advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সরকার কী করে তাই দেখবেন হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ জুলাই ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২২ জুলাই ২০১৯ ০০:৩১
advertisement

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আবাসিক প্রকল্পে নয়টি ভবন নির্মাণে যে লুটপাট হয়েছে, সে ব্যাপারে সরকার কী পদক্ষেপ নেয় তা দেখতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। সে অপেক্ষায় থাকার কথা জানিয়ে আদালত সুপ্রিমকোর্টের আসন্ন অবকাশের এক সপ্তাহ পর এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন। গতকাল রবিবার বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর বেঞ্চ এ কথা জানান। এর আগে চারটি ভবনের আসবাবপত্র ও ইলেকট্রিক সরঞ্জাম সরবরাহের কাজে সাড়ে ৩৬ কোটি টাকা লুটপাট এবং এ ঘটনায় পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলমসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ সংবলিত পৃথক দুটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে করা পৃথক দুটি তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চারটি ভবনের আসবাবপত্র ও ইলেকট্রিক সরঞ্জাম সরবরাহ কাজের চুক্তি মূল্য ১১৩ কোটি ৬২ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। অথচ মালামাল সরবরাহ করা হয়েছে

৭৭ কোটি ২২ লাখ ৮৫ হাজার টাকার। অর্থাৎ চুক্তি মূল্য সরবরাহকৃত মালামালের প্রকৃত মূল্যের চেয়ে ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ৯ হাজার টাকা বেশি। তাই বাড়তি পরিশোধিত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আলাচিত বালিশকা-ের নায়ক পাবনা গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলমসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এতে আরও বলা হয়েছে, তদন্ত কমিটি গণপূর্ত অধিদপ্তরের শিডিউলে বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করে আসবাবপত্রের আইটেমের দর নির্ধারণ করে। কিন্তু দাপ্তরিক প্রাক্কলনগুলো প্রস্তুত, সুপারিশ, নিরীক্ষা এবং অনুমোদনকারী কর্মকর্তারা তাদের বক্তব্যে দর নির্ধাণের ক্ষেত্রে গণপূর্ত শিডিউলের বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণের কথা বললেও কিছু ফ্যাক্টরস দেখা যায়। যেমনÑ শ্রম, পরিবহন, সনড্রি এবং উঠানো বাবদ তারা অতিরিক্ত ও অস্বাভাবিক মূল্য ধরেছেন। আসবাবপত্র পরিবহন এবং বিভিন্ন তলায় উঠানো ও সেটিং গণপূর্ত অধিদপ্তরের রেট শিডিউল ২০১৮-এর অন্তর্ভুক্ত থাকলেও তারা তা অনুসরণ করেননি। ফলে গণপূর্ত পাবনা বিভাগের প্রণীত প্রাক্কলিত মূল্যের ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। আলোচ্য নয়টি ভবনের আসবাবপত্র ও হোম অ্যাপ্লায়েন্সসহ আনুষঙ্গিক কাজের জন্য অনুমোদিত প্রাক্কলিত মূল্য ২৩১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। অপরদিকে কমিটির প্রণীত এ কাজের প্রাক্কলিত মূল্য ১৬৯ কোটি ২৭ লাখ, যা অনুমোদিত প্রাক্কলিত মূল্য অপেক্ষা ৬২ কোটি ২০ লাখ টাকা বেশি।

গতকাল রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করিম। এ ছাড়া রিটের পক্ষে ব্যারিস্টার সুমন শুনানি করেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিবেদনে ওই প্রকল্পে লুটপাটের কথা স্বীকার করা হয়েছে। ৫০ জনের মতো কর্মকর্তাকে দায়ী করে লুটপাট করা টাকা ফিরিয়ে আনারও সুপারিশ করা হয়েছে। এখন জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে কিনা, সেটা গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ব্যাপারে। তবে অর্থ আত্মসাতের কারণে জড়িতদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি তদন্ত প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট। এখন পরবর্তী পদক্ষেপ দেখতে চাই।’ এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতকে বলেন, ‘প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কী করা হবে না হবে, সেটা সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়। সরকার কী করে দেখেন। এ জন্য ২ থেকে আড়াই মাস মামলার শুনানি মুলতবি রাখেন।’

উভয়পক্ষের শুনানির পর হাইকোর্ট ‘সরকার কী পদক্ষেপ নেয় তা দেখবেন’ উল্লেখ করে অবকাশের এক সপ্তাহ পর আবারও বিষয়টি শুনানির দিন ধার্য করেন। সুপ্রিমকোর্টের এই অবকাশ ১ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে চলবে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত। সে অনুযায়ী আগামী ২৪ আগস্টের পরে এ ব্যাপারে আবারও শুনানি হবে।

advertisement