান। এখন দেশে একটা রাজনৈতিক শূন্যতা আছে। কাজেই জাতীয় পার্টি ইচ্ছে করলেই সে শূন্যতা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। সঠিক নেতৃত্ব দিতে পারলে জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ ভালো; বিলীন হওয়ার আশঙ্কা খুবই কম।

advertisement