advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঋণ আদা ও হলুদচাষিদের নামে গেছে ব্যাংকারের পকেটে

চট্টগ্রাম ব্যুরো
২২ জুলাই ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২২ জুলাই ২০১৯ ০০:৩১
advertisement

বান্দরবানে ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ অর্থবছরে আদা ও হলুদচাষিদের নামে সরকার থেকে ২৯ লাখ টাকা ঋণ আসে। সেই টাকা কৃষককে না দিয়ে অগ্রণী ব্যাংক বান্দরবান বাজার শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক নিবারণ চন্দ্র তঞ্চঙ্গ্যা (৫৯) ও আরও চারজন মিলে আত্মসাৎ করেন। কৃষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমেই ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় নিবারণকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গতকাল রবিবার সকালে নগরীর জিইসি মোড়ের বাসা থেকে নিবারণ চন্দ্র তঞ্চঙ্গ্যাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের বরইছড়ি এলাকার মৃত সুরেন্দ্র লাল তঞ্চঙ্গ্যার ছেলে। তার বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদক সমম্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম ২-এর উপসহকারী পরিচালক ও অভিযোগের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর সাদেক শিবলী। দুদক সূত্র জানায়, আদা ও হলুদচাষিদের কাছে ঋণ বিতরণের নামে অগ্রণী ব্যাংকের বান্দরবান বাজার শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক নিবারণ চন্দ্র তঞ্চঙ্গ্যাসহ চারজন মিলে ২৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। ওই টাকার মধ্যে চাষিদের মাঝে মাত্র এক লাখ ২০ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করে বাকি ২৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন তারা, যা সুদে আসলে ৫০ লাখ ২২ হাজার ৫০৫ টাকা আসে। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর দুদক অনুসন্ধান করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পায়। দুদকের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়। সেই মামলায় নিবারণ চন্দ্র তঞ্চঙ্গ্যাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অর্ধকোটি টাকা অত্মসাতের ক্ষেত্রে নিবারণ ছাড়াও বান্দরবান জেলার চেমি ডলুপাড়ার দালাল ক্যচিঅং মার্মা (৪৫), অগ্রণী ব্যাংকের বান্দরবান বাজার শাখার সাবেক মাঠকর্মী জ্ঞান চাকমা (৫০), ব্যাংকের

সাবেক মাঠকর্মী জ্যোতিষ কুমার খীসা (৪৯), বর্তমান ব্যাংকের মাঠকর্মী হীরেন্দ্র লাল চাকমা (৪৭) পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা, জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া রেকর্ডপত্র দেখিয়ে কৃষকের টাকা আত্মসাৎ করেন।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ৩০ কৃষকের নামে এই ঋণ ছাড় করেন ব্যাংক কর্মকর্তা। তার মধ্যে দুদক ২৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাঁচজন কৃষক এক লাখ ২০ হাজার টাকা পান বলে বক্তব্য দেন। ৩০টি ঋণের মধ্যে মাঠকর্মা জ্যোতিষ কুমার খীসা ১১টি, জ্ঞান চাকমা ২২টি এবং বাকি ৮টি হীরেন্দ্র লাল চাকমা অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেন। এর মধ্যে ৩০টি ঋণেন বিপরীতে স্থানীয় দালাল ক্যচিঅং মার্মা কৃষক থেকে ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে নিজেই আবেদন ফরম পূরণ, স্বাক্ষর প্রদানসহ যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করেন। শুধু নিয়ম রক্ষার্থে মাঠকর্মীদের স্বাক্ষর নেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপক নিবারুণ।

দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম ২-এর উপপরিচালক মাহবুবুল আলম আমাদের সময়কে বলেন, টাকার আত্মসাতের ঘটনাটি ঘটে ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ অর্থবছরে। তখন অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক নিবারুণ চন্দ্র তঞ্চঙ্গ্যাসহ ব্যাংকের আরও তিন কর্মী ও স্থানীয় দালাল মিলে ঋণের টাকা আত্মসাৎ করেন। যাদের ঋণ দেওয়ার কথা, তারা আশায় ছিলেন ঋণ পাবেন। পরে তারা শুনতে পান তাদের নামে কোনো ঋণ বরাদ্দ নেই। বিষয়টি জানাজানি হলে, দুদক ঋণের বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে। তদন্তে টাকা আত্মসাতের বিষয়টি উঠে আসে। সুদে-আসলে ওই টাকা এখন ৫০ লাখ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা অনেক দিন ধরে নিবারণকে নজরে রেখেছিলাম। অভিযোগের তদন্ত শেষে তাকে নগরীর জিইসি মেড়ের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ অভিযোগে আরও চারজনের মধ্যে মাঠকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তারা বলেছে, তাদের শুধুই স্বাক্ষর নিয়েছে। যা কিছুই করেছে, স্থানীয় দালাল ক্যচিঅং মার্মার যোগসাজশে। আমরা তাদের কথার সত্যতা যাচাই করছি। তাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।

advertisement