advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সিগারেটের বাট উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে বাধা

আমাদের সময় ডেস্ক
২২ জুলাই ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২২ জুলাই ২০১৯ ০০:৩১
advertisement

ফেলে দেওয়া সিগারেটের বাট বা সিগারেটের গোড়া উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে বাধার সৃষ্টি করছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। যুক্তরাজ্যের অ্যাংগলিয়া রাস্কিন ইউনিভার্সিটি নেতৃত্বাধীন একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মাটিতে সিগারেটের গোড়ার উপস্থিতির কারণে বীজ থেকে অঙ্কুর হওয়ার সম্ভাবনা কমেছে শতকরা ২৭ থেকে ২৮ ভাগ। বিশেষ করে ঘাসের ক্ষেত্রে অঙ্কুরোদ্গমের সম্ভাবনা হ্রাস পেয়েছে ১০ শতাংশ এবং দৈর্ঘ্যরে পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে ১৩ শতাংশ। গবেষণায় বলা হচ্ছে, প্রতিবছর অন্তত ৪.৫ ট্রিলিয়ন সিগারেট বাট পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে, যা উদ্ভিদের

জন্য সবচেয়ে বড় আকারের প্লাস্টিকদূষণ সৃষ্টি করছে। কারণ বেশিরভাগ সিগারেটের গোড়া বা বাটে থাকে একটি সেলুলোজ অ্যাসিসেট ফাইবারের তৈরি ফিল্টার, যা এক ধরনের বায়োপ্লাস্টিক, একই সঙ্গে গবেষকরা দেখেছেন, অব্যবহৃত সিগারেটের ফিল্টারও একইভাবে পরিত্যক্ত ফিল্টারের মতোই উদ্ভিদের বৃদ্ধির ওপর প্রভাব ফেলে। তামাকের বিষক্রিয়া ঘটুক আর না ঘটুক, ফিল্টারটিই উদ্ভিদের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ইকোটক্সিকোলজি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সেফটি জার্নালে প্রকাশিত ওই গবেষণায় দেখা গেছে, গবেষকরা যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ শহরের আশপাশে নমুনা সংগ্রহ করে দেখেছেন, সেখানে প্রতিবর্গমিটারে অন্তত ১২৮টি সিগারেটের গোড়া পাওয়া গেছে। প্রধান গবেষক ড্যানিয়েল গ্রিন বলেন, যে সমাজে সিগারেটের অবশিষ্টাংশ যত্রতত্র ছুড়ে ফেলার সংস্কৃতি রয়েছে, সেসব স্থানে পরিবেশের গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। আমরা দেখেছি, সিগারেটের এই অবশিষ্টাংশ উদ্ভিদের অঙ্কুরোদ্গমের সফলতা এবং চারাগাছের কা-ের দৈর্ঘ্যরে ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে ঘাস এবং গুল্মের কা-ের ওজন অর্ধেক হ্রাস করে দেয়। আর এতে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় গবাদিপশুরাÑ যারা খাদ্য হিসেবে ওই ঘাস ও গুল্ম খেয়ে থাকে এবং শহুরে অঞ্চলের মাটিকে সবুজ করে। এসব উদ্ভিদ জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও কাজ করে, এমনকি শহরের উদ্যানগুলোয় এক জাতের উদ্ভিদ পরাগায়ন ও নাইট্রোজেন বিশ্লেষণ করে পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সহ-গবেষক ড. বাস বুটস বলেন, যদিও এটি নিশ্চিত হতে আরও গবেষণার দরকার, তার পরও আমরা মনে করি যে সিগারেটের ফিল্টারের রাসায়নিক গঠন উদ্ভিদের ক্ষতির কারণ। এগুলোর বেশিরভাগই তৈরি হয় সেলুলোজ অ্যাসিসেট ফাইবার দিয়ে। এর সঙ্গে আরও কিছু রাসায়নিক যোগ করা হয়, যা প্লাস্টিকটিকে আরও নমনীয় করে তোলে, যাকে বলা হয় প্লাস্টিসিজার। এগুলোই উদ্ভিদের বিকাশের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিকূলতা সৃষ্টি করে থাকে।

এদিকে বিশ্বের অনেক দেশের আইনেই যেখানে-সেখানে সিগারেটের অবশিষ্টাংশ ছুড়ে ফেলা ফৌজদারি অপরাধের মধ্যে পড়ে না, তবু ব্রিটেন টাইডি নামে একটি দাতব্য সংস্থা ধূমপায়ীদের এই কাজ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থার প্রধান নির্বাহী অ্যালিসন অগডেন-নিউটন বলেন, সিগারেটের উচ্ছিষ্টগুলো বিষাক্ত এবং এগুলোতে প্লাস্টিক রয়েছেÑ যা আমাদের জলজ ও সামুদ্রিক পরিবেশের উল্লেখযোগ্য ক্ষতির কারণ। আমাদের এই গ্রহকে দূষণের হাত থেকে বাঁচাতে ধূমপায়ীদের দায়িত্ব নিতে হবে। খবর বিবিসির।

advertisement